রাজ্য

সোমবার অনাড়ম্বর ভাবেই রাজভবনে শপথ নেবেন মমতার নয়া মন্ত্রিসভা

তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১০.৪৫। বঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৈরি হয় এক নয়া অধ্যায়। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য বাংলা শাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়। ‘জননেত্রী’কেই ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছেন বাংলার মানুষ। বুধবার রাজভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেও সেদিন মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করাননি রাজ্যপাল। ঠিক ছিল রবিবার হবে শপথগ্রহণ!

সোমবার মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ
রবিবার রবীন্দ্রসদনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে ছোট করেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাতিল হল সেই অনুষ্ঠান। জানা গিয়েছে, সোমবার রাজভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। করোনা পরিস্থিতিতে খুব অনাড়ম্বর করেই এই অনুষ্ঠান হবে বলে ঠিক হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে হবে এই অনুষ্ঠান। তৃণমূল সূত্রের খবর, যাতে ভিড় না হয় সে কারনে সবাই সেদিন শপথ নেবেন না।

ক্যাবিনেট মন্ত্রীরাই ওদিন শপথ নেবেন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান দ্রুত কাজ শুরু করতে। বিশেষ করে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা আগে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করুক। অনেক কাজ বাকি পড়ে যাচ্ছে। আর সেই কারনেই সোমবার ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের প্রথম শপথ গ্রহণ করাতে চান মমতা।

বাকি শপথ গ্রহণ ফের পরে হবে
একটা মন্ত্রিসভায় ৪৪ জন সদস্য থাকতে পারেন। গত বার সমস্ত দফতর মিলিয়ে মমতা মন্ত্রিসভাতেও মন্ত্রীরা কম ছিলেন না। তবে করোনা পরিস্থিতিতে মমতা চান না সবাইকে একসঙ্গে ভিড় করুক রাজভবনে। তাই প্রথমে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা শপথ নেবেন এরপর ধীরে ধীরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেবেন বলে ঠিক হয়েছে।

অর্থ দফতরের দায়িত্বে সম্ভবত অমিত মিত্র!
নাম ঘোষণার সময়ে মুখমন্ত্রীকে কেউ প্রশ্ন করেন কে হবেন অর্থমন্ত্রী? যেহেতু অসুস্থতার কারণে অমিত মিত্র এবার ভোটে দাঁড়াননি সেহেতু স্বভাবতই মমতার নয়া মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীকে হবেন তা নিয়ে জল্পনা রয়েছেই। যদিও সেই সময় মমতা প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, আমার হাতেই থাকবে অর্থ দফতরের দায়িত্ব। যদিও সূত্র বলছে সম্ভবত এই দফতরের দায়িত্বে ফের অমিত মিত্রকেই আনা হবে। ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও খবর। এমনটাই তৃণমূল সূত্রে খবর

কারা কোন দফতর পেতে পারেন
মমতার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুনজরে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে তাঁর জীবনযাপন নজর কেড়েছে তাঁর। এমনকি মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনও রিক্স চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁকেই এবার অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী করা হতে পারে বলে খবর। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন পরেশ চন্দ্র অধিকারী।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হতে পারেন তিনি। কারন এবার প্রাক্তন দুই মন্ত্রী অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং গৌতম দেব ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ফলে পরেশ অধিকারীর নাম সামনে আসছে। সামনে আসছে বিপ্লব মিত্রের নামও। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু একটা সময়ে বিজেপিতে গেলেও ফের তৃণমূলেই ফেরেন বিপ্লব। উত্তরবঙ্গে তাঁর নেতৃত্বেই তৃণমূলের সংগঠন মজবুত হয়েছে। পায়ের তলার মাটি ফিরে পেয়েছে তৃণমূল। আর তাই বিপ্লব মিত্রকে মন্ত্রী করে পুরস্কৃত করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্ত্রী হিসাবে ফিরবেন মদন
রাজ্যের পরিবহন দফতর ফের ফিরে পেতে পারেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন বিরবাহা হাঁসদা। আদিবাসী সমাজের মেয়ে। জনপ্রিয়তাও রয়েছে। আর তাই তাঁকে আধিবাসী মানুষের দুঃখ দুর্দশা কাটাতে এবং মন বুঝতে বিরবাহাকে গুরু দায়িত্ব মমতা দিতে পারেন। সূত্রের খবর, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী হতে পারেন বিরবাহা। অন্যদিকে, চন্দননগরের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে এ বার পর্যটন দফতরের পূর্ণমন্ত্রী করতে পারেন মমতা।

ব্রাত্য বসুকে শিক্ষা দফতরে ফিরিয়ে আনতে পারেন মমতা। একাধিক বিষয় নিয়ে চাপে শিক্ষাদফতর। আর সেই কারনে ব্রাত্যকে সামনে রেখেই শিক্ষা দফতরকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন মমতা। । এও শোনা যাচ্ছে, শিক্ষা দফতরের কাজে আরও স্বচ্ছতা আনতে উচ্চশিক্ষা এবং স্কুল শিক্ষা দফতর দু’টিকে দু’ভাগে ভাগ করে পৃথক দুই মন্ত্রীর কাঁধে দায়িত্ব তুলে দিতে পারেন নেত্রী।

মনোজ তিওয়ারি পেতে গুরু দায়িত্ব
অন্যদিকে অভিজ্ঞতা রয়েছে সেচ দফতর পরিচালনার। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই দফতর বেশ ভালো কাজ করেছিল। আর সেই ধারাই ধরে রাখতে চান মমতা। আর সেই কারনে রাজ্যের সেচ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন ডা. মানস রঞ্জন ভুঁইয়া। নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক আসতে পারেন মন্ত্রিসভায়। মনোজ তিওয়ারিকে দেওয়া হতে পারে ক্রীড়া দফতরের প্রতিমন্ত্রক। হুগলির বিধায়ক তথা প্রাক্তন সংসদ রত্না দে নাগ হতে পারেন স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। এমনটাই সূত্রেত খবর।

পুরস্কৃত হতে পারেন অখিল গিরি
অন্যদিকে তৃণমূল সূত্রের খবর, কৃষি মন্ত্রী হতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার। সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অন্যতম নেতা তথা সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম মান্নাও মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন। হাওড়া থেকে অরূপ রায়ের পাশাপশি মন্ত্রিসভায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে পুলক রায়ের। মালদার সুজাপুর আসনের বিধায়ক আবদুল গনি পেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কলকাতায় দেবাশীষ কুমার ও দেবব্রত মজুমদারে মধ্যে একজন হতে পারেন প্রতিমন্ত্রী।

অখিল গিরি মমতার মন্ত্রিসভায় গুরু দায়িত্ব পেতে পারেন। যেভাবে অধিকারী গড়ে তিনি এবং তাঁর টিম অধিকারী পরিবারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে দিয়েছেন তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি। আর তাই তাঁকে মন্ত্রী পদে আনতে পারেন মমতা। বেশ কয়েকজন তারকারও মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর মধ্যে থেকে রাজের নাম সামনে আসছে। তথ্য সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে তাঁকে। এমনই বেশ কিছু সম্ভাব্য নাম উঠে আসছে মমতার মন্ত্রিসভায় যারা জায়গা করে নিতে পারেন।

সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন ::

Back to top button