ঝাড়গ্রাম

রাজ্য সরকারের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন ছত্রধর মাহাতোর স্ত্রী নিয়তি

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: জনসাধারণের কমিটির প্রাক্তন নেতা ছত্রধর মাহাতোর স্ত্রী নিয়তিকে রাজ্য সরকারের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এর ফলে পরোক্ষে ছত্রধরের গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠমহল।

গত ফেব্রুয়ারিতে জেলমুক্ত হয়ে লালগড়ের আমলিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন ছত্রধর। এলাকায় ফেরার পরে তৃণমূলে যোগ না দিলেও ঝাড়গ্রামে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দু’বার সস্ত্রীক দেখা করেন জনসাধারণের কমিটির প্রাক্তন নেতা। তাই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনা আরও তুঙ্গে উঠেছে নিয়তির সরকারি পদপ্রাপ্তিতে। নিয়তিকে গত ৬ মে রাজ্য সমাজকল্যাণ পর্ষদের সদস্য পদে মনোনীত করা হয়েছে।

এর ফলে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মূলক বিষয়ে জেলা ও রাজ্যস্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ পাবেন নিয়তি। সেই সঙ্গে দিন কয়েক আগে তাঁকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়িকা নিয়োগের ঝাড়গ্রাম জেলাস্তরীয় নির্বাচক ও নজরদার কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন করা হয়েছে। ছত্রধর সক্রিয় রাজনীতিতে কবে যোগ দেবেন তা তিনি এখনও স্পষ্ট করেননি। তবে নিয়তিকে রাজ্য সরকার একের পর গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় মনে করা হচ্ছে, ছত্রধর হয়ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন।

ছত্রধর অবশ্য তাঁর রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলছেন না। তিনি এলাকায় জনসংযোগ করছেন। বাড়ির চাষের কাজ করছেন। সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে দূরে থাকছেন। তবে সামাজিক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের সময় তাঁকে ঝাড়গ্রাম ও লালগড়ের কয়েকটি গ্রামে বেসরকারি ত্রাণ বিলি করতে দেখা গিয়েছে। এগারো বছর আগে লালগড়-আন্দোলনের নায়ক ছিলেন ছত্রধর। বাম আমলে গোপন ডেরায় সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ছদ্মবেশী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ছত্রধর। বহু মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমান সরকারের হস্তক্ষেপে উচ্চ আদালত তাঁর সাজার মেয়াদ কমানোয় তিনি জেলমুক্ত হন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button