মতামত

আজকের দিনে দেশাইয়ের প্রধানমন্ত্রীত্ব কালে বাজপেয়ীর উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ রয়েছে

মৃত্যুঞ্জয় সরদার



আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মানুষ পঁচিশে ডিসেম্বর আনন্দে উত্থান যেন বাংলার মানুষ।একাকিনী জায়গা বেছে না একটু আড্ডায় মেতে থাকে। বাঙালিরা যতটা না কষ্ট ততটাই তারা সুখ বিলাসিতা মেতে ওঠেআমার জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে উপলব্ধি করি। বিশেষ দিনের শেষে মানুষ ভাবে না পরের দিনের কথা, তবুও আনন্দে উপভোগ করার ইচ্ছা থাকে প্রতিটি মানুষের। নিজের জীবনের আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যদি বড় হওয়ার ইতিহাস টিকু মনে পড়ে, তাহলে বহু বিপত্তির কথা ওর কষ্টের কথা, নিজের জীবনটাকে ঘোর অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল অনুভূতির কথা ভেবে শিউরন জেগে ওঠে।জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিত্ব জীবনের ইতিহাস পড়লে আজ নিজে বহু কষ্ট অনুভব করি। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার থেকে বরো হওয়ার ভাবনটা যেন বারবার নিজেকে কুড়ে কুড়ে খায় ।আমি কোন রকম ভাবে পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে গ্রাজুয়েশন করেছি।লেখার জগতে তেমনই কিছু হতো নামো কিনতে পারিনি। তবে লেখার চেষ্টা করি গল্প কবিতা ও কিছু নিজের উপলব্ধির কথা।ভারতবর্ষের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির  জন্ম দিবসে আমি আমার উপলব্ধি ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা গবেষণা মূলক কিছু কথা তুলে ধরতে চাইছি।

দেশের রাজনীতিতে যখন টালমাটাল সময়, গোটা দেশে যখন অনুভূত হচ্ছে নেতৃত্বের শূন্যতা, সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্বল করে যখন দিকে দিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর উত্থান, তখন অটলবিহারী বাজপেয়ীতেই কথা আমার কলমের তুলে ধরার ইচ্ছা অনুভূতি এবং গবেষণার চিত্র  আলোকিত করতে চলেছি  । বিভিন্ন মতামতের একগুচ্ছ রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন তাদের রাজনৈতিক ঘরানা, বিভিন্ন তাদের প্রত্যাশা, কোথাও কোথাও পরস্পর বিরোধিতাও। কিন্তু সবাই একমত হয়ে সে দিন নেতা মেনেছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে, তাঁর মধ্যেই আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিভিন্ন শিবির।সবটাই কি মহিমান্বিত? গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই কি দৈব প্রভায় আলোকিত বাজপেয়ীর? তেমনটাও তো সম্ভব নয়। বস্তুত তেমনটা ঠিক মানবিকও নয়। কিন্তু সুদীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথে জীবনের চেয়েও যেন বড় হয়ে উঠেছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছিলেন নিজের ভাবমূর্তিকে, ছোটখাটো মানবিক ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো যাকে স্পর্শ করতে পারে না।এদিকে আমি যেভাবে সোজাসাপ্টা সোজা কথা সোজা ভাবে বলতাম, ঠিক তার বিনিময়ে আমার উপরে অকথ্য অবিচার অনাচার অত্যাচার আজও চলছে।ভবিষ্যতে কি হবে জানা নেই তবে মেয়েকে ন্যায় অন্যায় কি অন্যায় আমার আছে ভবিষ্যতে থাকবে তেমনি ন্যায়কে ন্যায়, অন্যায়কে অন্যায় বলার সক্ষমতা সম্ভবত আজন্ম লালন করেছিলেন নিজের মধ্যে। সেই কোন ১৯৭১ সাল। সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের ঘোর প্রতিপক্ষ ইন্দিরা গাঁধীকে ‘দুর্গা’ বলে সম্বোধন করতে দ্বিধান্বিত হননি বিন্দুমাত্র। আর এই সে দিন ২০০২ সাল। দাঙ্গাবিধ্বস্ত গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্য সাংবাদিক সম্মেলনে ‘রাজধর্মের’ শিক্ষা দিতেও পিছপা হননি। বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, যে রাজনৈতিক উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী, তা খুব সহজে অর্জিত হয়নি। বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, তাঁর প্রয়াণে কেন শোকস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা দেশ। অন্যদিকে ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে অটল বিহারী বাজপেয়ী হলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর অবদান ভারতের প্রত্যেকটি নাগরীকের ভোলার নয় |তাঁর জন্ম হয় ২৫শে ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের গোয়ালিয়র শহরে | তাঁর বাবার নাম ছিল কৃষ্ণবিহারী বাজপেয়ী এবং মায়ের নাম ছিল কৃষ্ণা দেবী |তাঁর বাবা কৃষ্ণবিহারী ছিলেন নিজের গ্রামের একসময়কার মহান কবি আর সেই সাথে ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক |

