ঝাড়গ্রাম

নাগরিক সমিতি ও জঙ্গলমহল উদ্যোগের যৌথ সভামঞ্চে বিজেপিকে ঠেকানোর ডাক মন্ত্রী ও সাংসদের

স্বপ্নীল মজুমদার

নাগরিক সমিতি ও জঙ্গলমহল উদ্যোগের যৌথ সভামঞ্চে বিজেপিকে ঠেকানোর ডাক মন্ত্রী ও সাংসদের

ঝাড়গ্রাম: আগামী বিধানসভা ভোটে জঙ্গলমহলবাসীর ভালোর জন্য সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে আটকাতে হবে। রবিবার ঝাড়গ্রামে নাগরিক অধিকার সমিতি ও জঙ্গলমহল উদ্যোগের যৌথ সভামঞ্চে এমন বার্তা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু ও লোকসভার তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। এ দিন ঝাড়গ্রাম শহরের রবীন্দ্র পার্কে ঝাড়গ্রাম জেলা নাগরিক অধিকার সমিতি ও জঙ্গলমহল উদ্যোগ-এর ডাকা ওই জনসভার মূল বক্তা ছিলেন পুর্ণেন্দু ও দোলা। কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ও কেন্দ্রের জনবিরোধী সমস্ত নীতির বিরুদ্ধে ওই সভা ডাকা হয়েছিল।

সাংসদ দোলা সেন বলেন, ‘‘বাম আমলে খুন সন্ত্রাসের দিনগুলিতে আতঙ্কে থাকতেন এলাকাবাসী। আমলাশোলে দুর্ভিক্ষে মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রতিদিন মানুষ খুন হতেন। মমতার শাসনে শান্তি ফিরেছে জঙ্গলমহলে। ২ টাকা কিলো দরে ভরপেট খেয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি সহায়ক মূল্যে আদিবাসীরা কেন্দু পাতার বিক্রি করছেন। করোনা কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ৯ কোটি মানুষকে বিনা পয়সায় রেশন পৌঁছে দিয়েছেন। বিগত লোকসভায় মানুষ ভুল করেছিলেন। কিন্তু আর ভুল করে নিজেদের পায়ে কড়ুল মারবেন না।’’ মমতার দশ বছরের শাসনে বাম জমানার তুলনায় এ রাজ্যে ষাট ভাগ কাজ হয়েছে। যা কাজ বাকি আছে সেটাও করে ফেলা হবে বলে আশ্বাস দেন দোলা। তিনি বলেন, আমাদের ভুল হলে কান মুলে দিন। কিন্তু বিজেপিকে এনে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবেন না।’’

আরও পড়ুন : ঝাড়গ্রামে রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগের চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল

মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু দাবি করেন, সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে আনলে আদিবাসী-মূলবাসীদের জল-জমি-জঙ্গলের অধিকার বিপন্ন হবে। সেই সঙ্গে পূর্ণেন্দু মনে করিয়ে দেন, কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প এ রাজ্যে রূপায়ণ করা হচ্ছে না বলে বিজেপি অভিযোগ করে। কিন্তু ওই প্রকল্পের কার্ডের জন্য তিরিশ টাকা দিতে হয়। দেশের অর্ধেক মানুষের জন্য ওই প্রকল্প। কিন্তু বাংলার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প রাজ্যের দশকোটি মানুষের জন্য। এই প্রকল্পের কার্ডের জন্য কোনও পয়সা লাগে না। রাজ্য ও দেশের নামি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায়।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘আদিবাসী মানে শুধু সাঁওতাল নয়, কোল ভিল মুন্ডা আরও অনেক জনজাতি নিয়ে একটা পুরো আদিবাসী সমাজ। কুড়মিরাও আছেন। কুড়মিরা আন্দোলন করছেন। তাঁদের সঙ্গেও নানা ভাবে কথাবার্তা হচ্ছে সরকারের। কুড়মিদের যে দাবি গুলি রাজ্যের পক্ষে মানা সম্ভব, সেগুলি মানার পক্ষে সরকার বিবেচনা করছেন।’’ পূর্ণেন্দু জানান, নাগরিক সমিতি, ‘জঙ্গলমহল উদ্যোগ’-এর মতো অনেক গণ সংগঠন মানুষের পাশে থাকে। সবাইকে সংগঠিত করে বিজেপিকে প্রতিহত করতে হবে। পূর্ণেন্দু ও দোলা পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, খুব শীঘ্রই জঙ্গলমহলের সমস্ত লোকশিল্পীদের নিয়ে হিন্দু মিশন মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। সেখানে বড় সমাবেশও হবে। তারিখ পরে জানানো হবে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button