আন্তর্জাতিক

কেন শিশুদের উপর বোমা ফেলছে ওরা? প্রশ্ন ছোট নাদিনের (ভিডিও)

ছোট্ট নাদিন আবদেল তইফের বয়স ১০, ফিলিস্তিনি হলেও ইংরেজি ভাষায় বেশ পারদর্শীতা তার। নিজের দেশে ইসরায়েলি সন্ত্রাসী হামলায় চোখের পানি থামছে না তার। গত কয়েকদিনে পাড়া-প্রতিবেশীর মৃত্যু দেখেছে সে। চোখের সামনে পড়ে থাকতে দেখেছে শিশুর লাশ। এমন সহিংসতা থামানো উপায় নেই তার কাছে। কিন্তু, কেন শিশুদের বোমা মারা হচ্ছে, গাজার ছোট্ট নাদিন তা জানতে চায়।

নাদিনের কান্নার ভিডিও এখন সামাজিক যোগযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল। এক সাংবাদিককের করা তার কিছু প্রশ্নের উত্তরও হাতড়ে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গাজার এক ধ্বংসস্তুপের সামনে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংবাদমাধ্যম মিডিলইস্টআইকে নাদিন বলছে, ‘আমি অসুস্থ হয়েছে যাচ্ছি এসব দেখতে দেখতে। আমি জানি না, আমি কিছু করতে পারছি না। আপনারা সবই দেখতে পাচ্ছে। কি আশা করেন, আমি কী করব? এসব ঠিক বরবো? আমার মাত্র ১০ বছর। আমি এসবের সঙ্গে আর পেরে উঠছি না।’

ধ্বংসস্তূপটি দেখিয়ে কান্নারত অবস্থায় নাদিন আবদেল তইফ বলছে, ‘কী করব আমি? আমার কী ক্ষমতা আছে? আমার বয়স মাত্র ১০ বছর। আমি চিকিৎসক হতে চাই, বা অন্য কিছু আমার লোকেদের সাহায্য করতে। কিন্তু আমি কিছু করতে পারছি না। আমি এখনও শিশু, জানি না আমার কী করা উচিৎ। আমি ভীত হয়ে পড়ছি।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি যখনই এসব দেখি, আমার কান্না পায়। শুধু ভাবি, কেন আমাদের ওপরই হামলা হচ্ছে? বাড়ির লোকেরা বলে, আমরা মুসলিম বলে ওরা আমাদের ঘৃণা করে। এখানে এত শিশু থাকে। কেন শিশুদের উপর বোমাবর্ষণ করছে ওরা?’

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা ও ট্যাংক হামলায় ৫৫ নিষ্পাপ ফিলিস্তিনি শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত হতাহত নিয়ে হালনাগাদ তথ্যে এমন খবর জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

৩৩ জন নারীসহ মোট ১৮৮ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে গাজায়। এ ছাড়া গাজা থেকে বিচ্ছিন্ন পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছে আরও ১৩ ফিলিস্তিনি। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন। বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় গুরুতর আহত অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সংঘাতে পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button