ঝাড়গ্রাম

মুমূর্ষু প্রসূতির জন্য ১৭০ কিমি পথ উজিয়ে রক্ত আনলেন যুব তৃণমূল নেতা

স্বপ্নীল মজুমদার

ঝাড়গ্রাম: সঙ্কটজনক এক প্রসূতির জন্য ১৭০ কিমি পথ যাতায়াত করে রক্ত নিয়ে এলেন ঝাড়গ্রাম শহর যুব তৃণমূলের সহ সভাপতি উজ্জ্বল পাত্র। পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক উজ্জ্বল একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী।

গত বছর লকডাউনের সময় সমস্যায় পড়া মানুষের বাড়িতে নিজের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছিলেন। অসুস্থ বয়স্কদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। গরিব মানুষের জন্য গত বছর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে যুব তৃণমূলের উদ্যোগে বিনামূল্যের আনাজ বাজারে আনাজ জুগিয়েছিলেন উজ্জ্বল। এবার এক মুমূর্ষু প্রসূতির প্রাণ বাঁচলেন তিনি।

প্রসবের পরে রক্তের প্রয়োজন ছিল এক আদিবাসী প্রসূতির। কিন্তু বুধবার ঝাড়গ্রাম ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রয়োজনীয় রক্ত ছিল না। খবর পেয়েই গাড়ি উজিয়ে প্রায় ১৭০ কিমি যাতায়াত করে রক্ত নিয়ে এলেন উজ্জ্বল। বাঁকুড়ার রাইপুরের বাসিন্দা ওই আদিবাসী মহিলাকে পরিজনরা সন্তান প্রসবের জন্য ঝাড়গ্রামের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করিয়েছিলেন।

প্রসবের পরে ‘এ পজিটিভ’ রক্তের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সে সময়ে ঝাড়গ্রাম ব্লাড ব্যাঙ্কে ‘এ পজিটিভ’ রক্ত ছিল না। জানা গেল, রক্ত না পেয়ে ওই প্রসূতির পরিজনরা বাঁকুড়া জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি রাজকুমার সিংহের দ্বারস্থ হন। রাজকুমার ফোন করে বিষয়টি জানান ঝাড়গ্রাম শহর যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক উজ্জ্বলকে।

উজ্জ্বল খবর পান নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রয়োজনীয় রক্ত রয়েছে। কালবিলম্ব না করে বাবার চার চাকা নিয়ে ৮৫ কিমি দূরের ওই ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত নিয়ে আসেন উজ্জ্বল। যাওয়া ও আসায় ১৭০ কিমি রাস্তা উজিয়ে রক্ত আনেন উজ্জ্বল। ওই প্রসূতির স্বামী বলেন, “উজ্জ্বলবাবুকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। সত্যিই উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য সৈনিক।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button