ঝাড়গ্রাম

ঝাড়গ্রাম শহরে পুজোর আগে ‘পেটপুজো’,মঞ্চ থেকে হেঁসেলের মালকিন শ্রীপর্ণা

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের বিশিষ্ট নাট্যকর্মী শ্রীপর্ণা পাহাড়ির পরিচালনায় ঝাড়গ্রাম শহরে শুরু হল ‘পেটপুজো’। একেবারে কর্পোরেট ধাঁচের রকমারি খাবারের এই হোম ডেলিভারি সংস্থাটি চালু করেছেন শ্রীপর্ণা। খাবারের অর্ডার দেওয়া যাবে ফোন করে অথবা হোয়াটস্অ্যাপে মেসেজ করে।

অর্ডার দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মাইক্রোওয়েভ-বান্ধব খাবারের কৌটো ভর্তি সুদৃশ্য ব্যাগ নিয়ে হাজির হয়ে যাবেন সংস্থার কর্মী। ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রাম শহরে ভোজনরসিকদের মন ভরিয়েছে ‘পেটপুজো’। নাটকের মঞ্চ থেকে হঠাৎ রান্নাঘরে? শ্রীপর্ণার জবাব, ‘‘করোনা আবহে মঞ্চে নাটকের অভিনয় বন্ধ।

নাটক শেখানোর ক্লাসও বন্ধ। তাই অযথা বসে না থেকে হোম ডেলিভারি চালু করলাম।’’ কয়েক মাস আগে নিজের চিকিৎসা করাতে ভেলোর গিয়েছিলেন শ্রীপর্ণা। কিন্তু লকডাউনের ফলে সেখানে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে আড়াই মাস আটকে পড়েন তিনি।

ঝাড়গ্রামের কয়েকজন শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় ঘরে ফেরেন তাঁরা। শ্রীপর্ণার স্বামী বিশিষ্ট নাট্যকর্মী ও শিল্পী উপল পাহাড়ি জানালেন, তাঁর স্ত্রী বরাবরই রান্নায় পারদর্শী। নিজের হাতে সংস্থা চালাচ্ছেন শ্রীপর্ণা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যত্ন সহকারে নিজেই রান্না করছেন।

[ আরও পড়ুন : মাস্ক না পরায় স্বাস্থ্যবিধির পাঠ পড়ালেন মহকুমাশাসক ]

শ্রীপর্ণার সংস্থাটি কলকাতার যে কোনও নামি হোম ডেলিভারির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো। প্রতিটি খাবারের কৌটোয় সংস্থার নাম ও ফোন নম্বর রয়েছে। এ ছাড়া যে ব্যাগে খাবাবের কৌটো ভরে দেওয়া হচ্ছে, সেই ব্যাগটিও রীতিমতো দৃষ্টিনন্দন।

সুলভ দামে পেটপুজোয় অর্ডার দিয়ে পাওয়া যাবে এগ-প্রন-চিকেন বিরিয়ানি, খাসা তার স্বাদ। পেটপুজোর স্পেশ্যাল লেবু-লঙ্কা চিকেন ইতিমধ্যেই শহরে ভোজন রসিকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্পেশ্যাল চিকেন কষা, পোস্ত চিকেন, ধনিয়া চিকেন, মৌরলা মাছের ভাপা, দই মাছ, এঁচোড়-চিংড়ি, পটল-চিংড়ি, পটল পোস্ত, ধোঁকার ডালনা, মুড়িঘন্ট, গলদা চিংড়ির মালাইকারি, কাঁচকলার কোপ্তা, মোচার ঘন্ট, ওলের ডালনা, দুধ-পনিরের মতো বিশুদ্ধ বাঙালি খাবার পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া চিলি চিকেন, নানা ধরনের তড়কা, মটন কষার মতো নানা ধরনের ৫২টি আইটেমও পাওয়া যাচ্ছে। শ্রীপর্ণা বলেন, ‘‘নিজে বাড়িতে রান্না করে খাবার সরবরাহ করছি। বাঙালির পাতের হারিয়ে যেতে বসা সাবেক পদগুলিকে নতুন করে হাজির করছি।’’

[ আরও পড়ুন : Big Breaking : বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হতে পারেন মুকুল রায় ]

ইতিমধ্যেই ফেসবুকে সংস্থার পেজ-এ খাবারের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া শহরের ভোজনরসিকদের নিয়ে হোয়াটস্অ্যাপ গ্রুপও খুলে ফেলেছেন শ্রীপর্ণা। এবার পুজোয় বাড়িতে বসেই পেটপুজো হোক, বলছেন শ্রীপর্ণা ও তাঁর সংস্থার সহযোগীরা।

আরও পড়ুন ::

Back to top button