রাজ্য

রাজ্যে বন্ধ হতে পারে ওষুধের দোকান, আশঙ্কায় ওষুধ কেনা শুরু হাওড়ায়, সরবরাহ কম ইনস্যুলিন ও এন-৯৫ মাস্কেরও !

রাজ্যে বন্ধ হতে পারে ওষুধের দোকান, আশঙ্কায় ওষুধ কেনা শুরু হাওড়ায়, সরবরাহ কম ইনস্যুলিন ও এন-৯৫ মাস্কেরও !

 

লকডাউন ঘোষণার সময় যে ভাবে লোকজন বাড়িতে খাবার মজুত করা শুরু করেছিলেন এবার সেই ভাবে বাড়িতে ওষুধ মজুত করা শুরু করে দিয়েছেন অনেকে। তাতে সমস্যায় পড়েছে ওষুধের দোকানগুলি। এখন অবশ্য ওষুধের দোকানগুলিতে জরুরি ওষুধের তেমন সমস্যা নেই শুধুমাত্র ইনসুলিন ছাড়া। হাওড়ার এক ওষুধ ব্যবসায়ী রাজু রায় বলেন, ‘যখন লকডাউন শুরু হল তখনই লোকের মধ্যে ওষুধ কিনে রাখার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। এখন অনেক দিন হয়ে গেছে।

এবার ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় অনেকে ওষুধ কেনা শুরু করেছিলেন। পুলিশ থেকে অবশ্য আমাদের জানানো হয়েছে যে কাউকে যেন প্রয়োজনের বেশি ওষুধ যেন দেওয়া না হয়।’ তাতে অবশ্য সমস্যা মিটছে না। কারণ লোকে একটি দোকানে বেশি ওষুধ না পেলে অন্য দোকানে গিয়ে লাইন দিচ্ছেন। গোরাচাঁদ ঘোষ নামে হাওড়া পুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি আগেই ২০টি প্যারাসিটামল ও ২০টি ব্যথার ওষুধ কিনে রেখেছি। অ্যান্টাসিড আবার কিনতে হবে।

এখন শিবপুর থানা এলাকার সব ওষুধের দোকান বন্ধ করবে শুনছি। আমরা পাশের চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায় থাকি। কখন কী হয় বলা যায় না। তাই কিছুটা ওষুধ কিনেই রেখেছি। এখন দোকানগুলো প্যারাসিটামল বিক্রি করছে না। আমার তাতে কোনও সমস্যা নেই।’ রাজু রায় জানিয়েছেন যে অন্য ওষুধের সমস্যা না থাকলেও ইনস্যুলিন পেতে সমস্যা হচ্ছে। ব্লাড সুগার ও হাঁপানির মতো যাঁদের ক্রনিক সমস্যা রয়েছে তাঁরাও বেশ কিছু দিনের ওষুধ কিনে রেখেছেন।

বাড়তি চাহিদার জন্য অনেক সময়ই ওষুধ হাতে পেতে দেরি হয়েছে। শ্যামস ভট্টাচার্য নামে হাওড়া পুর এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার মা ও বাবার জন্য কয়েকটি ওষুধ নিয়মিত দরকার হয়। পাড়ার একটি ওষুধের দোকান থেকে মাসকাবারি ওষুধ নিই। লকডাউনের মধ্যে একবারে পুরো মাসের ওষুধ পাইনি। অনেকেই আগেভাগে বাড়তি ওষুধ কিনে নিয়েছিলেন বলেই সমস্যা হয়েছিল।

একবার তো ভাবছিলাম অনলাইনে অর্ডার দেব। এবার বলে রেখেছি ওষুধের দোকানে যাতে সময়মতো ওষুধ পেয়ে যাই।’ ছোট ওষুধ ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখন কলকাতা থেকে হাওড়ায় ওষুধ সরবরাহ করতে আসতে পারছেন না। এই অবস্থায় এন-৯৫ মাস্ক একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না শহরের বেশির ভাগ দোকানে। কিছুদিন আগেও অগ্রিম টাকা দিলে দোকানগুলি মাস্ক আনিয়ে দিচ্ছিল। এখন তাঁরা অগ্রিমও নিচ্ছেন না। করোনা রেড স্টার জোন হাওড়া শহরের স্পর্শকাতর চারটি থানা এলাকায় ওষুধের দোকানও বন্ধ করার চিন্তাভাবনা করছে পুলিশ যদিও এব্যাপারে এখনও কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।

এগুলি হল — মালিপাঁচঘরা, হাওড়া, গোলাবাড়ি ও শিবপুর থানা এলাকা। এই সব এলাকার অনেক ওষুধের দোকান এখন দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে বলে এলাকার লোকজন জানাচ্ছেন। এই এলাকাগুলিতে এখন ওষুধের হোম ডেলিভারি দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে পুলিশ। দোকানদারদের মৌখিক ভাবে বলা হয়েছে ওষুধের হোম ডেলিভারির অর্ডার নিতে। বিষয়টি তদারকি করার জন্য পুলিশের একটি টিম তৈরি করা হয়েছে। ওষুধ পাওয়ার ব্যাপারে পুলিশ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তবে এতে চিন্তায় পড়েছেন ওষুধের দোকানিরা। প্রথমত একাই একজনকে ছোট দোকান সামলাতে হয়। এর পরে কেউ একপাতা অ্যান্টাসিড চাইলে সেটাও না করতে পারবেন না। অথচ সেটি বেচে লাভ হবে বড়জোর দেড় থেকে দু’টাকা। খুচরো ওষুধের বিক্রিই যাঁদের মূল ভরসা তাঁরা কী ভাবে হোম ডেলিভারি করবেন তা নিয়ে চিন্তায়। পুলিশ সূত্রে অবশ্য বলা হয়েছে যে, ‘পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না বরং হোম ডেলিভারির উপরেই ভরসা করতে বলা হচ্ছে।’

 

সুত্র: THE WALL

আরও পড়ুন ::

Back to top button