অটল বিহারীর শিক্ষা জীবন শুরু হয় গোয়ালিয়র জেলার একটি ছোট্ট স্কুল সরস্বতী শিশু মন্দিরথেকে এবং তারপর তিনি সেখানে পড়াশোনা শেষ করে ভর্তি হন গোয়ালিয়রের লক্ষীবাঈ কলেজ |তিনি সেখানে হিন্দি, ইংরাজী এবং সংস্কৃত বিষয়ের উপর পড়াশোনা করে নিজের Graduation সম্পূর্ণ করেন | তারপর কানপুরের দয়ানন্দ এংলোবৈদিক মহাবিদ্যালয় থেকে তিনি পলিটিক্যাল সায়েন্সে M.A সম্পূর্ণ করেন | কর্মদক্ষ তাতেই প্রমাণ করিয়ে দিয়েছিলেন,ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিদেশ মন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা, সংসদের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসাবে তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশ নীতির রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।তবে রাজনীতিতে বাজপেয়ীর প্রথম অভিজ্ঞতা হয় তাঁর ছাত্র জীবনে। ১৯৪২ সালে যে আন্দোলন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তিকে ত্বরান্বিত করেছিল সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি প্রথম রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন। রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও আইনের ছাত্র হিসাবে কলেজ জীবনে তিনি বিদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন। তাঁর এই আকর্ষণ পরবর্তী সময়ে পরিণত হয় এবং পরে বহু পাক্ষিক এবং দ্বিপাক্ষিক একাধিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে তাঁকে তিনি ব্যবহার করেন।এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আরো দু বছর আগেকার কিছু কথা তুলে ধরতেই হয়।১৯৪০ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি আর এস এস (RSS)-এর অফিসার ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগদান করেছিলেন। ১৯৪২ সালের  ব্রিটিশ সরকার বিরোধী ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে যোগদানের ফলে তাঁকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।  পরবর্তীকালে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এবং জন সঙ্ঘের কাজকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।’আরএসএস’-এর পত্রিকা প্রকাশের কাজে পূর্ণ সময়ের জন্য নিয়োজিত হওয়ার ফলে তিনি আইন পড়া ছেড়ে দেন এবং ১৯৬৮ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর তিনি জনসংঘের নেতৃত্ব পান।কর্মজীবনে ভারতীয় জন সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেন অটলবিহারী। এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।১৯৭৫ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করায় অন্যান্য বিরোধী নেতার সঙ্গে বাজপেয়ীও গ্রেফতার হন। কিন্তু স্বাস্থ্যের কারণে তাঁকে দিল্লির একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা শেষ হয়। ওই বছরই মোরারজি দেশাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। মোরারজি দেশাইয়ের প্রধানমন্ত্রীত্ব কালে বাজপেয়ী বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিদেশ মন্ত্রী থাকাকালীন বাজপেয়ী ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি ‘ইউনাইটেড নেশন জেনারেল এ্যাসেম্বলি’-তে হিন্দিতে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তৃতা যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৯ সালে জনতা পার্টির পতনের ফলে তিনি পদত্যাগ করেন। ১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি দলের সূচনা হয়। বাজপেয়ী ছিলেন এই দলের প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীন ছিলেন।১৯৮৬ সালে তিনি মধ্যপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যসভার সদস্য হন। ১৯৫৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময়ে লোকসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

