জন্মের মৌসুম থেকে জেনে নিন আপনার ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে!

Spread the love


জ্যোতিষীর দৃষ্টিতে তো জন্মদিন অনুযায়ী ব্যক্তিত্বের ধরণ-ধারন জেনে নেওয়ার ব্যাপারটা বেশ প্রচলিত। জন্মদিনের সাথে ব্যক্তিত্বের সংযোগ আছে, এ ব্যাপারটি যদিও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অসম্ভব, কিন্তু এমন একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি আছে যাতে জন্মদিবস ব্যবহার করে জেনে নিতে পারেন ব্যক্তিত্ব। অবশ্য এক্ষেত্রে জন্মদিবসের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো জন্মের ঋতু বা মৌসুম।

বুদাপেস্টের সেমেলওয়েইস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৩৬৬ জন হাঙ্গেরীয় শিক্ষার্থীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন, গ্রীষ্মে জন্ম নেওয়া মানুষের মেজাজ খুব ঘনঘন পরিবর্তনশীল। আবার শীতকালে জন্ম নেওয়া মানুষের ব্যক্তিত্ব সাধারণত রগচটা ধরণের হয় না। বসন্তে জন্ম নেওয়া মানুষেরা হয়ে থাকে খুব হাসিখুশি, হালকা মেজাজি। আর শরত-হেমন্তে জন্ম নেওয়া মানুষের মাঝে বিষণ্ণতা কম দেখা যায়।

“জৈবরাসায়নিক পরীক্ষায় দেখা যায়, কিছু মনোঅ্যামাইন নিউরোট্রান্সমিটারের ওপরে জন্মের ঋতুর প্রভাব আছে, যেমন ডোপামিন এবং সেরোটোনিন,” বলেন এই গবেষণার নেতৃত্বে থাকা জেনিয়া গোনডা। মানুষের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে প্রভাব রাখে এসব নিউরোট্রান্সমিটার। এ কারণে গবেষকেরা বিশ্বাস করেন, তাদের প্রভাবে বিভিন্ন ধরণের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে একেক মানুষের মাঝে। তবে এই গবেষণা যেহেতু মূলত জরিপের ওপরে ভিত্তি করে করা হয়, সুতরাং এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে আরও অনেক তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন।

“এর পেছনে ঠিক কী পদ্ধতি কাজ করছে এর ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারছি না,” বলেন গোনডা। তবে তিনি বলেন যে এর পেছনে কোনো জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের হাত আছে কিনা তা নিয়ে তারা গবেষণা করছেন। এছারাও বিভিন্ন ঋতুতে পাওয়া বিভিন্ন খাবার, মায়ের শারীরিক সক্রিয়তা, তাপমাত্রা, রোগজীবাণু- এসবের ওপরে ভিত্তি করেও পরিবর্তিত হতে পারে ব্যক্তিত্ব।

দেখুন জন্মের ঋতুর ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিত্ব কেমন হতে পারে

১) গ্রীষ্মকাল:
“সাইক্লোথাইমিক টেম্পেরামেন্ট” বেশি পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ হাসিখুশি এবং মনমরা এই দুই মেজাজের মাঝে সদা পরিবর্তনশীল অবস্থায় থাকতে পারেন তিনি। হয়তো খুব হাসিখুশি আর উষ্ণ একজন মানুষ হতে পারেন। আবার হতে পারেন বিষণ্ণ এবং মনমরা ধরনেরও। আবার এমনও হতে পারে যে এই খুব ভালো আছেন, পর মুহূর্তেই হয়ে গেলেন মনমরা।

২) বসন্ত থেকে গ্রীষ্মের শুরু:
এই দুই ঋতুর কোনো একটিতে জন্ম নেওয়া মানুষের মাঝে পরিলক্ষিত হয় “হাইপারথাইমিক টেম্পেরামেন্ট”। অর্থাৎ তারা হয়ে থাকেন খুব বেশি হাসিখুশি স্বভাবের।

৩) শীতকাল:
অন্যান্যদের তুলনায় এদের বদমেজাজি হবার সম্ভাবনা কম থাকে।

৪) শরত ও হেমন্ত:
অন্যদের তুলনায় এদের মাঝে বিষণ্ণ বা মনমরা থাকার সম্ভাবনা কম দেখা যায়।



Spread the love