ঝাড়গ্রাম

পাল্টাসভায় জনজোয়ার, ভরামাঠে নাড্ডাকে কটাক্ষ পার্থের

স্বপ্নীল মজুমদার


পাল্টাসভায় জনজোয়ার, ভরামাঠে নাড্ডাকে কটাক্ষ পার্থের - West Bengal News 24

ঝাড়গ্রাম: কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে বেচে দেওয়ার সরকার বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম শহরের জামদা সার্কাস ময়দানে দলীয় এক জনসভায় ভিড়ে ঠাসা মাঠ দেখে পার্থবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জঙ্গলমহলের মানুষ আছেন।

কিছুদিন আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঝাড়গ্রাম শহরে জনসভা করেছিলেন, সেই সভায় ১৫-১৬ হাজার মানুষের ভিড় হয়েছিল। আর তারপরেই বিজেপি দাবি করতে থাকে জঙ্গলমহলে তৃণমূলের আর কোনও সংগঠন নেই। তবে গত মঙ্গলবার লালগড়ে বিজেপির রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ জগৎপ্রকাশ নাড্ডার সভায় তেমন লোক হয়নি। গত বৃহস্পতিবার গোপীবল্লভপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা উপলক্ষে এক সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বর্তমান বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে উঠেছিলেন। কিন্তু ওই সভাতেও তেমন লোক হয়নি। তারপরে তৃণমূল শিবির থেকে বলা হতে থাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জঙ্গলমহলের মানুষ রয়েছেন। আর এন জনসভায় ভরা মাঠ দেখে পার্থবাবু বলেন, আপনারা প্রমাণ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনারা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। এটাই বিজেপির সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

আরও পড়ুন : বাংলাকে রক্ষা করতে চায় না বিজেপি: মমতা

বিজেপির যাবতীয় কুৎসা ও অপপ্রচারের যোগ্য জবাব আপনারা দিয়েছেন। পার্থবাবু অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সব কিছু বিক্রি করে দিচ্ছে। ওরা এলআইসি, এয়ারপোর্ট, বিমান বন্দর, রেলওয়ে বেসরকারিকরণ করে দিচ্ছে। ওরা মানুষের ভাল চায় না। বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করে পার্থবাবু বলেন, ওটা বেচে দেওয়া সরকারয় এরপরই তিনি বলেন, এবার বিধানসভা ভোটে আমাদের স্লোগান ‘বেচে দেওয়া সরকার আর নেই দরকার’। জেলার চারটি বিধানসভা আসনে দলীয় প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জেতানোর আবেদন করে পার্থবাবু বলেন, মনে রাখবেন গত দশ বছরে জঙ্গলমহলের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঝাড়গ্রাম পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কিষাণ বাজার থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম আরো কত কি। লালগড়, নয়াগ্রা ম সেতু হয়েছে। অবরুদ্ধ এলাকায় মানুষের যাতায়াতের পথ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর উদ্যোগে এই জঙ্গলমহলে আদিবাসীদের জন্য সাঁওতালি ভাষায় অলচিকি লিপিতে এখন বিশ্ববিদ্যালয়স্তর পর্যন্ত পঠনপাঠন চালু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও পাঁচশো সাঁওতালি স্কুল দিচ্ছেন। তার মধ্যে বেশ কিছু স্কুল এই জঙ্গলমহলের জেলা ঝাড়গ্রামে হবে। পার্থবাবু মনে করিয়ে দেন, এবার বাজেটে ওই স্কুলগুলোর বরাদ্দ দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে সব প্রতিশ্রুতি দেন, তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। সেই সঙ্গে তৃণমূল থেকে যেসব নেতা বিজেপিতে চলে গেছেন তাদের উদ্দেশ্যে পার্থবাবু বলেন, অনেক দলবদলু নেতা এখন বলছেন তাঁরা নাকি জঙ্গলমহলের ত্রাণকর্তা ছিলেন। আমি বলব তাঁরা ত্রাণকর্তা নয়, তাঁরা পকেট ভরার কর্মকর্তা ছিলেন। জঙ্গলমহলের মানুষের দুঃখে কখনো তাঁদের দেখা যায়নি। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে এক দু’টো সেলাই মেশিন দিয়ে তাঁরা বড় বড় করে প্রচার করেছেন।

বিজেপির রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ নাড্ডাকে এক হাতে নিয়ে পার্থবাবু বলেন, নাড্ডাবাবু প্লেনে এসে দেখুন এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মানুষের কেমন সমর্থন রয়েছে। সভায় তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো বলেন, এই সভা আজ প্রমাণ করে দিয়েছে জঙ্গলমহলের মাটি ঘাসফুলের জন্যই। এখানে পদ্মফুল ফুটবে না। সভায় বিজেপির জেলাস্তরের সমস্ত নেতা-নেত্রী ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন সদ্য তৃণমূলের এসটি সেলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত দেবু টুডু। দেবুবাবু বলেন, দশ বছর আগে জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল আর দশ বছর পরে আদিবাসীরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই।

এদিন তৃণমূল নেতাদের হিসেবে ঝাড়গ্রাম সার্কাস ময়দানে কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজার লোক হয়েছিল।

আরও পড়ুন ::

Back to top button