কলকাতা

সামাজিক দূরত্বের বিধি না মেনে বর্ধমানে প্রথম দু’দিনে বিক্রি হল প্রায় দেড় কোটি টাকার মদ !

সামাজিক দূরত্বের বিধি না মেনে বর্ধমানে প্রথম দু'দিনে বিক্রি হল প্রায় দেড় কোটি টাকার মদ !

 

লকডাউনের মধ্যে দোকান খোলার অনুমতি পাওয়ার প্রথম দু’দিনে পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিক্রি হল এক কোটি পঁয়তাল্লিশ লক্ষ টাকার মদ। আবগারি দফতর সূত্রে জানা গেছে মদের দোকান খোলার ছাড়পত্র পাওয়ার প্রথম দিনে জেলায় একশো একাত্তরটি দোকানে বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে মোট পাঁচ হাজার সাতশো সাঁইত্রিশ লিটার যার দাম প্রায় পঁয়তাল্লিশ লক্ষ টাকা।

দ্বিতীয় দিনে এক কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে যার মধ্যে দেশি মদ সতেরো হাজার লিটার ও বিদেশি মদ সাড়ে ন’হাজার লিটার। বর্ধমান শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লি এলাকায় এক নার্স করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে ওই এলাকা ও সংলগ্ন তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সব মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্ৰশাসন। রাজ্যে ৪ মে মদের দোকান খোলার নির্দেশকা জারি হয়।

পূর্ব বর্ধমানে ওই দিন বিকেলে খোলা হয় মদের দোকান। মাত্র কয়েক ঘণ্টা দোকান খোলা ছিল। পরের দিন ৫ মে পুরো সময় দোকান খোলা ছিল। তার মধ্যেই এই পরিমাণ বিক্রি হয়েছে। মদের দোকানের লাইনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেখা যায়নি একেবারে। অনেকে মাস্ক না পরেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন।

পুলিশকর্মীরা তাঁদের বুঝিয়ে মাস্ক পরান। দোকান খোলার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছিল যা অনেক ক্ষেত্রে রেশন দোকানের ভিড়কেও হার মানায়। আবগারি দফতর সূত্রে জানা গেছে ৪ ও ৫ মে পূর্ব বর্ধমান জেলায় মদ বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার। এতে মদের দোকানের মালিকরা খুশি। সরকারের কোষাগারেও অর্থ ঢুকেছে।

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক মজা করে বলেন, ‘রেশন নিয়ে কত অভিযোগ – চালের গুণগত মান থেকে পরিমাণ এমনকি ঠিক সময়ে দোকান না খোলা – সব কিছু নিয়েই। কিন্তু মদের দোকানের লম্বা লাইনে কোনও সমস্যা নেই। শান্ত নাগরিকরা আইন শৃঙ্খলা মেনে সামাজিক দূরত্বকে গুরুত্ব না দিয়ে দিব্যি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদ মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে মদ কিনছেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-পেশা নির্বিশেষে সকলেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন।’

 

সুত্র: THE WALL

 

 

 

 

আরও পড়ুন ::

Back to top button