plan cul gratuit - plan cul toulouse - voyance gratuite amour

২৬ বছর পর কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সরফরাজ!

Spread the love

২৬ বছর পর কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সরফরাজ!

রবিবার সাউথ আফ্রিকাকে পাকিস্তান হারানোর পর থেকেই এই গুঞ্জনটা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যে ভাবে ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অভিযানের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে তাদের এ বারের অভিযান, তাতে ২৬ বছর পর ইমরানের ভাগ্যই না পেয়ে যান সরফরাজ। বাকি সব সাদৃশ্য তো তা-ও ঠিক ছিল, কিন্তু এ দিন যেটা হল, তার ব্যাখ্যা কোথায় পাওয়া যাবে।

১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তান তাদের সপ্তম ম্যাচে হারিয়েছিল তখনও পর্যন্ত অপরাজিত নিউজিল্যান্ডকে। এ দিনও সেটাই হল, এবং ঘটল সেই সপ্তম ম্যাচেই। যার ফলে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেল।

নিজের দলকে নিজেই চেনেন না পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তাই টসের সময়ে অ্যাংকরকে সটান বলে ফেললেন, “এটা পাকিস্তান। কোন দিন কেমন খেলবে কেউ বলতে পারবে না।” এ দিনও সে রকমই হল। এমন ভাবে উইলিয়ামসনবাহিনী হারাল, যেন বড়ো বড়ো দলকে হেলায় হারিয়েছে তারা।

ঠিকঠাক খেলে গেলে এবং ভাগ্য প্রসন্ন থাকলে এখনও শেষ চারে যাওয়া সম্ভব। এই বার্তা পেয়েই পাক দল যে আরও চেগে গিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। ১৯৯২ বিশ্বকাপের ইতিহাসও তাদের সঙ্গে রয়েছে। সব মিলিয়ে এ দিন শুরু থেকেই যেন অন্য পাকিস্তান।

পাক বোলারদের সামনে পুরোপুরি নড়ে গেল এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটাও ম্যাচ না হারা কিউয়িরা। ওয়াহাব, আমির তো ছিলেনই কিন্তু সব থেকে বিষাক্ত ছিলেন উঠতি বাঁ হাতি পেসার শাহিনশাহ আফ্রিদি। এই তিন জনের দাপটে নিউজিল্যান্ড এক সময় খেয়াল করল, তাদের পাঁচ জন ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নের পথ দেখেছে। দলের স্কোর একশোর থেকে ১৭ কম আর ইনিংসের অর্ধেক অংশই পেরিয়ে গিয়েছে। সব থেকে বড়ো কথা ফিরে গিয়েছেন, তাঁদের সদা নির্ভরযোগ্য অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও। তা এই পরিস্থিতিতে অতি বড়ো কিউয়ি ভক্তও নিশ্চয় বুঝতে পারেননি পরের ২৪ ওভার ঠিক কী হতে চলেছে।

ওই ২৪ ওভারে, নিউজিল্যান্ডের রান উঠল ১৫৪, আর পড়ল মাত্র একটা উইকেট। এই সময়ে অসম্ভব প্রত্যাবর্তন করে দেখালেন মূলত বোলিং অলরাউন্ডার দু’জন জেমস নিশাম এবং কলিন ডে গ্র্যান্ডহোম।

নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার ভাগ্যটা খুবই ভালো। এক কালে এই দলে চুটিয়ে খেলেছেন বিশ্ববিখ্যাত তিন অলরাউন্ডার ক্রিস কের্নস, ক্রিস হ্যারিস এবং স্কট স্টাইরিস। তার পর এখন দায়িত্ব এসেছে নিশাম আর ডে গ্র্যান্ডহোমের হাতে। এ দিন শুরু থেকে অনেক বেশি আগ্রাসী ছিলেন ডে গ্র্যান্ডহোম। তুলনায় কিছুটা ম্লান ছিলেন নিশাম। কিন্তু শেষ দিকে হিসেবটা উলটো হয়ে গেল। নিশাম এমন আগ্রাসী ঢঙে ব্যাট শুরু করলেন, যে ডে গ্র্যান্ডহোমের রানকে পেরিয়ে গেলেন। শুধু একটাই আপশোশ থেকে যাবে তাঁর। মাত্র তিন রানের জন্য শতরানটা না পাওয়া।

রান তাড়া করতে নেমে যখন শুরুতেই দু’টো উইকেট খোয়ায় পাকিস্তান, তখন মনে হচ্ছিল, আবার একটা ব্যর্থ ম্যাচেরই সাক্ষী থাকতে হবে পাকভক্তদের। কিন্তু আজ পাকিস্তান সম্পূর্ণ অন্য রকম ছিল। তাই দু’টো উইকেট হারিয়েও কোনো ভাবেই দমে না গিয়ে আরও বেশি করে নিউজিল্যান্ডের ওপরে জাঁকিয়ে বসল তারা।

পাকিস্তানের রান তাড়াকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন বাবর আজম। তাঁর দুর্ধর্ষ রেকর্ডের জন্য বাবরকে পাকিস্তানের বিরাট কোহলি আখ্যা দেওয়া হয়। এই বিশ্বকাপে এত দিন পর্যন্ত বিশেষ কিছু করতে পারেননি তিনি। বলা ভালো, সেট হয়ে গিয়েও নিজের উইকেটটা বিপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন। কিন্তু এ দিন তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অন্য রকম। তাঁকে সহায়তার জন্য প্রথমে ছিলেন মহম্মদ হাফিজ এবং পরবর্তীকালে হ্যারিস সোহেল।

সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া সোহেলের ব্যাট আবারও জ্বলে উঠল। বাবর আর তাঁর মধ্যে দুর্দান্ত শতরানের জুটিই, পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করে দেয়। আর এই জয়কে স্মরণীয় করে রাখলেন বাবর তাঁর শতরানের মধ্যে দিয়ে।

না পাকিস্তান বিশ্বজয় করবে কি না, তা এখনই কোনো ভাবে বলা সম্ভব নয়, কিন্তু তারা যে ভাবে হঠাৎ করে খেলা শুরু করেছে, তাতে তাদের শেষ চারে যাওয়াটা আর অবাক করা ব্যাপার থাকবে না।

আপনার মন্তব্য

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।