রাজ্য

রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ১০


রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ১০ - West Bengal News 24

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে তৃণমূল ও বিজেপি।

সহিংসতার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করে বিজেপি বলেছে, তৃণমূল বড় জয় পাওয়ার পরেও এ ধরনের সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য।

তবে রাজ্যবাসীকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

বিবিসি জানায়, এ অবস্থায় সহিংসতার বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবেদন চেয়েছে।

রবিবার ভোট গণনায় তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসন পেয়ে তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বসছে।

তবে এবারের নির্বাচনের শুরু থেকেই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যকার চরম বিরোধ উত্তাপ ছড়িয়েছে। নির্বাচন চলাকালেও কয়েকটি জায়গায় সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।

এরই জের ধরে রবিবার ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরপরই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠে।

রবিবার বিকেল থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত এসব সহিংসতায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রগুলো বলছে। বেশ কিছু জায়গা থেকে বোমাবাজি, ভাংচুর ও লুটতরাজের খবর পাওয়া গেছে।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনকে বিজেপি তাদের কর্মী বা সমর্থক দাবি করেছে। আর তৃণমূল বলছে তাদের চারজন এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফোর্স বা আইএসএফ বলছে তাদেরও একজন নিহত হয়েছেন প্রতিপক্ষের হামলায়।

সোমবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকালেও সহিংসতার প্রসঙ্গ এনেছিলেন রাজ্যপাল।

জবাবে মমতা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করছে। তবুও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যা করার তা আমি দেখবো।’

তিনি বলেন, ‘যদিও আমরা জানি বিজেপি ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী অনেক অত্যাচার করেছে, তবুও আমাদের শান্তি বজায় রাখতে হবে।’

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘এতো বিপুল সমর্থন নিয়ে তৃণমূল জিতেছে তারপরেও কেন হিংসা। পুলিশের সামনে আগুন, লুটতরাজ হচ্ছে কিন্তু পুলিশ কিছু বলছে না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

জানা গেছে, সহিংসতায় শীতলকুচি, দীনহাটায়, কলকাতায় ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় একজন করে নিহত হয়েছেন, যাদেরকে বিজেপি তাদের কর্মী দাবি করে হত্যাকাণ্ডের জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছে।

অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানে তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের নিজেদের কর্মী দাবি করে তাদের হত্যার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে তৃণমূল।

এছাড়া আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফোর্স বা আইএসএফ উত্তর চব্বিশ পরগনায় তাদের একজন কর্মীকে হত্যার জন্য তৃণমূলকে অভিযুক্ত করেছে।

এদিকে নির্বাচনে জয়ী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আবারো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য আড়ম্বরহীন শপথ অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

আরও পড়ুন ::

Back to top button