ঝাড়গ্রাম

ঝাড়গ্রামের বাবুই শিল্পীদের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সেভা’

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: গত কয়েক বছরে ঝাড়গ্রাম জেলার প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক হাল ফিরেছিল বাবুই শিল্পের দৌলতে। জঙ্গলমহলের আদিবাসী-মুলবাসী মানুষেরা শুধুমাত্র বাবুই (সাবাই ঘাস এই দড়ি তৈরি হয়) দড়ি বানিয়ে হাটে গিয়ে বিক্রি করতেন। বেলপাহাড়ি, নয়াগ্রাম ও গোপীবল্লভপুর এলাকার একটি বড় অংশের মানুষের প্রধান জীবিকা বাবুই ঘাস থেকে দড়ি তৈরি। বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি (সিএসআর) উদ্যোগে বাবুই ঘাসের দড়ি দিয়ে হস্তশিল্প ও কারুশিল্পের প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁরা হয়ে উঠেছেন দক্ষশিল্পী।এঁদের তৈরি হস্তশিল্প স্ব-সহায়ক দলের মহাসঙ্ঘ মারফৎ রপ্তানি হয় বিভিন্ন রাজ্যস্তরীয় মেলায় এবং কলকাতা দক্ষিণাপণের সৃষ্টি-শ্রী (স্টল নম্বর ৪০২ ) স্টলেও পাওয়া যায় বাবুই ঘাসের কারুশিল্প।

কিন্তু বর্তমান করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন এই শিল্পীরা। লকডাউনে বিক্রিবাটা বন্ধ। বাবুই দড়িও বিক্রির সুযোগও এখন নেই। এই পরিস্থিতিতে চরম সঙ্কটে পড়েছেন বাবুই নির্ভর কারুশিল্পীরা। এমনই দেড়শো জন মহিলা শিল্পীর পাশে দাঁড়াল ঝাড়গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সেভা’।

বৃহস্পতিবার গোপীবল্লভপুরের ধানশোল ও নয়াগ্রামের নিগুই গ্রামে গিয়ে ওই শিল্পীদের হাতে ‘সেভা’র পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হল নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও হাইজেনিক কিট।

‘সেভা’র অন্যতম কর্মকর্তা সুদীপ্ত নায়েক বললেন, “আমরা রাজ্যের ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে একটা কথাই পৌঁছে দিতে চাই, হস্তশিল্প কিনুন, হস্তশিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখুন।”

সুদীপ্ত জানান, তাঁদের সংস্থার মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোগে বাবুই বাবুই ঘাসজাত কারুশিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ‘সেভা’-র মূল লক্ষ্য হল, ঝাড়গ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক মানুষের আয় বৃদ্ধি করা। তাই সংস্থার উদ্যোগে বাবুই হস্তশিল্পের পাশাপাশি, মৌমাছি প্রতিপালন, মাশরুম ও ভেষজ চাষের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button