টাটা, রিলায়েন্সের পর করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এল হিরো


টাটা, রিলায়েন্সের পর করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এল হিরো

নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সারা দেশে চলছে লকডাউন। যার জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ১৩০ কোটি মানুষের দেশ। মারণ এই ভাইরাসে দেশে আক্রান্ত ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার আক্রান্তের সংখ্যা বারোশো ছুঁই ছুঁই। মারা গিয়েছেন ২৯ জন। করোনা মোকাবিলায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সেলেব্রিটি থেকে দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলি। টাটা ও রিলায়েন্সের পর করোনা বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী রিলিফ ফান্ডে অর্থ সাহায্য হিরো গ্রুপের।

দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্র এবং কেরলে। একাধিক রাজ্যর তরফ থেকে এই ভাইরাস প্রতিরোধে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। সব রাজ্যর বেশ কিছু হাসপাতালে খোলা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালেও চলছে এই ওয়ার্ড শুরু করার পরিকল্পনা। চলছে সচেতনতা মূলক কর্মসূচী। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরসের প্রতিরোধে গড়ে তোলা হয়েছে রিলিফ ফান্ড।

শনিবার টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে ৫০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেছেন। রবিবার টাটা সন্সের পক্ষ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করা হয়। সোমবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তরফে ৫০০ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করা হয়। এর আগে বিসিসিআই ৫১ কোটি এবং সিনে দুনিয়ার অন্যতম নক্ষত্র অক্ষয় কুমার নিজের তরফ থেকে ২৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে।

এবার করোনা প্রতিরোধে এগিয়ে এল হিরো গ্রুপ। কোভিড-১৯ ভাইরাস প্রতিরোধে এই গ্রুপের তরফ থেকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়। যার মধ্যে অর্ধেক অর্থাত্‍ পঞ্চাশ কোটি দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে এছাড়া বাকি টাকা খরচ করা হবে অন্যান্য ক্ষেত্রে। হিরো গ্রুপের আওতাধীন হিরো মোটোকর্প, হিরো ফিনকর্প, হিরো ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার রকম্যান ইন্ডাস্ট্রি এবং হিরো ইলেকট্রনিকসের তরফ থেকে এই অনুদান কোভিড-১৯ ভাইরাস প্রতিরোধে দেওয়া হবে।


এছাড়া বিএমএল মুনাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে ২০০০ বেডের হোস্টেল আইসোলেশন এবং চিকিত্‍সা ক্ষেত্রে দেওয়া হবে। এছাড়া হিরো ফিউচার ইঞ্জিনিয়ারের তরফ থেকে ১৫০টি গ্রামের বাসিন্দাদের খাবার এবং হাইজিন কিটস দেওয়া হবে। যাতে তারা এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে পরিস্কার পরিচ্ছন হয়ে থাকতে পারেন। হিরো ফিনকর্পের তরফ থেকে ছোট ব্যবসায়ীদের সাহায্য করা হবে। এছাড়া যে সকল ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পরেছেন তাদের ও প্রয়োজন মত সাহায্য করা হবে।

হিরো মোটোকর্পের তরফ থেকে মাস্ক, স্যানিটাইজার, গ্লাভস সহ ১০০ টি ভেন্টিলেটর স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং হাসপাতালে দেওয়া হবে। এছাড়াও তাদের তরফ থেকে ৬০টির বেশী মোটর সাইকেল দেওয়া হবে। যাতে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সুবিধা হয়। এছাড়া ওই মোটর সাইকেলে মোবাইল অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধাও যোগ করা হবে। এছাড়া অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে যাতে দ্রুত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়।

এছাড়াও দিল্লি এনসিআর, রাজস্থান , হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্র প্রদেশ, এবং গুজরাটের দৈনিক কর্মী, শ্রমিক, এছাড়া গৃহহীন পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। এই ক্ষেত্রে মোট ১০ হাজার মিলের ব্যবস্থা করা হবে। আর এই সকল খাবার তৈরি করা হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এছাড়া খাবার পরিবেশন করা হবে সরকারি কর্মী এবং জেলা পুলিশি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে।

এছাড়া বিভিন্ন অস্থায়ী শিবিরে শিশু, বৃদ্ধ সহ অসুস্থদের জন্য খাবার পরিবেশন করা হবে। আর এগুলি পরিবেশন করা হবে স্থানীয় এনজিও কর্মীদের তত্বাবধানে। এছাড়া ২৫০০ রেশন সামগ্রী দিল্লি, মহারাষ্ট্র এবং কেরালের পরিবারকে দেওয়া হবে

সুত্র:কলকাতা24×7

আপনার মন্তব্য

Recommended For You