বিনোদন

কলেজের প্রেমিকা থেকে ইরফানের স্ত্রী, কে এই সুতপা?

কলেজের প্রেমিকা থেকে ইরফানের স্ত্রী, কে এই সুতপা?

আচমকাই কঠিন রোগের কাছে হার মানলেন ইরফান খান। বুধবার মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন অভিনেতা। যদিও নিজের পদবী ব্যবহার পছন্দ ছিল না তাঁর। পরিবারে রেখে গেলেন স্ত্রী সুতপা শিকদার ও দুই ছেলে বাবিল আর অয়নকে।

সুতপা বাঙালি। কলেজে পড়ার সময় তাঁর সঙ্গে প্রেম শুরু ইরফানের। স্ত্রী সুতপাও দীর্ঘদিন ধরে বলিউডের সঙ্গে যুক্ত। দিল্লিতে জন্ম সুতপা বলিউডের একজন জনপ্রিয় সংলাপ লেখিকা। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় পড়াশোনার সময় আলাপ হয় দুজনের। সলমান খান ও মণীষা কৈরালার ‘খামোশি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন সুতপা। কলেজের প্রেমপর্বের পর ১৯৯৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন ইরফান ও সুতপা।

সুতপার জন্ম দিল্লিতে হলেও তাঁর আদি বাড়ি অসমে। ইরফানের অভিনয়ের দিকে ঝোঁক থাকলেও সুতপার পছন্দ ডায়লগ লেখাতেই। শোনা যায় সুতপাকে বিয়ে করতে হিন্দু হতেও রাজি ছিলেন ইরফান। তবে শেষপর্যন্ত আর ধর্ম বদল করতে হয়নি। দুই পরিবারই আপন করে নিয়েছিল তাঁদের।

একটি সাক্ষাৎকারে স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ইরফান বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে ভালো বিষয়টা হল আমি ওদের পালটাতে দেখতে পারছি। একজন টিনেজারকে। বড়টা যদিও এখন আর টিনেজার নেই। আমরা একটু কাঁদি, আর অনেকটা হাসি। আমরা একসঙ্গে একটা বড় শরীর।’ ইরফান সুতপাকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘সুতপাকে নিয়ে আর কী বলব? ও তো ২৪*৭ রয়েছে আমার সঙ্গে। আমি এখন ওঁর জন্যই বাঁচতে চাই। ওই আমার বাঁচার কারণ।’

গত বছর মার্চে নিজেই ট্যুইট করে ইরফান জানিয়েছিলেন, আগের চেয়ে ভালো আছেন। ফিরেছেন শ্যুটিং ফ্লোরেও। আপাতত খানিক স্বস্তিতে রয়েছে তাঁর পরিবার। কিছুটা চিন্তামুক্ত হয়েছিলেন তাঁর ভক্তরাও।

এক বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন বলি অভিনেতা ইরফান খান। লন্ডনে চিকিত্সা চলছিল তাঁর। ইরফানের এই লড়াইটা খুব সহজ ছিল না। তাঁর সঙ্গে লড়াইয়ে সামিল ছিলেন পরিবারও। সে প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছিলেন ইরফানের স্ত্রী সুতপা শিকদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই লড়াইয়ের দিনের জার্নি শেয়ার করেছিলেন তিনি। লিখেছিলেন, ‘গত বছরটা ছিল আমাদের জীবনের দীর্ঘতম বছর। যন্ত্রণা এবং আশা নিয়ে এক সঙ্গে সময় কাটে না। আমরা সবে জীবনে ফিরেছি। কাজে ফিরেছি। আর সারা পৃথিবী থেকে বন্ধুরা, আত্মীয়রা প্রার্থনা, শুভ কামনা জানিয়েছেন। শক্তি দিয়েছেন।… এটা অবিশ্বাস্য। এই প্রার্থনা আমাকে শক্তি দিয়েছে। এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁদের নামও জানি না, কিন্তু ঈশ্বরের মতো কাজ করেছেন। আলাদা করে সকলকে হয়তো উত্তর দিতে পারছি না। কিন্তু আপনারা আমাদের জীবনে যে কতটা, তা আমি জানি…।’

ইরফানের অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে আসার পর চিকিৎসকরাও জানিয়েছিলেন, নিউরোএন্ডোক্রিন টিউমার শরীরের যে কোনও জায়গায় হতে পারে। তবে মূলত অন্ত্র, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয় ও এন্ডোক্রিন গ্ল্যান্ডগুলোতে হয়। এন্ডোক্রিন গ্ল্যান্ড ও স্নায়ুতন্ত্র থেকে এই ধরনের টিউমার তৈরি হয়। টিউমারগুলো থেকে ‘সেরোটনিন’ নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়, যার ফলে রোগীর শরীরে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন, আচমকা রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক মাত্রায় বুক ধড়ফড়, হট-ফ্লাশ। শরীরের ঠিক কোন জায়গায় টিউমারটি হয়েছে, তার উপরেও নির্ভর করে উপসর্গ ঠিক কী হবে। যেমন, অন্ত্রে হলে ডায়েরিয়ার মতো রোগ হতে পারে। তবে ইরফানের ঠিক কোন ধরনের নিউরোএন্ডোক্রিন টিউমার হয়েছে তা জানা না থাকায়, এ নিয়ে বিশদ বলতে রাজি হননি চিকিৎসকেরা।

সুত্র : এই সময়

আরও পড়ুন ::

Back to top button