১৯৯৬ সালে বিজেপি সরকার গঠন করলে তিনি ভারতবর্ষের দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। কিন্তু আস্থাভোটে যথেষ্ট সংখ্যক আসন সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় মাত্র ১৩ দিনে বিজেপি সরকারের পতন ঘটে এবং বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রীত্বের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ১৯৯৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ১৩ মাসের জন্য তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু এবারও ১৩ মাস পরে জোট শরিক জয়ললিতার এআইএডিএমকে সমর্থন তুলে নেওয়ার ফলে তাঁর সরকারের পতন ঘটে। অবশেষে ১৯৯৯ সালে তিনি তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। এই সময় ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অটলবিহারীই প্রথম অ-কংগ্রেসি নেতা, যাঁর সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে সফল হয়। ১৯৯৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি, কার্গিল যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের নৃশংস আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং অবশেষে কার্গিলের যুদ্ধে ভারত জয়লাভ করে। এর ফলে তিনি পুনরায় (তৃতীয় বার) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ রয়েছে। ১৯৯৮ সালের ১১ ও ১৩ মে, রাজস্থানের ‌পোখরানে পাঁচটি পরমাণু বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তিনি ভারতকে পারমাণবিক শক্তি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।তবেই ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য দিল্লী থেকে লাহোর পর্যন্ত বাস চালু করেন। তিনি বাসে করে লাহোরে যান তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিয়ে ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর প্রচেষ্টায়।তাঁর সময়ে কাবেরী জল বিরোধের নিষ্পত্তি হয় যা বহু বছর ধরে অমীমাংসিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বৈদ্যুতিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ রেগুলেটরি কমিশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থা গঠন প্রভৃতি বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। দেশের সব বিমানবন্দর এবং জাতীয় সড়কের বিকাশ ও নতুন টেলিকম নীতি চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর্থিক উপদেষ্টা কমিটি, বাণিজ্য ও শিল্প কমিটি, জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিও গঠন করেছিলেন। তিনি কিছু অর্থনৈতিক সংস্কার করেছিলেন যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সদর্থক পরিবর্তন ঘটে। তাঁর সরকার কর প্রথার পুনর্নবীকরণ করেন। তিনি বীমা যোজনারও সূত্রপাত করেন যার ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা (NRI) ব্যাপক উপকৃত হয়। পাঁচ বছরে, তাঁর সরকার দরিদ্র, কৃষক এবং যুবকদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত করে। বিদেশি বিনিয়োগের হারও বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ভারতের চারটি দিকে জাতীয় সড়কের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করার জন্য সোনালি চতুর্ভুজ প্রকল্প শুরু করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইকে জাতীয় সড়কের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। এর ফলে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি ঘটে। গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নতির জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্প’ প্রণয়ন করা হয়। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ‘সর্বশিক্ষা অভিযান’ চালু করা হয়।

