রাজনীতি

‘এটা সংবাদমাধ্যমে বড় বড় কথা বলার সময় নয় : রাজ্যপাল !

 

ওয়েবডেস্ক : প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফান কলকাতার বুকে আঘাত হানার পর কেটে গিয়েছে সপ্তাহখানেক। তবে এখনও স্বাভাবিক হয়নি শহর। রাস্তায় পড়ে আছে গাছ। কোনও কোনও এলাকায় নেই বিদ্যুত্‍।

অমিল জল পরিষেবাও। তার ফলে ক্রমশই চড়ছে ক্ষোভের পারদ। চলছে অবরোধ, বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে আবারও টুইটে রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankar)।

বুধবার সকালে তিনি পরপর তিনটি টুইট করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কটাক্ষ করে ওই টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, ‘বিদ্যুত্‍, জল এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।

কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের যে ভয়ংকর দুর্দশার খবরাখবর পাচ্ছি তা এতই হৃদয়বিদারক যে সেসব আর এখানে নাই বা বললাম। এটা সংবাদমাধ্যমে বড় বড় কথা বলার সময় নয়। বরং দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই প্রয়োজন।’

আমফান পরবর্তী পরিস্থিতিতে শহরকে স্বাভাবিক করতে কলকাতা পুরসভাকে সঠিক কাজ করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠছিল। মঙ্গলবার মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর যেন সাধারণ মানুষের অভিযোগ সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।

যদিও পালটা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডেকে এ বিষয়ে তোপ দেগেছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। তা নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে চলছে জোর চর্চা। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেও এদিন টুইট করেন রাজ্যপাল। তিনি লেখেন, ‘বরিষ্ট মন্ত্রীরা যখন তাঁদের মতদ্বন্ধ জনসমক্ষে নিয়ে আসেন বা বিধায়ক জনরোষের শিকার হন, তখন বাস্তবচিত্রটা বড্ড বেশি প্রকট হয়ে পড়ে।

গ্রামীণ এলাকার অবস্থা এখনও খুবই ভয়াবহ, সেইদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ওই এলাকাগুলিকে উপেক্ষা করা যায়না। এখন পরস্পরকে দোষারোপ করা বা বলির পাঁঠা খোঁজা বন্ধ হওয়া দরকার।’


বারবারই রাজ্যপাল অভিযোগ করেছেন, তাঁকে অন্ধকারে রেখেই রাজ্য সরকার নিজের মতো করেই সমস্ত কাজ করে থাকে। করোনা পরিস্থিতির পর আবারও সেই একই কথা টুইটে উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। সাংবিধানিক পদমর্যাদার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রাজ্যপাল লিখেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করব, যেন সাংবিধানিক রীতি মেনে আমাকে পরিস্থিতির আপডেট দেন।’

রাজ্যপাল হিসাবে এ রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বারবার রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন রাজ্যপাল। সোমবারের এই টুইটের পর যে রাজভবন-নবান্নের মধ্যে আবারও সংঘাত মাথাচাড়া দেবে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের।

সুত্র: সংবাদ প্রতিদিন

আরও পড়ুন ::

Back to top button