আন্তর্জাতিক

ভারতীয় যুবককে মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচালেন আমিরশাহির এনআরআই শিল্পপতি, দিলেন ১ কোটি টাকা ‘ব্লাড মানি’

ভারতীয় যুবককে মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচালেন আমিরশাহির এনআরআই শিল্পপতি, দিলেন ১ কোটি টাকা ‘ব্লাড মানি’ - West Bengal News 24

সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ২০১২ সালে পথ দুর্ঘটনায় এক সুদানি কিশোরকে মেরে ফেলায় দোষী সাব্যস্ত কেরলের এক ব্যক্তিকে ১ কোটি টাকা ব্লাড মানি দিয়ে বাঁচালেন অনাবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ী ধনকুবের। ২০১২র সেপ্টেম্বর বেলাগাম গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন ৪৫ বছর বয়সি কেরলের লোক বেকস কৃষ্ণান। একদল বাচ্চার ভিড়ে তাঁর গাড়ির চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় সুদানি কিশোর। আমিরশাহির সুপ্রিম কোর্ট কৃষ্ণানকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

কেরলের লোকটির পরিবার, বন্ধুবান্ধবরা সেই থেকে তাঁর মুক্তির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। কিন্তু সমস্যা হয় নিহত কিশোরের পরিবার সুদানে পাকাপাকি ফিরে যাওয়ায়। কৃষ্ণাণকে ক্ষমা করে মৃত্যুদণ্ড মকুব করার কোনও রকম আলোচনার রাস্তাই আর খোলা থাকে না। শেষে কৃষ্ণানের পরিবার লুলু শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনাবাসী ভারতীয় ইউসুফালির সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি উদ্যোগ নিয়ে মামলার যাবতীয় নথি ঘেঁটে দেখে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি সুদানি কিশোরের পরিবার রফায় আসে যে, তারা কৃষ্ণানকে রেহাই দেবে, বিনিময়ে ৫ লাখ দিরহাম (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ বা ব্লাড মানি হিসাবে দিতে হবে। আরব দুনিয়ায় এমন রফার প্রচলন আছে। দোষীকে তার হাতে নিহতের পরিবারকে অর্থ দিতে হয়, যাকে ব্লাড মানি বলা হয়। কৃষ্ণানের মুক্তির জন্য পুরো অর্থই ইউসুফালি আদালতে দেন বলে বিবৃতি দিয়ে বলেছে লুলু গ্রুপ। জীবনের চাকা যে এভাবে ঘুরে যাবে, এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না কৃষ্ণানের।

আবু ধাবির আল ওয়াতবা জেলে ভারতীয় দূতাবাস কর্তাদের তিনি বলেছেন, আমি পুনর্জন্ম পেলাম। মুক্ত জীবন তো দূর অস্ত, বাইরের পৃথিবীকে দেখার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। পরিবারের কাছে ফেরার আগে ইউসুফালিকে একবার দেখব, এটাই আমার ইচ্ছে। আর ইউসুফালি? কৃষ্ণানের মুক্তির জন্য তিনি স্রেফ সর্বশক্তিমানকে, আমিরশাহির উদার, ক্ষমাশীল, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসকদের ধন্যবাদ দিয়ে প্রার্থনা করছেন, কৃষ্ণনের বাকি জীবনটা শান্তি, সুখে ভরে থাকুক।

৯ বছর আমিরশাহির জেলে কাটিয়ে শীঘ্রই কেরল ফিরছেন কৃষ্ণান। প্রসঙ্গত, আমিরশাহিতে লুলু গ্রুপের লুলু হাইপারমার্কেটস ও শপিং মলের ব্যবসা আছে। মধ্য প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী তারা।

সুত্র : দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button