২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর  পার্লামেন্ট ভবনে সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণের ফল স্বরূপ তিনি ২০০২ সালে প্রিভেনশন অফ টেরোরিজম অ্যাক্ট  প্রণয়ন করেন।তাঁর সময় ২০০২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ‘গোধরা কান্ড’ সংঘটিত হয়। অযোধ্যা থেকে হিন্দু তীর্থযাত্রী সমেত একটি ট্রেনকে গোধরায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ৫৭ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনার ফলে যে দাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছিল, তা প্রায় দু’মাস ধরে চলেছিল এবং হাজার জন নিহত হয়েছিল। এই সময় বাজপেয়ী গোধরা এবং আমেদাবাদে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দানের কথা ঘোষণা করেন। তহেলকা দুর্নীতিও বাজপেয়ীর আমলেই ঘটেছিল।বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় ২০০০ সালের মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ভারতে আসেন। এই ঘটনা ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অসুস্থতার কারণে বাজপেয়ী রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তাঁকে ভারতের রাজনীতিতে ‘পিতামহ ভীষ্ম’ বলে অভিহিত করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অকৃতদার। কিন্তু তিনি এক কন্যা সন্তান দত্তক নিয়েছিলেন। কন্যার নাম নমিতা ভট্টাচার্য। নমিতা ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বান্ধবী রাজকুমারী এবং তাঁর স্বামী অধ্যাপক বি এন কৌলের সন্তান।এদিকে দেশ ও বিদেশে তিনি অনেক পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত  হয়েছিলেন। ১৯৯২ সাল তিনি ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত হন। ১৯৯৩ সালে কানপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট (সাহিত্যে ডক্টরেট) উপাধি পান। ১৯৯৪ সালে ‘লোকমান্য তিলক পুরস্কার’ এবং শ্রেষ্ঠ সংসদ হিসাবে ‘আউটস্ট্যান্ডিং পর্লামেন্টারিয়ান আওয়ার্ড’  পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও ১৯৯৪ সালে তিনি ‘ভারতরত্ন পন্ডিত গোবিন্দ বল্লভ পন্ত আওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বরকে ‘Good Governance Day’ হিসাবে উদযাপন করার কথা ঘোষণা করেন। ২০১৫ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারত রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ, তৎকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী নিজেই তাঁর বাড়ি যান পুরস্কারটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। ২০১৫ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ পুরষ্কার’ (বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সম্মননা) লাভ করেন। এখানে শুধু শেষ নয়।তিনি বহু কবিতা ও গদ্য রচনা করেছিলেন। তাঁর বক্তৃতা এবং বিভিন্ন প্রবন্ধ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৩ সালে তাঁর হিন্দি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। বাজপেয়ী অসাধারণ বাগ্মী ছিলেন। তাঁর বক্তৃতায় রাজনীতির আঙ্গিকের বাইরেও একটি সাহিত্য সত্তা থাকত। তাঁর রচিত ‘কেয়া খোয়া কেয়া পায়া’ ‘নয়ি দিশায়েঁ’, ‘মেরি ইকাবনা কবিতায়েঁ’ ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’  কাব্য গ্রন্থগুলি সমালোচকদের যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিল।  তাঁর কবিতাকে গজলে রূপ দিয়ে  ‘সমবেদনা’  অ্যালবামে গেয়েছিলেন শিল্পী জগজিৎ সিংহ।

‘দ্য ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’(এনসিইআরটি) সম্প্রতি তাঁর  ‘কদম মিলকর চলনা হোগা’  কবিতাটি  হিন্দি ভাষা বিষয়ক  অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক ‘বসন্ত’-এ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  অন্যদিকে শ্রী বাজপেয়ী সাংবাদিক হিসাবে তাঁর জীবন শুরু করেন। ১৯৫১ সালে আজকের ভারতীয় জনতা পার্টির পূর্ববর্তী সংগঠন ভারতীয় জনসঙ্ঘে যোগ দিয়ে তাঁর সাংবাদিক জীবন শেষ হয়। এই ভারতীয় জনতা পার্টিই জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান শরিক হয়ে ওঠে। পণ্ডিত জনের প্রশংসাধন্য এক কবি শ্রী বাজপেয়ী এখনও তাঁর ব্যস্ত জীবন থেকে সময় বের করে সঙ্গীত উপভোগ করেন এবং বিশেষ রান্নার কাজে সময় দেন।আর কি উল্লেখ করার বাকি রইল শুধু এ কাজে তিনি দক্ষ ছিলেন না। আরো দক্ষ ছিলেন মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সমতার জোরালো প্রবক্তা শ্রী বাজপেয়ী এক অগ্রগামী ও অগ্রবর্তী ভারতবর্ষের কথায়, যা বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে আপন শক্তি ও সমৃদ্ধির জোরে নিজের জায়গা করে নেবে বলে বিশ্বাস করেন। তিনি এমন এক ভারতের আদর্শের পক্ষে মত প্রকাশ করেন যার সভ্যতার ইতিহাস পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন হলেও, আগামী এক হাজার বছরের জন্য যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সর্বদা আধুনিক ও পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠছে ও নতুন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠছে।অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তাঁর নিঃস্বার্থ দেশ ও সমাজসেবা, তাঁর প্রথম ও একমাত্র ভালোবাসা ‘ভারত’ – এর জন্য নিষ্ঠাবান কাজের স্বীকৃতিতে তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ-সামরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’ প্রদান করা হয়েছে।১৯৯৪ সালে তাঁকে ভারতের ‘শ্রেষ্ঠ সংসদবেত্তা’র পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পুরস্কারের শংসাপত্রে বলা হয়েছে – তাঁর নামের প্রতি সুবিচারে, অটলজি একজন বিশিষ্ট রাষ্ট্রনেতা, বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, নিঃস্বার্থ সমাজসেবী, শক্তিশালী বক্তা, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব … অটলজি জনগণের আশা-আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক … তাঁর কাজের মধ্যে জাতীয়তাবাদের প্রতি পরিপূর্ণ নিষ্ঠার অনুরণন ঘটেছে।যখন বিজেপির অস্তিত্ব ভারতীয় সংসদ থেকে প্রায় মুছে যাওয়ার জোগার, তখন বাজপেয়ীর নেতৃত্বেই বিজেপি আবার রাজিনীতিতে নতুন জীবন পায় এবং দেশে তাঁর দল ক্ষমতাও আসে। লেখাটি শেষ করার আগেই একনজরে অটল বিহারী কে আমরা চিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি জনসংঘের সভাপতি ছিলেন এবং মরারজি দেসাইয়ের মন্ত্রিসভায়, তিনি পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবেও নিযুক্ত ছিলেন একসময় বিরোধী দলের অন্য সহকর্মীদের মতোই তাকেও জরুরী অবস্থার সময় জেলে পাঠানো হয়েছিল।

