জাতীয়

উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণদের কত বন্দুক আছে জানতে নির্দেশ যোগী সরকারের!

উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণদের কত বন্দুক আছে জানতে নির্দেশ যোগী সরকারের!
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

কত জন ব্রাহ্মণের বন্দুকের লাইসেন্স রয়েছে?‌ কত জনই বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন?‌ সব জেলা শাসকদের কাছে জানতে চেয়েছিল যোগী সরকার। রাজ্যে প্রায় দিনই খুন হচ্ছেন ব্রাহ্মণ নেতা-মন্ত্রী থেকে দুষ্কৃতী। এই প্রসঙ্গেই নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বাতিল করে দেয় নির্দেশ।

সেই নির্দেশিকায় সি করেছিলেন খোদ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব প্রকাশ চন্দ্র আগরওয়াল। উত্তরপ্রদেশে এই দপ্তর সামলান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথই। নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল ১৮ আগস্ট। ২১ আগস্টের মধ্যে জেলাশাসকদের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। যদিও আগরওয়াল এই নিয়ে মুখ খোলেননি। অন্য এক সরকারি কর্তা জানিয়েছেন, নির্দেশ শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়। একটি মাত্র জেলা থেকে আগেই জবাব পাঠানো হয়েছিল।

বিধানসভায় উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন শাসক দল বিজেপি-র বিধায়ক দেবমণি দ্বিবেদী। তিনি সুলতানপুরের লাম্বুয়ার বিধায়ক। ১৬ আগস্ট তিনি বিধানসভার প্রধান সচিব প্রদীপ দুবেকে একটি চিঠি দেন। তাতে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থাত্‍ যোগী আদিত্যনাথের জানতে চান, রাজ্যে গত তিন বছরে কত জন ব্রাহ্মণ খুন হয়েছেন।

কত জন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছে, কত জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। রাজ্যে ব্রাহ্মণদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকার কী কী করছে। কত জন ব্রাহ্মণের বন্দুকের লাইসেন্স রয়েছে। কত জন আবেদন করেছেন। রাজ্য সরকার কি তাঁদের দ্রুত বন্দুকের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য কোনও পদক্ষেপ করছে।

আরও পড়ুন : দিল্লি AIIMS থেকে ছাড়া পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

তার পরেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলা শাসকদের চিঠি পাঠানো হয়। জানতে চাওয়া হয়ে ব্রাহ্মণদের বন্দুকের লাইসেন্স বিষয়ে। বিধানসভার প্রধান সচিব প্রদীপ দুবে জেলাশাসকদের চিঠি পাঠানোর বিষয় অস্বীকার করেন।

গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিরোধী নেতারা ব্রাহ্মণদের নিরাপত্তা নিয়ে যোগী সরকারকে তোপ দাগছেন। বিশেষ করে জুলাই মাসে গ্যাংস্টার বিকাশ দুবেকে এনকাউন্টারের পর থেকে সওয়াল জোড়ালো হয়েছে। বিকাশের পাঁচ সহযোগীকে এনকাউন্টারে খতম করে পুলিশ। তারা সকলেই ব্রাহ্মণ ছিল।

উত্তরপ্রদেশে ১০ শতাংশ ভোটার ব্রাহ্মণ। তাই সব রাজনৈতিক নেতারাই ব্রাহ্মণদের তোষণ করে চলতে চান। বসপা নেত্রী মায়াবতী জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে পরশুরামের নামে হাসপাতাল গড়বেন। ব্রাহ্মণদের ‘‌গর্ব, বিশ্বাসের প্রতীক’‌ তিনি। সপা নেতা অখিলেশ যাদব জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে পরশুরামের মূর্তি গড়বেন।

আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিংও অভিযোগ করেছে, রাজ্যে ব্রাহ্মণরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার পর যদিও শান্তি ভঙ্গ এবং বর্ণ বিদ্বেষে প্ররোচনার জন্য সিংয়ের নামে এফআইআর দায়ের করেছে যোগী সরকার।

 

সুত্র: আজকাল.in

আরও পড়ুন ::

Back to top button