শুধু কাটমানি খাওয়াই নয়, দুর্ব্যবহারও, অপসারিত সোনারপুর-রাজপুরের ভাইস চেয়ারম্যান


শুধু কাটমানি খাওয়াই নয়, দুর্ব্যবহারও, অপসারিত সোনারপুর-রাজপুরের ভাইস চেয়ারম্যান

ক্রমশ সংক্রামিত হচ্ছে কাটমানি ব্যধি। দিন কয়েক আগেই নজরুল মঞ্চে রাজ্যের সমস্ত পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “যাঁরা কাটমানি নিয়েছেন ফেরত দিন। কোনও চোরকে আমি দলে রাখব না।” তারপর থেকে বিক্ষোভ তো চলছেই, এর মধ্যেই কাটমানি নেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগে অপসারণ করা হল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুর-রাজপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা সরকারকে। শনিবার পুরবোর্ডের বৈঠকে তাঁকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তা। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশের বক্তব্য, “শান্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। এত দিন কিছু করা হচ্ছিল না। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সংকেত দিতেই ব্যবস্থা নিল দল।” কী অভিযোগ শান্তার বিরুদ্ধে? স্থানীয় লোকজন এবং তৃণমূলের একটা বড় অংশের বক্তব্য, সমস্ত সরকারি প্রকল্প থেকে কাটমানি নিতেন ভাইস চেয়ারম্যান। এক তৃণমূল নেতার কথায়, “দলের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায় আর কন্ট্রাক্টরদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গলায় গলায়।”


একই সঙ্গে শাসক নেতাদের একাংশের অভিযোগ, দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুকুর-ছাগলের মতো ব্যবহার করতেন শান্তা। কয়েক মাস আগে পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাসকে থাপ্পড়ও মেরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।

ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে শান্তার অপসারণের পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি প্রতিক্রিয়া জানালে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

বীরভূম থেকে মালদহ—সর্বত্র কাটমানি ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের উপর। কলকাতা শহরে এক ব্যবসায়ী ৪০ লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে। এর মধ্যেই অপসারিত হলেন সোনারপুর-রাজপুরের উপ পুরপ্রধান। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ যে কোথায় গিয়ে থামবে তা কেউই হলফ করে বলতে পারবেন না।

সুত্র : দ্য ওয়াল

আপনার মন্তব্য

Recommended For You