রাজনীতিরাজ্য

মণীষ খুনের ঘটনায় রাজ্যপালের কাছে সিবিআই তদন্তের দাবি বিজেপির

রাজভবনের বাসিন্দাকে গত এক বছর ধরেই কার্যত ‘পদ্মপাল’র ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে বলে বিজেপি বাদে রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলগুলি সরব হয়েছে নানান সময়ে। সেই অভিযোগ যে মিথ্যা নয় তা মাঝেমধ্যেই বেশ স্বজ্ঞানে বুঝিয়ে দিচ্ছেন বিজেপি নেতারাও।

কথায় কথায় রাজভবনের দ্বারস্থ হওয়া থেকে শুরু করে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক, তাঁকে নানান আর্জি জানানো এসবই চলছে নিত্যদিন। কার্যত রাজভবনকে দেখে এখন অনেকেই মনে করেন সেটি আর রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বাড়ি নেই, বরঞ্চ তা রাজ্য বিজেপির মুখ্য কার্যালয় হয়ে উঠেছে।

রবিবার বিকালেও সেই ছবিই দেখা গেল। যে রাজ্যপালের কোনও ক্ষমতাই নেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার তাঁর কাছেই কিনা গিয়ে সেই আর্জি জানালেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। কিছুদিন আগে রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার টিটাগড় থানার সামনে খুন হব বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মণীষ শুক্লা।

শোনা যাচ্ছে সেই ঘটনাও এমন একটা সময়ে ঘটেছে যখন মণীষ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসতে চাইছিলেন। সেই সূত্রে মণীষ খুনের ঘটনায় একাধিক বিজেপি নেতা এখন মূল সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছেন।

অথচ সেই জায়গা থেকে নজর ঘোরাতে রাজ্য বিজেপির নেতারা এক এক সময় এক একজনকে দোষী বলে দেগে দিচ্ছেন। আর এবার তো আরও কয়েক কদম এগিয়ে তাঁরা রাজ্যপালের কাছে দরবার করলো সিবিআই তদন্তের জন্য। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে একদিকে যেমন রাজ্য রাজনীতিতে হাসির ফোয়ারা ছুটেছে তেমনি সমালোচনাও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : ‌উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে, দিলীপ ঘোষ-সহ ৮ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর

রবিবার বিকালে রাজভবনে যান সর্বভারতীয় বিজেপি সহ-সভাপতি মুকুল রায়, বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন পুরপ্রধান সব্যসাচী দত্ত ও জয়প্রকাশ নারায়ণ যিনি করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন ও ভোটের দিন এক মহান লাথ খেয়ে কার্যত ইতিহাস গড়েছিলেন।

তাঁরা এদিন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের কাছে দেখা করে মণীষ শুক্লা হত্যাকাণ্ডের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। রাজ্যপালের এই ধরনের তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই জেনেও কেন তাঁর কাছেই এই আর্জি জানানো হল এই প্রশ্নের উত্তরে এদিন বৈঠক শেষে রাজভবনের বাইরে মুকুল রায় জানান, ‘সিবিআই তদন্ত ছাড়া মনীশ শুক্লার প্রকৃত খুনি কারা তা জানা সম্ভব নয়। সিআইডির তদন্তে নামে রাজ্য সরকার প্রহসন চালাচ্ছে।

প্রকৃত দোষীদের আড়াল করছে রাজ্য প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত সিআইডি যাদের গ্রেফতার করেছে তা আইওয়াশ ছাড়া কিছু নয়। ব্যারাকপুরের মাটিতে জনরোষ থেকে রক্ষা পেতে নামমাত্র দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা কিভাবে যুক্ত তাও এখনও পর্যন্ত সিআইডির তদন্তে পরিষ্কার নয়।

তাই এই হত্যার কিনারা সিবিআই ছাড়া সম্ভব নয়। মনীশ শুক্লার বাবা-মাও এই হত্যার বিচারের জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের আর্জি জানিয়েছে। রাজ্য সরকার যেহেতু সিবিআই তদন্তের আরজি মানবে না তাই আমরা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছি।

আমরা জানি রাজ্যপালের হাতে ক্ষমতা নেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার। তবুও আমরা চাই যে তদন্ত হচ্ছে সেটা সঠিক হোক। মণীশ শুক্লার পরিবার যেন বিচার পায়।’

সুত্র: এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন ::

Back to top button