স্বাস্থ্য

দুশ্চিন্তা বা উদ্বিগ্নতা যেভাবে আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে তিল তিল মৃত্যুর দিকে!

মানুষ যেকোনো বিষয়েই চাপ অনুভব করতে পারে অথবা হয়ে পড়তে পারে উদ্বিগ্ন বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। বিশেষ করে জটিল পরিস্থিতি, যার মুখোমুখি আগে কখনো হতে হয়নি, এমন পরিস্থিতিতে পড়লে মানুষ চাপ অনুভব করতেই পারে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চাপ অনুভব করা বা উদ্বিগ্নতা নিয়মিত বিষয় পরিণত হয়। এই মানুষগুলো যেকোনো কিছুতেই চাপ অনুভব করেন, অনুভব করেন উদ্বিগ্নতা। কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, নিয়মিত উদ্বিগ্নতা বা চাপ অনুভব করা কতখানি ক্ষতিকর। সহজ কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বিষয়টা লঘু বিষের মতো দিন দিন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

যেকোনো ব্যাপারে চাপ অনুভব করা বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া মানুষরা মূলত দুই ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম ধাপে থাকা অবস্থায়ও কেউ যদি নিজেকে ফিরিয়ে আনতে না পারে, তাহলে শুরু হয় দ্বিতীয় ধাপ বা মৃত্যুধাপ। প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক, প্রথম ধাপে কী কী উপসর্গ বা ক্ষতি হয়ে থাকে দেহের:

১. যারা অতি সহজেই চাপ অনুভব করেন বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, তাদের প্রথম উপসর্গ হল গলা শুকিয়ে যাওয়া। মূলত মানুষ যখন চাপ অনুভব করে, তখন দেহে প্রচুর পানির প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রতিটি কোষ খুব দ্রুত কাজ করতে শুরু করে। ফলে দেহে পানি সংকট দেখা দেয়। এর ফলে সঞ্চিত পানি খরচ হয়ে যায় দ্রুত। পরবর্তীতে পানির অভাব পূরণ করতে গিয়ে দেহ লালাগ্রন্থি থেকে তরল আহরণ করে। এর কারণেই গলা শুকিয়ে যায়।

২. চাপে পড়লে মানুষের লিভার বেশি বেশি গ্লুকোজ তৈরি করতে শুরু করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা ডায়বেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. চাপ অনুভব করলে বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে দেহের সংকোচন-প্রসারনশীল পেশীগুলো দ্রুত কাজ করতে থাকে। লম্বা সময় জুড়ে এই ব্যবস্থা চলতে থাকলে আচমকা পেশীতে টান লাগা বা পেশীতে ব্যাথা হতে পারে। এছাড়া এই সংকোচন-প্রসারণের সময় গ্রন্থি থেকে রিলাক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা দেহকে অবসন্ন করে দেয়।

৪. দ্রুত রক্ত সঞ্চলন করতে গিয়ে হৃদযন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণ বেড়ে যায়। ফলে যাদের ধমণী এবং শিরায় চর্বি জমা পড়েছে- তারা হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকেন।

৫. দেহে অতিরিক্ত অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে প্লীহা বেশি বেশি শ্বেত কণিকা এবং লোহিত কণিকা উৎপাদন করতে শুরু করে। ফলে রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে বেড়ে যায়।

এ-তো গেল প্রথম ধাপ। এই ধাপেই যদি কেউ সাবধান না হয়, তাহলে তিনি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় পড়বেন, যা তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে। এবার জেনে নেওয়া যাক, দীর্ঘমেয়াদী ধাপগুলোতে কী কী সমস্যা হতে পারে:

১. যেসকল মানুষ উদ্বেগজনিত সমস্যা বা নিয়মিত যেকোনো বিষয়ে চাপ অনুভব করেন, তাদের অন্ত্রগুলো বেশি পরিমাণে এনজাইম নিঃসরণ করে। বিশেষ করে লিভার থেকেই বেশি এনজাইম নিঃসৃত হয়। সেই সাথে পাকস্থলী বিভিন্ন ধরণের এসিড নিঃসরণ করে যা পাকস্থলী ও অন্ত্রের গা ক্ষয় করে দেয়। ফলে এক পর্যায়ে আলসার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন এই আলসার পুষে রাখলে তা এক পর্যায়ে ক্যান্সারে রূপ নেয়।

২. যারা দুঃশ্চিন্তা করেন, বা যেকোনো কিছুতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, তাদের রক্ত পরিবহণের গতি অন্যান্যদের তূলনায় অনেক বেশি। ফলে রক্তচাপ বেশি থাকে এবং এর থেকে হৃদযন্ত্রের যেকোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমনকি হার্টঅ্যাটাক হওয়াও অসম্ভব কিছু না।

৩. দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তির নিয়মিত সমস্যা খাদ্য ঠিকভাবে পরিপাক না হওয়া। ফলে সারাবছরই তার পেটের পীড়া লেগেই থাকে।

৪. শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় ভোগেন এই ধরণের মানুষগুলো। হৃদযন্ত্র স্বভাবিকের তূলনায় দ্রুত কাজ করতে থাকে সবসময়। ফলে অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠেন এই মানুষগুলো।

৫. সর্বদা উদ্বিগ্ন থাকলে বা চাপ অনুভব করলে অথবা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকলে নার্ভাস সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপে। যা ফলশ্রুতিতে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

৬. এধরণের মানুষদের ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন এমন সমস্যায় ভোগার পর দেখা যায় তা তাদের মানসিক অবন্থার ওপর প্রভাব ফেলে। অল্পতেই রাগন্বিত হয়ে পড়া থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক বিভ্রাট বা পাগল হয়ে যাওয়া তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

৭. এধরণের মানুষদের স্মৃতিশক্তি দূর্বল হয়ে পড়ে। এবং তা দিন দিন কমতেই থাকে।

৮. এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ বিষাদের এতো তলে ডুবে যায় একসময়, যা তাকে আত্মহণনে প্রবৃত্ত করে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button