রাজনীতিরাজ্য

নাম না করে রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে বার্তা দিলেন শুভেন্দু?বিস্তারিত!

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিষয়টা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। রাজ্য বিজেপি সেই পথেই এগোতে চায়। সেটা হচ্ছে ক্রমাগত ধাক্কা দিতে হবে তৃণমূলকে। অর্থাত্‍ তৃণমূল ভাঙিয়ে নেতা-মন্ত্রী, বিধায়কদের বিজেপিতে নিয়ে আসতে হবে।

সেই কাজ বহুদিন ধরেই শুরু করে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার পর সেই প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে আরো গতি পেয়েছে। সেটা দেখা গিয়েছে মেদিনীপুর কলেজ ময়দানের সভায়।

যেখানে এক ঝাঁক তৃণমূলের বিধায়ক, সাংসদরা দল পরিবর্তন করেন। শুভেন্দু সেখানেই বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। এই ধারা যে চলতেই থাকবে, তা আরো একবার স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু।

শুক্রবার ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে শুভেন্দু রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধন পান্ডেকে দল ছাড়ার আহ্বান করেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন কাঁথিতে বিজেপির যোগদান মেলা কর্মসূচি ছিল।

সেখানে কাঁথি পুরসভার ১৫ জন বিদায়ী কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগদান করেছেন তৃণমূল ছেড়ে এসে। শুভেন্দুর ভাই সৌমেন্দু অধিকারীও এদিন যোগ দেন বিজেপিতে।

সেই সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,” পিসি এবং ভাইপো এই দেড়জনের সরকার চলছে। ওটা দল না বলে কোম্পানি বলা উচিত। সেখানে একটাই পোস্ট, বাকিরা সবাই ল্যাম্পপোস্ট। সবাই সেখানকার কর্মচারী।

আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠা দিবসেও তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ বর্ধমানে

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট রাজ্য চালাবে? সবাই সেখানে কর্মচারী? ৫০০ বছরের হাওড়া শহর উপেক্ষিত, অবহেলিত। উত্তর কলকাতায় শুধু একজন বাটখারা মন্ত্রী দেওয়া হয়েছে। সবাইকে ভাবতে হবে”।

বলাবাহুল্য হাওড়া এবং উত্তর কলকাতা বলে শুভেন্দু এদিন রাজ্যের দুই মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধন পান্ডেকেই বুঝিয়েছেন। তবে তাঁদের কি তিনি আবারও বিজেপিতে যোগদান করার আহ্বান জানালেন এভাবেই? এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের সভা থেকেও এমন আহ্বান করেছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য এদিন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডে ফের দলকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূলে ভাল, খারাপ দুই আছে।

কারা ভালো সেটা দেখতে হবে। খারাপদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই শুভেন্দু যেভাবে বাটখারা মন্ত্রী বলে সাধন পান্ডের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন, তা বেশ তাত্‍পর্যপূর্ণ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে। তৃণমূল ছেড়ে আরো নেতাকর্মী যে বিজেপিতে আসবেন, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। প্রতিদিন দলবদল হবে। তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না। উল্লেখ্য সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সংবাদমাধ্যমে রায় এবং বন্দ্যোপাধ্যায় পদবির উল্লেখ করে একটি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেছেন এই দুজনের মধ্যে যে কেউ বিজেপিতে আসবেন।

তিনি দুই মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়ের কথা বলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাই শুভেন্দু এদিন আবার হাওড়ার প্রসঙ্গ তোলায় সেই প্রসঙ্গ আরো জোরালো হচ্ছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে।

চলতি মাসেই রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর হাত ধরে তৃণমূলে নতুন করে বড় ভাঙন ধরে কিনা এখন সেটাই দেখার।

 

সুত্র: প্রথম কলকাতা

আরও পড়ুন ::

Back to top button