কলকাতা

যাত্রী মাত্র ২০ জন! তাই সরকার ঘোষণা করলেও গ্রিন জোনে রাস্তায় নেই বাস !

যাত্রী মাত্র ২০ জন! তাই সরকার ঘোষণা করলেও গ্রিন জোনে রাস্তায় নেই বাস !

 

আজ, সোমবার থেকে রাজ্যের ‘গ্রিন জোনে’ বাস চলার কথা থাকলেও সকাল থেকে রাজ্যে ‘গ্রিন জোন’ বলে চিহ্নিত আট জেলার কোথাও রাস্তায় বেসরকারি বাসের দেখা মেলেনি। দুয়েকটি সরকারি বাস নজরে এলেও তাতে যাত্রী ছি্ল না বললেই চলে। করোনা রুখতে লকডাউনের জেরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্তব্ধ সরকারি-বেসরকারি পরিবহণ। সম্প্রতি রাজ্য সরকার নির্দেশিকা জারি করেছিল আজ সোমবার থেকে রাজের ‘গ্রিন জোন’ বলে চিহ্নিত জেলাগুলিতে বাস চালানো হবে।

তবে জেলার মধ্যেই চলাচল করবে সেই বাস। এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাসে কুড়িজনের বেশি যাত্রী তুলতে পারবেন না কেউ। সরকারি এই নির্দেশিকা ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। মাত্র কুড়িজন যাত্রী নিয়ে রাস্তায় নামা একটি বেসরকারি বাসের খরচ কীভাবে তুলবেন তাঁরা, সেই প্রশ্ন তোলেন বাস মালিকরা। পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।

সোমবার থেকে বাস চলার কথা থাকলেও তাই গ্রিন জোনের কোথাও বেসরকারি বাসের দেখা মেলেনি। ঝাড়গ্রাম জেলার বাস মালিক সংগঠনের সম্পাদক দিলীপ পাল বলেন, ”আমি বাড়িতে বসেই প্রায় ৬০ জন বাস মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কেউ ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে ইচ্ছুক নন। কারণ ঝাড়গ্রাম হল জঙ্গলমহল এলাকা। এখানে সাধারণ দিনেই ভাল যাত্রী হয় না।

এখন বাস চললে ২০ জন যাত্রীও হবে না। একটা বাস পথে নামলে তেলের খরচ এবং কর্মচারীদের টাকা ২০ জন যাত্রীর থেকে তোলা কখনও সম্ভব নয়। এছাড়াও সংক্রমণের ভয়ও রয়েছে। ফলে আমরা ঝাড়গ্রাম জেলায় বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” প্রায় একই বক্তব্য ‘গ্রিন জোন’ হিসেবে চিহ্নিত বীরভূম ও বাঁকুড়া জেলার বাসমালিকদেরও। বীরভূমের বাস মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আব্দুল আজিম জানান, একেই লকডাউনের জেরে বিপুল ক্ষতির মুখে তাঁরা।

এই অবস্থায় সরকারের শর্ত মেনে তাঁরা বাস চালাতে পারবেন না। শুক্রবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরে প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় সেই কথা জানিয়েও দিয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ”তবে সরকার চাইলে ভোটের সময় যেভাবে বাস অধিগ্রহণ করে সেভাবে বাস নিয়ে বিভিন্ন রুটে চালাতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।” ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবহণ আধিকারিক মৃন্ময় মজুমদার, বোর্ড মেম্বার গগন সরকার এবং একাধিক বাস মালিক সংগঠনের সদস্যরা ।

বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের বাস মালিক মদন বিশ্বাস বলেন, ”প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকা খরচ, সেখানে কুড়ি জন যাত্রী নিয়ে বাস চালালে দেড় হাজার টাকা রোজগার হবে। রোজ সাড়ে তিন হাজার টাকা ভর্তুকি দিয়ে বাস চালানো কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।” বাঁকুড়া বাস মালিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক সুকুমার ব্যানার্জি জানান, রবিবার জেলার আরটিও থেকে তাঁদের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল।

কুড়িজন যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে গেলে তাঁদের যে সমস্যাগুলিতে পড়তে হবে তা নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তাঁরা। এই সমস্যাগুলি মিটলে তবেই তাঁরা বাস চালাতে রাজি। বাসের দেখা মেলেনি উত্তরবঙ্গে ‘গ্রিন জোন’ হিসেবে চিহ্নিত জেলাগুলিতেও। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের রাস্তাতেও নামেনি বাস।

বালুরঘাট বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক তরুণ পাল বলেন, ”কুড়ি জন করে যাত্রী নিয়ে বাস চালালে বাস মালিকদের লোকসানে পড়তে হবে।” তাই বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বালুরঘাটের সরকারি বাসস্ট্যান্ড থেকেও এ দিন কোনও বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি।

 

সুত্র: THE WALL

আরও পড়ুন ::

Back to top button