দঃ ২৪ পরগনা

মৌসুনি দ্বীপে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলো বিজেপি প্রতিনিধিদল

মৌসুনি দ্বীপে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলো বিজেপি প্রতিনিধিদল

রবীন মজুমদার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মূল ভূখন্ড থেকে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মৌসুনি দ্বীপ। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে এই এলাকার মানুষরা কিছুটা হলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে প্রায় বঞ্চিত বললেই চলে। গত আমাবস্যা ভরা কোটালে সমুদ্র গর্ভে জল বেড়ে যাওয়ার ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নদী উপকূলবর্তী এলাকা গুলি ব্যাপক পরিমাণে প্লাবিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্তের মুখে পড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মৌসুনি দ্বীপ।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই মৌসুনি দ্বীপ এর সমুদ্র উপকূলবর্তী প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার নদী বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে সমুদ্রের লবণাক্ত জল গ্রামে ঢুকে আসে। এলাকার মানুষের অভিযোগ অনুযায়ী বেশ কয়েক বছর ধরেই তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আম্ফান ঝড় এ বিপুল পরিমাণে মৌসুনি দ্বীপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই এলাকার প্রায় সবকটি কাঁচা বাড়ি ক্ষতির মুখে পড়ে। সাথে সাথে এখানকার বেঁচে থাকার কৃষিনির্ভর জমি গুলি প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন এখনও পর্যন্ত তারা আম্ফান ঝড়ের ক্ষতিপূরণ পাননি।

[ আরও পড়ুন : ‘থার্ড ডিগ্রি’ দিয়ে সিদ্ধার্থকে জেরা করার দাবি সুশান্তের দাদার ]

নদী বাঁধ ভেঙে গিয়ে সমুদ্রের লবণাক্ত জল ঢুকে চাষের জমি ক্ষতি করছে, পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। চাষবাসের ক্ষতি হওয়ার ফলে এখানকার মানুষেরা অনেকটাই সমস্যার মুখে আছেন। আর এই সমস্ত এলাকার মানুষদের সমস্যার কথা কানে আসতেই আজ বিজেপি মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দীপঙ্কর জানার নেতৃত্বে প্রায় কুড়ি জনের একটি প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যায়। এই এলাকার মানুষদের সমস্যার কথা তারা শোনেন। এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এলাকায় সমস্যা রাস্তা থেকে পানীয় জল নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ত্রাণ এরকম বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এলাকার মানুষ।

এলাকা পরিদর্শন করে বিজেপি মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দীপঙ্কর জানা- জানান যে সমস্ত এলাকা বিপুল পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মৌসুনি দ্বীপ এর নির্দিষ্ট কোনো একটি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, প্রায় পুরো মৌসুমী ভূখণ্ডটি দীর্ঘদিন ধরেই লাঞ্চিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ অগণতান্ত্রিক দুর্নীতির সরকার তৃণমূলের দুর্নীতির শিকার হয়েছে এই মৌসুনি দ্বীপ এর অগণিত মানুষ। আমরা আজ বিজেপি জেলা প্রতিনিধি দল এই এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং অসহায় মানুষদের সমস্যা খতিয়ে দেখে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এর হাতে তুলে দেবো।

মৌসুনি দ্বীপে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলো বিজেপি প্রতিনিধিদল

যাতে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আসে এই ঐতিহাসিক দ্বীপ মৌসুমী। সাধারণ মানুষরা এখানে অসহায় হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন এই অপদার্থ সরকারের কাছে তারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। আম্পানে ১০০% বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই মৌসুনি দ্বীপ এর কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিপূরণের দাবিতে হাহাকার করছে।

আবরাজ ঘুরে দেখলাম এবং এই সমস্ত রিপোর্টগুলো আমরা কেন্দ্র সরকারের কাছে তুলে ধরব বিজেপির পক্ষ থেকে। যাতে আগামী দিনে এই এলাকার মানুষদের আর না যেন বঞ্চিত লাঞ্ছিত হতে হয়। সমগ্র এলাকাজুড়ে সংখ্যালঘু ভাইদের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি।


ঠকবাজ সরকার এই তৃণমূলের মিথ্যে ভাওতার শিকার এখানকার সংখ্যালঘু ভাই বোন ও মায়েরা। আমরা তাদের পাশে আজও দাঁড়াবো এই আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পুরো দীপ্তি আমরা পরিদর্শন করলাম। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীবাঁধ ব্যাপক পরিমাণে ভেঙে আছে। লবণাক্ত জল ঢুকে চাষের জমি ক্ষতি এবং পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। একেতো করনা ভাইরাসের প্রকোপ এ লকডাউন এর ফলে বহিরাগত পর্যটকরা এখানে আসছেন না।

[ আরও পড়ুন : ‘১৩ জুনই মনে হয়েছিল কিছু ঘটছে, আশঙ্কাই হল সত্যি’,এমন কী দেখেন প্রতিবেশীর ]

তার ফলে এখানকার বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং যে পর্যটন কেন্দ্রটি এখানে গড়ে উঠেছিল তার ও ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে চলেছে। মমতা ব্যানার্জির সরকার ধাপ্পাবাজ সরকার এর আমলে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে। মমতা ব্যানার্জির প্রশাসন কোনো রকম হেলদোল দেখাচ্ছেন না এখানকার স্থানীয় অসহায় মানুষদের সাহায্যার্থে।
আগামী ২০২১ সালে বিজেপির সরকার পশ্চিমবঙ্গে গঠন হওয়ার সাথে সাথেই মৌসুনি দ্বীপ এর প্রকৃত উন্নয়নের এক নিদর্শন গড়ে তুলবে মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্বরা।

 

আরও পড়ুন ::

Back to top button