‘পিটিয়ে হত্যার সংস্কৃতি পশ্চিমাদের উদ্ভাবন’

Spread the love

‘মানুষকে পিটিয়ে হত্যার সংস্কৃতি পশ্চিমাদের উদ্ভাবন। দেশের বদনাম করতেই এই টার্মটি ব্যবহার করা হয়।’ এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগত। ভারতের হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের কর্মীরা প্রায়ই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু মুসলিমদের গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের দুসশেরা এলাকায় আরএসএসের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করায় তিনি এ প্রশংসা করেন। তবে আরএসএসের এই প্রধানের অভিযোগ, ভারত শক্তিশালী এবং প্রাণবন্ত হোক স্বার্থান্বেষী মহল তা চায় না।

‘সামাজিক কিছু অসহিষ্ণুতাকে পিটিয়ে হত্যা হিসেবে প্রচার করে তারা আমাদের দেশের, হিন্দু সমাজের সুনাম নষ্ট করতে চায়। শুধু তাই নয়, স্বার্থান্বেষী মহল আমাদের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করতে চায়। পিটিয়ে হত্যাকে ভারতের ব্র্যান্ড হিসেবে জুড়ে দিচ্ছে তারা। কিন্তু আসলেই এটির উৎপত্তি পশ্চিমা বিশ্বে।’

মোহন ভগতের দাবি বলেন, ‘পিটিয়ে হত্যার এই সংস্কৃতি পশ্চিমাদের নির্মাণ। ভারতীয় নীতিশাস্ত্রের শব্দ নয় এটি। আলাদা ধর্মীয় প্রেক্ষাপট থেকে এই শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। এ ধরনের শব্দ ভারতীয়দের ওপর আরোপ করবেন না।’

সম্প্রতি ভারতজুড়ে ক্রমবর্ধমান পিটিয়ে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি লিখেছেন দেশটির ৪৯ জন লেখক। মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্যদের গণপিটুনি দিয়ে হত্যার এসব ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন তারা। গত সপ্তাহে ভারতের বিহার প্রদেশে এই ৪৯ লেখকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের পর এসব কথা বললেন আরএসএস প্রধান।

গত জুনে ঝাড়খণ্ডে তাবরিজ আনসারি নামের এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে কট্টরপন্থী হিন্দুরা। মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। তাবরিজ আনসারি হত্যাকাণ্ডের পর জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি লেখেন ওই লেখকরা।

চিঠিতি বলা হয়, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী… শিগগিরই মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমরা জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যানে রীতিমতো আতঙ্কিত। কারণ শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই দলিততের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৮৪০টি নৃশংস গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি গণপিটুনির তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলছে, ২০১৫ সালের পর থেকে ভারতে অন্তত ১১৫টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৪৪ জনের। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৯টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র : এনডিটিভি।

আপনার মন্তব্য

Spread the love