বিনোদন

‘ইনজেকশন দিয়ে চুপ করিয়ে দেব’, জিয়া খানের মা’কে হুমকি মহেশ ভাট’র

পরিচালক মহেশ ভাট’র বিরুদ্ধে আবার নতুন অভিযোগ। আর এই অভিযোগ করলেন প্রয়াত অভিনেত্রী জিয়া খানের মা রাবেয়া খান। ইন্ডিয়া টুডের কাছে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন তার মেয়ে অভিনেত্রী জিয়া খানের শেষকৃত্যের দিন তাকে হুমকি দিয়েছিলেন মহেশ ভাট। মহেশ ভাট নাকি সেদিন বলেছিলেন, ‘চুপ থাক, না হলে তোকেও ইনজেকশন দিয়ে শুইয়ে দেব।’ রাবেয়া খানের এমন মন্তব্যে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বলিউডে।

ইন্ডিয়া টুডের কাছে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে রাবেয়া খান বলিউডের মাফিয়া এবং তাদের ক্ষমতার সম্পর্কেও কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই বলিউড মাফিয়ারা এখনো সুরজ পাঞ্চোলিকে সাহায্য করছে।’ উল্লেখ্য ২০১৩ সালে মুম্বাইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃতদেহ। জানা যায়, জিয়া খানের সঙ্গে তখন বিশেষ সম্পর্ক ছিল অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে অভিনেতা সুরজ পাঞ্চোলির। আর সুরজের বিরুদ্ধেই অভিযোগ এনেছিল জিয়া খানের পরিবার।

[ আরও পড়ুন : ফের উঠল প্রশ্ন, মোদী কেন কোয়ারানটিনে থাকছেন না?’ ]

এর আগে বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার পরপরই বলিউডের বেশ কয়েকজন পরিচালক ও অভিনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। এই সাক্ষাৎকারেও সুশান্তের মৃত্যু সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন রাবেয়া খান। বলছেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছিলাম সুশান্তকে খুন করা হয়েছে। জিয়ার ঘটনার সঙ্গে বহু মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই তাদের সঙ্গীরা ভালোবাসায় ফাঁসিয়ে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে, টাকা পয়সা লুট করেছে। পরিবার-পরিজনদের থেকে দূরে রেখেছে। আমার হাসি পায় মুম্বাই পুলিশকে দেখে। তারা সত্যিটা খুঁজে বের করতে এত সময় লাগিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের সুবিধার জন্য নেপোটিজম অ্যাঙ্গেল বের করেছে।’

নিজের মেয়ে অভিনেত্রী জিয়া খানের সাথে সুরজ পাঞ্চোলির সম্পর্ক নিয়ে রাবেয়া খান জানিয়েছেন, ‘সুরজ জিয়াকে মারধর করতো। আমি পুলিশকে বলেছিলাম যে আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। সুরজের নারকো টেস্ট করা হোক। কিন্তু তারা শোনেনি। পুলিশের ওপর বলিউড মাফিয়াদের চাপ ছিল। বলিউডের একজন আইকন চেয়েছিলেন সুরজকে যাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা না হয়। কারণ সেই সময় তারা সুরজকে নিয়ে ছবি বানাচ্ছিলেন।’

প্রসঙ্গত, মাত্র তিনটি ছবিতে কাজ করেই পরিচিতি লাভ করেন অভিনেত্রী জিয়া খান। ২০০৭ সালে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘নিঃশব্দ’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি। ২০০৮ সালে আমির খানের সঙ্গে ‘গজনী’ এবং ২০১০ সালে অক্ষয় ও দীপিকার সঙ্গে ‘হাউসফুল’ ছবি দুটিতে তার অভিনয় দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

[ আরও পড়ুন : পাঁউরুটি কাটার ছুরি দিয়ে কুপিয়ে একমাত্র ছেলেকে খুন, ধৃত বাবা ]

কিন্তু ২০১৩ সালের ৩ জুন আত্মহত্যা করেন অভিনেত্রী জিয়া খান। মৃত্যুর পরে জিয়ার লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় যেখানে তিনি অভিনেতা তথা বন্ধু সুরজ পাঞ্চোলির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতির দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন।

অভিনেত্রী জিয়া খানের মা রাবেয়া খান মনে করেন একদিন ঠিক সত্যিটা সামনে আসবে এবং তারা বিচার পাবে। জিয়ার ক্ষেত্রেও বলা হয়েছিল যে তিনি অবসাদে ভুগছিলেন। এই প্রসঙ্গে রাবেয়া অভিযোগ করে বললেন, “একমাত্র মহেশ ভাট ছাড়া আর কে বলেছে যে জিয়া অবসাদগ্রস্ত? জিয়ার শেষকৃত্যের দিন তিনি আমার কাছে এসে বললেন যে ও নাকি অবসাদে ভুগছিল। আমি তখন বললাম, মাফ করবেন স্যার। ও কখনই অবসাদগ্রস্ত ছিল না। তখনই উনি বলেন, ‘চুপ করে যা। না হলে তোকেও ইনজেকশন দিয়ে শুইয়ে দেব।”

মহেশ ভাটকে বলিউড মাফিয়ার মুখপাত্র হিসেবে দাবি করেছেন জিয়া খানের মা। আর তার এই মন্তব্যের পর নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই মন্তব্য সুশান্তের ঘটনায় কতটা প্রভাব ফেলে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

 

আরও পড়ুন ::

Back to top button