১৯৭৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে তাঁকে বিদেশমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। এই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র অধিবেশনে গিয়ে হিন্দী ভাষায় নিজের বক্তব্য পেশ করেন যা তিনি তাঁর জীবনের একটি সেরা মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিজেপির সভাপতি ছিলেন এবং এই সময়ে তিনি বিজেপি পার্লামেন্টারি পার্টির নেতাও ছিলেন। অটল বিহারী বাজপেয়ী এখনও পর্যন্ত নয়বার লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে তাঁকে গোয়ালিয় জেলার নির্বাচনে কংগ্রেসের একজন বিখ্যাত নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়ার কাছে অনেক ভোট হারতে হয় | তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার একজন সদস্য ছিলেন। ১৯৬৬ সালে ভারতীয় জনসাধারণ, রাজিনীতিতে একটি পরিবর্তনের আশায় ছিল, তাই বেশিরভাগ মানুষ অবশেষে তখন বিজেপিকে বিপুল ভোটে জয়ী করে আনলো |সেইসাথে প্রথমবারের জন্য অটল বিহারী বাজপেয়ীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেন। কিন্তু এই প্রধানমন্ত্রীত্ব তাঁর বেশিদিন কপালে ছিলোনা | মাত্র ১৩ দিনের মাথায় সব কিছু শেষ হয়ে যায়।

কিন্তু এইসবের পরেও বাজপেয়ীর মনোবল একদমই ভাঙ্গেনি। তিনি আবার ১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর পার্টির বাকি সহকর্মীদের সাথে একজোট হয়ে, লোকসভায় তাঁর পার্টির সর্বাধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অবশেষে প্রমান করেন এবং আবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠেন। অটল বিহারী বাজপেয়ীর সময়ে, ভারত একটি পারমাণবিক শক্তি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়ে ওঠে। তিনি পারস্পরিক বাণিজ্য ও ভ্রাতৃত্বকে উন্নীত করার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কাশ্মীর সমস্যা সমাধান করার অনেক চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু ১৩ মাস ব্যাপী মহান কর্মকান্ডের পর, তাঁর সরকার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে মাত্র এক ভোটে হেরে যায়। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। তারপর, ১৯৯৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি, কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানের নৃসংশ আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং অবশেষে কার্গিলের যুদ্ধে ভারত জয়ের মুখ দেখে। যুদ্ধ শেষে কিছুদিন পরেই,পুনরায় নির্বাচন হয় এবং জনগণের সমর্থনে তাঁর সরকার আবার পুন:গঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সেইসময় তিনি তাঁর ক্ষমতার কিছু বিশেষ পরিচয় দেন সকলের মাঝে। ১৯৯৮ সালের ১১ই ও ১৩ই মে, পোখরানে পাঁচটি পারমাণু বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অটল বিহারী বাজপেয়ী ভারতকে পারমাণবিক শক্তি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সালে, পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি সদা-ই-সারহাদ নামে দিল্লী থেকে লাহৌর পর্যন্ত বাস ব্যবস্থা চালু করেন।

