ঝাড়গ্রাম

টোটোয় চেপে প্রতিষেধক দান কেন্দ্রে ৯৫ বছরের প্রমীলা বেজ

স্বপ্নীল মজুমদার

ঝাড়গ্রাম: বয়স তো কেবল সংখ্যামাত্র। মনের জোরের কাছে বয়স যে কোনও বাধা নয়, সেটা প্রমাণ করলেন ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবার বাসিন্দা ৯৫ বছরের প্রমীলা বেজ। প্রতিষেধক দান কেন্দ্রে গিয়ে করোনার প্রতিষেধক নিলেন নবতিপর এক ওই বৃদ্ধা। সোমবার সকালে ছোট ছেলে ও নাতির সঙ্গে টোটোয় চেপে ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবা কমিউনিটি হলে গিয়ে প্রতিষেধক নিয়েছেন প্রমীলা।

তাঁর ছোটছেলে অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মী জহরলাল বেজ বলেন, ‘‘মা হাঁটাচলা করতে পারে‌ন ঠিকই, তবে কানে খুবই কম শোনেন। দৃষ্টিশক্তিও ক্ষীণ। প্রতিষেধক নেওয়ার পরে সুস্থই রয়েছেন।’’ প্রমীলার নাতি পেশায় শিক্ষক মানস বেজ বলেন, ঠাকুমার বয়স ৯৫। কিন্তু মনের অসম্ভব জোর। প্রতিষেধক নিতে যেতে পারবেন কিনা সে ব্যাপারে আমরা সংশয়ে ছিলাম। কিন্তু ঠাকুমা প্রমাণ করেছেন যে বয়স কোনও বাধা নয়।”

ফেসবুকে প্রমীলার প্রতিষেধক নেওয়ার ছবি পোস্ট করে তাঁর নাতি মানস বেজ লিখেছেন, “আজ বাবা ও আমি আমার ঠাকুমাকে ভ্যাকসিন দিতে নিয়ে গেছলাম। ঠাকুমার বয়স প্রায় ৯৫ এর কাছাকাছি। ঠাকুমার নাতিরও নাতনি আছে, মানে পাঁচ প্রজন্ম বর্তমান।”

কয়েকদিন আগে শহরের কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের প্রতিষেধক দান কেন্দ্রে টোটোয় চেপে প্রতিষেধক নিতে এসেছিলেন ১০৩ বছরের মোক্ষদা জেনা। শহরের প্রবীণা দুই নাগরিক প্রতিষেধক দান কেন্দ্রে গিয়ে প্রতিষেধক নেওয়ার ফলে আরও অনেক প্রবীণ প্রতিষেধক নিতে উৎসাহিত হচ্ছেন। ঝাড়গ্রাম পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক তুষারকান্তি সৎপথী বলেন, “দুই প্রবীণা শহরবাসীকে দেখে অন্য বয়স্করাও প্রতিষেধক নিতে এগিয়ে আসছেন। এটা খুবই অনুপ্রাণিত করার মত ঘটনা।” পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে শিবির করে বয়স্কদের প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button