মানবিক পুলিশ: ফুটপাতবাসীদের বিরিয়ানি খাওয়ালেন পুলিশ সুপার

Advertisement

মালদহঃ করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউন। আর এই পরিস্থিতিতে খাওয়ার না পাওয়া অসহায় ও অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে জেলার ভবঘুরেরা। এমন ফোন আসছিল জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুলিশের কাছে। এরপরই শুক্রবার মালদহের ফুটপাতবাসীদের বিরিয়ানি খাওয়ালেন জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। পাশাপাশি এদিন শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিলি করলেন ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার।

শহরের বাজারগুলি শুক্রবার সঠিক সময় বসেছিল। শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবেই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মানুষকে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। যদিও জিনিসপত্রের দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে। কালোবাজারি চলছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন খুচরো সবজি বিক্রেতারা।অন্যদিকে ব্লিচিং স্প্রে করে জেলা প্রশাসনিক ভবন পরিস্কার করা হয়। জানা গিয়েছে, করোনা ভাইরাসের জুড়ি এদিন লকডাউন ছিল চতুর্থ দিন। আর এই লকডাউন এর জেরে জেলার বড় বড় শপিং মল ও রেস্তরা,হোটেল থেকে সমস্ত কিছুই রয়েছে বন্ধ। যার ফলে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো পশু থেকে ভবঘুরেরা কার্যত অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। ফলে তাদের জুটছে না খাবারের কিঞ্চিত্‍ অংশ।

দোকানপাট খোলা থাকলে মূলত চেয়ে চিনতেই তাদের দিন কেটে যায়। কিন্তু সম্প্রতি ঘটনার জেরে সবকিছুই বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার থানাগুলোর কাছে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসছিল এই ভবঘুরেদের জন্য খাবারের কিছু ব্যবস্থা করার। সেইমতো মালদহ ইংরেজবাজার থানার ও জেলা পুলিশের উদ্যোগে এদিন জেলার প্রায় ৭০জন ভবঘুরেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে খোঁজ করে তাদের হাতে খাবার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দিনের দুপুরের আহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বিরিয়ানির প্যাকেট।


তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যতদিন এই লকডাউন প্রক্রিয়া চলবে ততদিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই সমস্ত ভবঘুরেদের খাবার দিবে জেলা পুলিশ। পাশাপাশি শহরের নেতাজি পুরো বাজার, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেট, মকদমপুর বাজার সহ প্রতিটি বাজারে ক্রেতাদের দেখা যায় নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে বাজার করতে। এদিন দুপুরে মালদহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতবাসীদের হাতে বিরিয়ানি পাউরুটি দুদিনের শুকনো খাবার ও জল তুলে দেন জেলার পুলিশ সুপার অলক রাজরিয়া। সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক সরকার সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা।

পাশাপাশি ইংরেজবাজার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার এদিন শহরের ২০,২১ নম্বর ওয়ার্ড সহ বেশকিছু ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিলি করেন। করুণা নিয়ে সতর্কতার প্রচার করেন।ইংরেজবাজার পুরসভা থেকে চাল ডাল আলু বিলি করা হয়। দুলাল সরকার বলেন কোন মানুষ যদি অভুক্ত থাকে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত চালডাল রয়েছে আমাদের কাছে যোগাযোগ করলেই আমরা তার বাড়িতে তা পৌঁছে দেব। অন্যদিকে এদিন দুপুরে জেলা প্রশাসনিক ভবনে ব্লিচিং স্প্রে দিয়ে প্রশাসনিক ভবন পরিষ্কার করতে দেখা যায় দমকল কর্মীদের।

দমকলকর্মী বিশ্বজিত্‍ মন্ডল জানান, আমাদের কাছে নির্দেশ রয়েছে শহরের বিভিন্ন জায়গা সহ প্রশাসনিক ভবন গুলিতে ব্লিচিং স্প্রে করার।সেইমতো এদিন জেলা প্রশাসনিক ভবনে ব্লিচিং স্প্রে করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য জায়গাতেও স্প্রে করা হবে। শহরের এই পরিস্থিতি থাকলেও জেলার রতুয়া হরিশ্চন্দ্রপুর চাঁচল কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে বিভিন্ন জায়গায় জটলা করতে দেখা যায় মানুষজনকে। যাতে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

এই এলাকাগুলি থেকে অনেক শ্রমিক ভিন রাজ্য থেকে ফিরেছেন। গ্রামে গঞ্জে চাল-ডাল নিয়ে চলছে কালোবাজারি অভিযোগ উঠে এসেছে। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, এদিন জেলা পুলিশের উদ্যোগে ভবঘুরেদের বিরিয়ানি ও শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই এই কর্মসূচি চলবে শহর জুড়ে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ভাবেই জটলা না হয়। প্রয়োজন ছাড়া যাতে মানুষ বাড়ি থেকে না বেরোয় লাগাতার প্রচার চলছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

সুত্র: কলকাতা24×7


Recommended For You