কলকাতা

ত্রাণের ৫০ হাজার টাকার চাল চুরির অভিযোগে তৃণমূল নেতাকে গণপ্রহার গ্রামবাসীদের !

ত্রাণের ৫০ হাজার টাকার চাল চুরির অভিযোগে তৃণমূল নেতাকে গণপ্রহার গ্রামবাসীদের !

ত্রাণ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত ২ নম্বর ব্লকের শাসন গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি অঞ্চল থেকে। পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রামবাসীরা দু’জন তৃণমূল নেতাকে গণধোলাই দেয়। মজলিশপুরের গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ব্লকের তরফ থেকে বিভিন্ন ইট ও টালি ভাটার মালিক, ভেড়ির মালিক ও কারখানার মালিকের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়।

তখন বলা হয়েছিল লকডাউনের সময় গ্রামের গরিব মানুষকে চাল-ডাল কিনে ত্রাণ দেওয়ার জন্য এই টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ব্লক স্তর থেকে সেই টাকা অঞ্চলে পাঠানো হলেও তা দিয়ে মানুষকে কিছু টাকার চাল ডাল বা অন্য কিছু কিনে দেওয়া হলেও তছরুপ করা হয়েছে দানের নামে সংগ্রহ করা অন্তত পঞ্চাশ হাজার টাকা। সেই ক্ষোভের প্রকাশ হয় শনিবার সকাল থেকে। ত্রাণের টাকা তছরুপের অভিযোগ স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতাকে এদিন গ্রামবাসীরা গণধোলাই দেয়।

দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয় বেশ কয়েকটি অঞ্চলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শাসন থানার পুলিশ। এরপর পুলিশকে ঘিরে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখায়। পরে অবশ্য আক্রান্ত স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশ দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে উত্তেজনা কমে। গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘এখানে ইটভাটার মালিকরা প্রত্যেকে সাত থেকে দশ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিল। সেই টাকা অঞ্চল কমিটির কাছে জমা হয়। সেই টাকা অঞ্চল কমিটি নিয়ে গ্রাম কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষকে দেন।

ওরা এই টাকা দিয়ে কেনা ৫০ হাজার টাকার চাল চুরি করে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছে। সেকথা জনগণ জানতে পারে। তারপরে দু’হাজার লোক তাদের ঘেরাও করে মারধর করে। তখন দু’গাড়ি পুলিশ এসে গ্রামবাসীদের দিকে তেড়ে যায়। কেনারাম মল্লিক নামে গ্রাম কমিটির সম্পাদককে আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেছে।

সভাপতি আব্দুল আজিজ হুগড়ে, সহ-সভাপতি ফকির আহমেদ মাস্টার, সম্পাদক কেনারাম মল্লিক ও কোষাধ্যক্ষ জুম্মান আলি বৈদ্যকেও পুলিশ উদ্ধার করে প্রত্যেকের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে।’ বারাসত ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শম্ভু ঘোষ বলেন, ‘গ্রামবাসীদের মুখে মজলিশপুর অঞ্চলের স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েক জন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পুলিশ প্রশাসনকে আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি।’

 

সুত্র: THE WALL

আরও পড়ুন ::

Back to top button