বিচিত্রতা

জঙ্গি হামলায় মৃত শহীদের স্ত্রী কে বিয়ে করে নতুন জীবন দিলেন এই যুবক

জঙ্গি হামলায় মৃত শহীদের স্ত্রী কে বিয়ে করে নতুন জীবন দিলেন এই যুবক।

ঘটনাটি অনেক আগেকার এই মহিলার স্বামী তালিবানি সন্ত্রাসবাদীদের হাতে খুন হয়েছিল আসুন জেনে নিই এর আসল ঘটনাটা কি! বলা হয় যে কলিযুগে সবাই শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের দিকটাই লক্ষ্য রাখে। কিন্তু আজকের সময়ে পৃথিবীতে এমন কিছু লোক আছে যারা নিজের থেকে বেশি পরের কথাই ভাবে এবং অপরের খুশির কথা ভেবে থাকে। আজ আমরা আপনাকে এমন এক ঘটনা সম্পর্কে বলতে যাচ্ছি যা জানার পরে আপনিও আরেকবার মনুষ্যত্বর ওপর ভরসা করতে লাগবেন।

এই ঘটনাটি হল আফগানিস্তানের জালালাবাদের। ওই গ্রামের বাসিন্দা সালমান পুরে নয় বছর পর তার গ্রামে ফিরছিল। যখনই সালমান এই গ্রামে যাওয়ার জন্য বাস বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ায় তখনই সালমান বাস থেকে নেমে গ্রামে যাওয়ার জন্য চারিদিকে তাকাতে লাগলো কিন্তু সে গ্রামে যাওয়ার জন্য না কোন গাড়ি পেল না কোন ট্যাক্সি। এরপর সালমান তার মালপত্র কে কাঁধে নিয়ে গ্রামে যাওয়ার জন্য হাঁটা দিল। এত বছর পর গ্রামে ফেরার খুশি তার মুখে স্পষ্ট দেখা দিচ্ছিল, না তো তার এত লম্বা পথ হাঁটার কষ্ট হচ্ছিল আর না তো এই লম্বা পথে মালপত্র কাঁধে নিয়ে হাঁটার কোন কষ্ট ছিল। তার মনে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করার জন্য প্রবল ইচ্ছা ছিল যা তিনি এত বছরে করতে পারেননি। এছাড়াও ওই মেয়েটির কথা ভাবছিল যাকে সে এত বছর ধরে তার মনের কথা বলতে পারেনি।

মেয়েটির নাম ছিল আফসানা, না তো মেয়েটি কখনো সালমানের সাথে কথা বলে, না সালমান মেয়েটির সাথে কখনো কথা বলে। আদৌ মেয়েটির বিবাহ হয়ে গেছিল কিনা নাকি মেয়েটি এখনো যুবতী। মেয়েটির সুন্দর গোল চেহারাটি সালমানের চোখে ভাসছিল। সালমান আদৌ জানতো না এটি ভালোবাসা ছিল নাকি অন্য কিছু কিন্তু সালমান মেয়েটিকে পছন্দ করত। এই সব কথা ভাবতে ভাবতে সালমান কখন গ্রামের পৌঁছে যায় সেদিকে লক্ষ্যই থাকে না।

যখন সালমান গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করে তিনি দেখেন বট গাছের তলায় সাদা শাড়ি পড়ে এক মহিলা বসে আছে, সালমান যখন তার চেহারা টা দেখেন তখন সেই ছবির কথা মনে পড়ছিল যা সালমানের চোখে ভেসে উঠতো। এটি সেই মেয়েটি ছিল যাকে সালমান ভালোবাসতো।

মেয়েটিকে দেখামাত্র সালমানের মুখ থেকে বেরোল আফসানা তুমি….. সালমান কাছে গিয়ে বলল। আফসানা সালমানের দিকে তাকানো মাত্র চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। সালমান আপনার কাছে বসে বললো” আফসানা তুমি এই অবস্থায় এবং গ্রামের থেকে বাইরে কেন”। হঠাৎ করে পেছন থেকে একটি ডাক শোনা গেল সালমান পিছনে ঘুরে দেখল তার মা দৌড়ে দৌড়ে তার কাছে আসছে, সালমানের মা এসে তাকে জড়িয়ে ধরল। সালমানের মা বলল” তুই এই ডাইনি বমেয়েটির কাছে বসে আছিস তোর নজর দোষ কাটাতে হবে এই ডাইনির নজর তোর উপর হয়তো লেগে গেছে”

নিজের মার এই কথাটি শুনে সালমান হতবাক হয়ে গেল এবং বলল মা তুমি কী সব বলছো। সালমানের মা বলল হ্যাঁ এই মেয়েটি ডাইনি নিজের দু- দুটি স্বামী কে মেরে ফেলেছে এই কথাটি বলে সালমানের মা সালমান কে টানতে টানতে নিয়ে গেল। সালমান আফসানার দিকে তাকালো দেখলো তার চোখ দিয়ে শুধু অশ্রু ঝরছে বাড়ি গিয়ে সালমানের মা সালমানকে মসজিদ নিয়ে গেল এবং মৌলভী কে বলল মৌলভী জি এর নজর দোষ কেটে দিন হয়তো ওই ডাইনির নজর পড়ে গেছে। ওই ডাইনি মরেও না। নিজের মার এই কথাটি শুনে সালমানের ভালো লাগলো না এবং সালমান বলল তখন থেকে কি ডাইনি ডাইনি লাগিয়েছো মানুষ কখনো ডাইনি হয়না এবং আফসানা তো তোমার নিজের মেয়ের মতন তাহলে ও কি করে ডাইনি হতে পারে।

সালমানের মা বলল তুই জানিস না ও আসলে একটি শয়তান, ও আসলে একটি ডাইনি নিজের স্বামীকে মেরে ফেলেছে, যে ওর মুখ দেখে ফেলে তার সারাটা দিন খারাপ কাটে, আল্লাহ ওর নজর যেন তোর উপর না পড়ে। নিজের মার এই কথাগুলো শুনে সালমান রেগে যায় কারন সে একজন শিক্ষিত ছেলে, এবং এই ধরনের অন্ধ বিশ্বাসী কথাগুলো সে মানতো না। সে এই কথাগুলো বিশ্বাস করত না এবং মানতো যে এটা গ্রামবাসীদের অন্ধবিশ্বাস। আসলে আফসানার স্বামী একজন সৈনিক ছিল। তালিবানি সন্ত্রাসবাদীদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে সে তার প্রাণ হারিয়েছে। তারপর থেকেই আফসানা একা হয়ে গেছে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, সালমানের মন কেমন যেন হয়ে গেছে সালমান নাতো গ্রামবাসীদের মধ্যে থাকতে চাইতো না পরিবারের কাছে, সালমানের মনে বারবার আফসানার চোখভর্তি অশ্রুর কথা ভেসে উঠছিলো, গ্রামের বাইরে ওই বট গাছের তলায় সালমান যায়। আফসানা! সালমান আফসানা কাছে বসে বলল। সালমান আফসানার দিকে তাকিয়ে বলল”আফসানা তুমি এখানে কেন এসেছ”

আরও পড়ুন ::

Back to top button