স্বাস্থ্য

যে ৫টি লক্ষণ জানিয়ে দেয় আপনার অসুস্থতার কথা!

নিজেকে শারীরিক ভাবে অনেক সুস্থ ভাবছেন? ভাবছেন চলতে পারছি, ঠিকঠাকমতো কাজ করছি তার মানেই আমি সুস্থ রয়েছি। কিন্তু আসলেই কি তাই? খেয়াল করে দেখুন তো নিজের প্রতি অবহেলা করছেন না তো? কিছু শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো? অনেকেই আছেন যারা কিছু শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণকে সাধারণ ভেবে অবহেলা করে বাঁধিয়ে বসেন অনেক মরণ ব্যধি। এতে করে তিনি নিজে এবং তার পরিবার পড়েন নানা ভোগান্তিতে। কিছু লক্ষণ দেখে বুঝে নিতে পারেন আপনি শারীরিক ভাবে নিজেকে যতোটা সুস্থ ভাবছেন আপনি ঠিক ততোটা সুস্থ নন। এবং এই লক্ষণগুলো মোটেও অবহেলার নয়।

ঠোঁট ফাটা
অনেকেই ভাবেন ঠোঁট আবহাওয়ার কারণে ফেটে থাকে। হ্যাঁ, কিছু কিছু সময় আবহাওয়া জনিত কারণেই ঠোঁট ফাটে, কিন্তু যদি আপনার ঠোঁট ফাটা সারাবছরই থেকে থাকে। এবং আপনার ঠোঁটের দুপাশ ফেটে যায় তবে তা অবশ্যই লক্ষণীয় বিষয়। এতে প্রমাণিত হয় আপনি ভিটামিন বি১২ এর অভাবজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এই ভিটামিনের অভাব আপনার রক্তের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে থাকে। অ্যানিমিয়া অর্থাৎ রক্তস্বল্পতা রোগেও পরতে পারেন আপনি। তাই ভিটামিন বি১২ এর অভাবপূরণ করার চেষ্টা করুন।

নিজেকে খাটো দেখাচ্ছে
কথাটি খুব আজব মনে হলেও মাঝে মাঝে লক্ষ্য করবেন অন্যান্য সময়ের তুলনায় আপনাকে দেখতে খাটো লাগছে। অনেকে হয়তো ব্যাপারটি আপনাকে বলে থাকবেন, কিন্তু আপনি মজার কথা ভেবে হেসেই উড়িয়ে দিলেন। কিন্তু এটি হাসির কথা নয়। যদি বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছোটোখাটো হওয়ার একটি সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু যদি এই ব্যাপারটি আপনি খুব বেশি নজর করেন তবে বুঝতে পারবেন আপনি হাড়ের সংচকোচন ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে হাড় সংকুচিত হওয়া শুরু করে। এতে করে হাড়ের ভঙ্গুরতাও বৃদ্ধি পেয়ে যায়। তাই কেউ আপনাকে এই ধরনের কথা বললে হেসে উড়িয়ে দেবেন না।

সারাবছরই ঠাণ্ডা কাশি জ্বর লেগে থাকা
অনেকেই এই সারাবছরব্যাপী ঠাণ্ডা কাশির সমস্যায় ভুগে থাকেন। একটু বৃষ্টির ফোঁটা মাথায় পড়েছে কি ঠাণ্ডা শুরু, গরমে ঘেমে গেলেও ঠাণ্ডা লেগে যায় এতে বোঝা যায় আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। তাই আপনি খুব সহজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্ত হয়ে পড়েন। দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করতে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

হলুদ প্রস্রাব
প্রস্রাবের রঙ খড়ের মতো হলে তা স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু যখন হলুদ রঙের প্রসাব থাকে তখন অনেকেই ভেবে থাকেন জল কম খাওয়া হয়েছে বা খাওয়ার কোনো সমস্যা হয়েছে। কেউই বিষয়টা খতিয়ে দেখেন না। কিন্তু এই সমস্যাটি প্রমান করে আপনার কিডনি তার কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে। এবং আপনার খাবার সঠিকভাবে হজম হচ্ছে না। যদি এমনটা চলতে থাকে তবে কিডনির সুরক্ষায় অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

আপনার ঘুম স্বাভাবিক নয়
আপনার ঘুম কি খুবই কম হচ্ছে, অথবা আপনি কি বেশি ঘুমাচ্ছেন? তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনি যদি দিনে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও দুর্বলতা না কেটে যায় এবং বিকেল হতে না হতেই আপনি অনেক বেশি ক্লান্তি অনুভব করেন তবে বুঝে নেবেন আপনার দেহে কার্টিসোল বেশি উৎপন্ন হচ্ছে যা আপনার ঘুমের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে দিচ্ছে এবং আপনার দেহের ইমিউন সিস্টেম একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button