স্বর্ণ চতুর্ভুজ প্রকল্প : কাবেরী জল বিরোধের নিষ্পত্তি করেন, যেটা কিনা ১০০ বছরেরও বেশি সময়কার বিরোধ ছিল।

কাঠামোগত সৌধের জন্য বড় টাস্ক ফোর্স, বৈদুতিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ রেগুলেটরি কমিশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য তথ্য ও প্রযুক্তি কার্যসংস্থার গঠন ইত্যাদি তিনি করেন।

দেশের সব বিমানবন্দর এবং জাতীয় সড়কের বিকাশ ও নতুন টেলিকম নীতি চালু করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

আর্থিক উপদেষ্টা কমিটি, বাণিজ্য ও শিল্প কমিটি, জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিও গঠন করেছিলেন, যারফলে কাজ খুব দ্রুত হতে থাকে দেশে।

urban ceiling act কে সমাপ্ত করে আবাস নির্মাণকে উৎসাহ দেন।

তিনি বীমা যোজনারও সূত্রপাত করেন যার ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা (NRI) ব্যাপক উপকৃত হয় |

অটল বিহারীর এই সরকার সফল ভাবে তার মেয়াদ শেষ করে এবং এর মাধ্যমে তিনি দেশে জোটের রাজনীতিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন | ওই পাঁচ বছরে, এনডিএ সরকার দরিদ্র, কৃষক এবং যুবকদের জন্য অনেক সুন্দর প্রকল্পের বাস্তবায়নও করেছিল |

তাঁর সরকার, ভারতের চার দিকে জাতীয় সড়কের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করার জন্য স্বর্ণ চতুর্ভুজ প্রকল্পটি শুরু করে|

যারফলে দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইয়কে জাতীয় সড়কের মাধ্যমে যুক্ত করা হয় | এরফলে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থারও অনেক উন্নতি সাধন হয় |

অবিরাম অসুখের কারণে এরপর Atal Bihari Vajpayee রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অটলজী ভারতীয় রাজনীতিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে চলে গেছিলেন, যা সবসময় মনে রাখার মত |

দেশ ও বিদেশে তাঁকে অনেক পুরস্কার ও সন্মানেও ভূষিত করা হয়েছিল| ২৫শে ডিসেম্বর ২০১৪ সালে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বাজপেয়ীজীকে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান “ভারত রত্ন” হিসাবে ভূষিত ঘোষণা করা হয় ।

তাঁকে সম্মান জানাতে, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী নিজেই তাঁর বাড়ি ২৭ শে মার্চ ২০১৫ সালে গেছিলেন পুরস্কারটি দেওয়ার জন্য । তাঁর জন্মদিন ২৫শে ডিসেম্বরকে “good governance day” হিসাবে উদযাপন করা হয় সারা ভারতে।

১৯৯২ সাল: পদ্মভূষণ

১৯৯৩ সাল: ডি.লিট (সাহিত্যে ডক্টরেট), কানপুর বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৯৪ সাল: লোকমান্য তিলক পুরস্কার,শ্রেষ্ঠ সংসদ হিসাবে পুরস্কার,ভারতরত্ন পন্ডিত গোবিন্দ বল্লভ পন্ত পুরস্কার

২০১৫ সাল: ভারত রত্ন, মুক্তিযুদ্ধ পুরষ্কার (বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সম্মননা)

অটল বিহারী বাজপেয়ী তাঁর শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন ১৬ই অগাস্ট ২০১৮ সালে, All India Institute of Medical Sciences (AIIMS) হাসপাতালে বিকেল ৫:০৫ মিনিটে | মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৯৩ বছর। তাঁর মৃত্যুতে গোটা ভারতবর্ষের মানুষ আজ গভীর ভাবে শোকাহত।



Related Articles

Back to top button