ঝাড়গ্রাম

ব্যবসায়ীকে লক্ষ করেও গুলি! পা পিছলে পড়ে গোড়ালি ভাঙল স্ত্রীর, তদন্তে পুলিশ

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: আদৌ কি বেলপাহাড়িতে পচাপাণি গ্রামের ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ দাসকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বিদ্যুৎ মাস খানেক আগে প্রথমে পেয়েছিলেন হুমকি চিঠি। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির সদর দরজার বাইরে ঘোরাফেরা করছিলেন সন্দেহভাজন কেউ। পড়শির ফোনে বিষয়টি জেনে নির্মীয়মান বাড়ির ছাদে উঠে সস্ত্রীক দেখতে গিয়েছিলেন বিদ্যুৎকুমার দাস।

প্রথমে ভেবেছিলেন রাতের অন্ধকারে বাগানের ওল চুরি করতে এসেছে কেউ। চর্ট ফেলতেই একতলা থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে বিদ্যুতের অভিযোগ। তড়িঘড়ি সিঁড়ি দিয়ে একতলায় নামার সময়ে পা হড়কে পড়ে যান বিদ্যুতের স্ত্রী মীরা। বাঁ পায়ের গোড়ালি ভেঙেছে মীরার। বান্দোয়ানের চিকিৎসকের কাছে পায়ে প্লাস্টার করিয়ে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। তবে গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত বিদ্যুৎ কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন : মাদক মিশিয়ে ঘনিষ্ঠতা, কঙ্গনাকে দুবাইয়ে পাচারের চেষ্টা!

পুলিশ নিজের মতো করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বার কয়েক বিদ্যুৎ ও স্থানীয় কয়েকজনকে জেরাও করা হয়েছে। বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ি অঞ্চলের বাঁকুড়া সীমানা লাগোয়া পচাপাণি গ্রামটি পুরনো মাওবাদী ঘাঁটি। ফলে এমন ঘটনায় সন্দেহ দানা বাঁধছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে হুমকি চিঠির বয়ান পড়ে পুলিশের ধারণা ব্যক্তিগত শত্রুতার জন্য এমন চিঠি দেওয়া হতে পারে।

তবে বিদ্যুতের পাশাপাশি, এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছেও টাকা চেয়ে হাতে লেখা যথেচ্ছ বানান ভুলে ভরা মাওবাদী নেতা মদন মাহাতোর নামাঙ্কিত ওই রকম হুমকি চিঠি এসেছে। প্রাপকদের মধ্যে বাঁশাপাহাড়ির দুই প্রাক্তন তৃণমূল নেতা, পচাপাণির আর এক ব্যবসায়ীও আছেন। ফলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পচাপাণি গ্রামের বাসিন্দা বিদ্যুৎ গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করেন। জামবনির গিধনি থেকে সিলিন্ডার এনে তিনি এলাকায় সরবরাহ করেন। এছাড়া যৌথ অংশীদারিত্বে ঠিকাদারিও করেন তিনি। সম্প্রতি বাঁশপাহাড়ি অঞ্চলের দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন তৈরির বরাত পেয়ে কাজও করেছেন বিদ্যুৎ।

আরও পড়ুন : ‘মাটির বিস্কুট’ খেয়েই বেঁচে থাকে যেসব মানুষ

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস খানেক আগে বিদ্যুতের পাশাপাশি, গ্রামের কয়েকজন হুমকি চিঠি পেয়ে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা অথবা মাওবাদীদের নাম করে কেউ রোজগারের উদ্দেশ্যে ওই রকম চিঠি দিয়ে থাকতে পারে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা অঞ্চলে স্বাধীনতা দিবসের আগে মাওবাদীদের নাম করে পোস্টার পড়েছিল। মাওবাদীদের গতিবিধির খবরও পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোনও গোষ্ঠী এমন করেছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ অবশ্য বিদ্যুতের বাড়ির চত্বর থেকে কোনও কাতুর্জের খোল পায়নি।

 

আরও পড়ুন ::

Back to top button