আন্তর্জাতিক

‘ধর্মীয় উগ্রবাদকে মদদ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে মূল্য দিতে হবে’

পাকিস্তানের ভেতরে উগ্রপন্থা ও ধর্মীয় মৌলবাদ চর্চার বিষয়টি সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট সামনে এনেছে। দেশটিতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সেইসঙ্গে দেশটিতে সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা বাড়ছে। এসব ঘটনায় শুধু পাকিস্তানে নয় এর আশপাশের দেশগুলোতেও উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক অশোক ভান।

সংবাদমাধ্যম সানডে গার্ডিয়ানে মতামতধর্মী একটি নিবন্ধে তিনি এসব কথা বলেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানে ফরাসিবিরোধী বিক্ষোভ ছড়ানোর ক্ষেত্রে দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের (টিএলপি) বড় ভূমিকা পালন করছে। যদিও পাকিস্তান সরকার এই দলটির বিলুপ্তি ঘোষণা করেছে, তবুও পাকিস্তানজুড়ে দলটির শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুযায়ী, টিএলপি দেশটির পঞ্চম বৃহত্তম দল। দলটির অন্যতম নেতা ছিলেন আল্লামা খাদিম রিজভী, তিনি ধর্ম অবমাননার বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে তার পক্ষে মানুষজনকে টেনেছেন।

তার মৃত্যুর পর দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার ছেলে সাদ হুসেইন রিজভী। তিনিও তার বাবার পথেই হাঁটছেন।

মহানবী (সাঃ)-র কার্টুন দেখানোর অধিকারের পক্ষে ফ্রান্স যুক্তি দেওয়ার পর সাদ হুসেইন রিজভীর নেতৃত্বে পাকিস্তানে কয়েক মাস আগে ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। পাকিস্তান ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেয়। দলটি পাকিস্তান থেকে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানায়।।

টিএলপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার। সেইসঙ্গে সাদ রিজভীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিজভীর গ্রেপ্তার এবং টিএলপিকে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর দলটির হাজার হাজার সমর্থক পাকিস্তানের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ছোঁড়ে, এবং টিয়ার গ্যাস ও জল-কামান ব্যবহার করে। সংঘর্ষে কয়েক পুলিশ সদস্য নিহত হন।

অশোক ভান বলেছেন, পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং সহিংসতার ঘটনাও ব্যাপক হারে বাড়ছে। দেশটির বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিস (সিএসজে) জানিয়েছে, পাকিস্তানে ১৯৮৭ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৮৫৫ জনকে ধর্ম অবমাননায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৫ জন মুসলমান। একই সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৭৫ জনকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট একটি সভায় নিন্দা প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান সরকারকে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের প্ররোচনায় নিন্দা করা এবং পাকিস্তানে বিদ্যমান ফরাসিবিরোধী মনোভাবের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইইউর সঙ্গে ব্যবসা কমানোর পাশাপাশি পাকিস্তানকে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) কালো তালিকায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে কঠোর ব্লাসফেমি আইনগুলো বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button