জাতীয়

এবার ওড়িশার রোগীর শরীরেও ধরা পড়ল ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ সংক্রমণ

এবার ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের প্রকোপ ওড়িশাতেও! ৭১ বছরের এক কোভিড রোগীর দেহে এ রাজ্যে প্রথম মিলল এই ছত্রাক সংক্রমণ। জানা গেছে, চড়ামাত্রার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন ওই রোগী। কোভিডমুক্ত হলেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ছড়ায় বুকে। চিকিত্‍সকরা জানিয়েছেন, ছত্রাকের সংক্রমণ নিকেশ করতে চিকিত্‍সা চলছে ওই রোগীর।

সেই সঙ্গে নজর দেওয়া হয়েছে ডায়াবেটিসের দিকেও। ডক্টর মহান্তির কথায়, ‘এপ্রিলের ২০ তারিখে ওই রোগীর কোভিড ধরা পড়ে। প্রথমে হোম আইসোলেশনে ছিলেন তিনি, সেখানেই চলছিল চিকিত্‍সা। হঠাত্‍ই তাঁর চোখ ফুলে যায় এবং নাক দিয়ে কালো কালো কিছু বেরোতে থাকে। মে মাসের ৮ তারিখে নাসাল এন্ডোস্কোপি করে দেখা যায়, ফুসফুসে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হয়েছে তাঁর।’ এর পরেই মিউরোমাইকোসিস অসুখ চিহ্নিত করেন চিকিত্‍সকরা।

জানা যায়, তাঁর বাড়ির এয়ার কুলারে জমা পুরনো জলে এই ছত্রাক জন্মেছিল, যা থেকে সংক্রামিত হয়েছেন বৃদ্ধ। চিকিত্‍সার পরে আপাতত ভাল আছেন তিনি। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ডিজিজ বা মিউকরমাইকোসিস কোভিড রোগীদের মধ্যেই বেশি ছড়াচ্ছে। চিকিত্‍সাধীন করোনা রোগী বা অসুখ সারিয়ে ওঠার পরে মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। ছত্রাকের সংক্রমণ চোখ, গলা, ত্বক এমনকি মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে।

দিল্লিতে কয়েক জন রোগীর দেহে প্রথম ধরা পড়ে এই সংক্রমণ। তার পরে খবর মিলল ওড়িশাতেও। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস বিষাক্ত ছত্রাকের থেকে ছড়ায়। মিউকরমাইসিটিস গোত্রের একাধিক ছত্রাক প্রজাতি এই সংক্রমণের জন্য দায়ী। পচনশীল জৈব পদার্থ থেকে এদের জন্ম হয়। পচে যাওয়া গাছের পাতা, নোংরা-আবর্জনা, প্রাণীর মৃতদেহ বা মলমূত্র ইত্যাদি থেকে এই ছত্রাক জন্ম নেয়। এদের রেণু বাতাসে মিশে ভেসে বেড়ায়। শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে গেলে দেহকোষগুলিকে সংক্রামিত করে।

নাক, মুখ, ত্বকের ছিদ্র দিয়েও সহজে ঢুকে পড়ে মানুষের শরীরে। গবেষকরা বলছেন, শরীর যদি দুর্বল হয় ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে আসে তাহলে এই ছত্রাকের রেণু শরীরে ঢুকলে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত ফুসফুস, চোখ, কিডনি ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়ায় এই ছত্রাক। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। সঠিক সময় চিকিত্‍সা না হলে রোগ প্রাণঘাতীও হতে পারে।

সূত্র: দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button