ঝাড়গ্রাম

দেবাংশুকে দেখতে তৃণমূলের সভায় উপচে পড়া ভিড় শিলদায়

প্রতিবেদকের তোলা ছবি

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: বিজেপিকে এনে বোম বন্দুকের জঙ্গলমহল ফেরাবেন নাকি, উন্নয়নে থাকবেন? প্রশ্নকর্তা রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য। সোমবার বিকেলে শিলদায় তৃণমূলের এক সভার মূল বক্তা দেবাংশু বলেন, ‘‘লাল এখন ফিকে হয়ে গেরুয়া হয়েছে।

জানালা খুলে কী বোম-বন্দুকের আওয়াজ শুনতে চান? নাকি জানালা খুলে উন্নয়ন দেখতে চান, কোকিলের ডাক শুনতে চান? সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাদের। আপনারা শপথ নিন, ২১শে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে।

কারণ উন্নয়ন আর ভাল থাকার একমাত্র বিকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ সোমবার ঝাড়গ্রামের শিলদায় নীলকমল মাঠে জেলা তৃণমূলের উদ্যোগে ‘কেন্দ্রের কৃষক বিরোধী কালা আইন ও দলিত কন্যা খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে’ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে তৃণমূলের একাধিক নেতা জানান, এটি বিজেপি-র সভার পাল্টা সমাবেশ।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি

গত ১৩ অক্টোবর শিলদার নীলকমল মাঠে যোগদান মেলা করেছিল বিজেপি। সেখানে হাজির ছিলেন কৈলাস বিজবর্গীয়, মুকুল রায়, ভারতী ঘোষের মতো বিজেপি-র কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। সোমবার সেই নীলকমল মাঠেই তৃণমূলের পাল্টা সভায় দেবাংশু ছাড়াও ছিলেন রাজ্য মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ অর্পিতা ঘোষ।

প্রতিবেদকের তোলা ছবি

এছাড়াও ছিলেন জেলার নেতা-নেত্রীরা। এদিন সভাস্থলে প্রচুর লোকজন এসেছিলেন। তৃণমূল সূত্রের দাবি, বিজেপি ঝাড়খণ্ড থেকে লোক এনেছিল। এদিন কেবল বেলপাহাড়ি ও জামবনি এই দু’টি ব্লক থেকেই সাত-আট হাজার লোক এসেছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় তুলে গিজগিজ ভিড়ের অন্যতম কারণ অবশ্য দেবাংশু।

ফেসবুকে জনপ্রিয় দেবাংশুকে চোখের দেখা দেখতে এসে যুবক-যুবতীরা মোবাইল ফোনে দেদার তাঁর ছবি ও ভিডিয়ো তুলছিলেন। এদিন সভাস্থলে যাওয়ার পথে দেখা গিয়েছিল বাস ও ছোট-বড় গাড়িতে করে ভাল সংখ্যায় দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা সভায় যাচ্ছেন। আড়াইটার মধ্যে মাঠ ভর্তি হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে বিজেপি করার অপরাধে হুমকি তৃণমূলের

পরে আরও লোকজন আসতে থাকেন। রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি চূড়ামণি মাহাতো বলেন, ‘‘ছাঁট মালেরা বিজেপিতে যাচ্ছে। ছাঁট মাল দিয়ে কোনও কাজ হবে না। জঙ্গলমহলের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নেই আস্থা রেখেছেন।’’ জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু আবার হাতি খেদানোর হুলা (জ্বলন্ত মশাল) নিয়ে বিজেপি-র লোকজনকে এলাকাছাড়া করার ডাক দেন।

প্রতিবেদকের তোলা ছবি

অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘‘এখানে যে উন্নয়ন হয়েছে আগে কেউ কখনও দেখেননি। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে উন্নয়নের কথা বলুন। সাম্প্রদায়িক মিথ্যেবাদী দলকে ঢুকতে দেবেন না। এটা কর্মীদের শপথ নিতে হবে।’’ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমাদের দুর্গা (মুখ্যমন্ত্রী) একাই আমলাশোলের খিদে মিটিয়েছেন।

তিনি একাই মাওবাদীদের সিঁধে করেছেন। তিনি উন্নয়নের প্রতীক। যেখানে মানুষ বিপদে পড়েন তিনি পাশে থাকেন। একুশে দিদিকে তৃতীয় বার ক্ষমতায় আনতে হবে।’’ চন্দ্রিমা বক্তৃতা দেওয়ার সময়ে দেবাংশু সভামঞ্চে এসে পৌঁছন।

আরও পড়ুন: “স্বাধীনতা আর সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা এক নয় ” – মন্তব্য করলেন ‘ঐক্য বাংলা’র সাধারণ সম্পাদিকা শ্রীমতী সুলগ্না দাশগুপ্ত

ফেডেড জিনস আর গাঢ় নীল কুর্তা পরা দেবাংশুকে দেখে সকলে তুমুল হাততালি দিতে থাকেন। চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘দেবাংশু এসেছে ও খুব পপুলার হয়ে গিয়েছে।’’ বিজেপিকে বাংলা বিরোধী, জঙ্গলবিরোধী রাজনৈতিক দল বলে কটাক্ষ করেন দেবাংশু।

গতানুগতির রাজনৈতিক ভাষণ দেননি দেবাংশু। বরং ছোট ছোট গল্প ও উদাহরণ দিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বিজেপি-র বিপদ সম্পর্কে আমজনতাকে সতর্ক করেন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button