ঝাড়গ্রাম

‘ব্যাড বয়’দের করোনা-সেবায় দান আমেরিকার স্কুল পড়ুয়ার

স্বপ্নীল মজুমদার

ঝাড়গ্রাম: জন্ম আমেরিকায়। তবে শিকড় ঝাড়গ্রামে। সেই শিকড়ের টানে ঝাড়গ্রাম ব্যাড বয়েজ ফাউন্ডেশনকে নিজের হাত খরচের জমানো টাকা দান করল আমেরিকার নিউজার্সির স্কুল পড়ুয়া সাগ্নিক পৈড়্যা। নিজের ১২ তম জন্মদিনে ঝাড়গ্রাম শহরের ওই সেবামূলক সংস্থার পাশে দাঁড়িয়েছে নিউ জার্সির ক্রসরোড সাউথ মিডল স্কুলের সেভেন্থ গ্রেডের পড়ুয়া সাগ্নিক।

সাগ্নিকের বাবা সৌরভ পৈড়্যা ঝাড়গ্রামের আদি বাসিন্দা। একটি মার্কিন সংস্থার সফটঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ কর্মসূত্রে স্ত্রী সম্মিতা ও একমাত্র ছেলে সাগ্নিককে নিয়ে নিউজার্সির সাউথ ব্রান্সইউইক টাউনশিপে থাকেন।
সম্প্রতি সাগ্নিকের ৮২ বছরের দাদু আর ৭২ বছরের ঠাকুমা করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁরা ঝাড়গ্রাম শহরে থাকেন। কিন্তু ঝাড়গ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা সাগ্নিকের বাবা সৌরভ তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অসুস্থতার খবরে বিচলিত হয়ে পড়েন।

এদিকে করোনা হওয়ায় ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি। এমন সময়ে ফেসবুকে ব্যাড বয়দের সেবামূলক কাজকর্মের খোঁজ পান সৌরভ। মেসেঞ্জারে সংস্থার সভাপতি দেবাংশু পাহাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য চান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে দেবাংশু ও তাঁর সংগঠনের সদস্যরা পৌঁছে যান ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুরে ওই বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে।

প্রায় কুড়িদিন ধরে হোম আইসোলেশনে থাকা ওই প্রবীণ দম্পতির কাছে দু’বেলা খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পৌঁছে দিয়েছেন দেবাংশুরা। করোনা পরীক্ষা করিয়ে নেগেটিভ হওয়া পর্যন্ত তাঁদের পরিষেবা দেওয়ার হয়। দেবাংশুরা ওই প্রবীণ দম্পতির নিয়মিত খোঁজখবরও নিচ্ছেন।

সৌরভ বলেন, ‘‘বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়ায় খুবই চিন্তায় পড়ে যাই। দেবাংশুদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাহায্য চেয়েছিলাম। ওরা যা করেছে তার কোনও তুলনা হয় না।’’ সৌরভ জানালেন, সাগ্নিক প্রতি বছর জমানো পকেট মানি নিজের জন্মদিনে কোনও সেবামূলক সংস্থায় দান করে। এবার গত ২২ জুন নিজের ১২ তম বর্ষের জন্মদিন উপলক্ষে সাগ্নিক তার হাত খরচের জমানো ৫০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩৭০০ টাকা) ব্যাড বয়েজ ফাউন্ডেশনকে দিয়েছে।

সাগ্নিকের কথায়, ‘‘ঝাড়গ্রামের ব্যাড বয় কাকুরা আমার দাদু-ঠাম্মির জন্য যা করেছেন, তার বিনিময়ে এই সাহায্য দান খুবই নগন্য।”

ঝাড়গ্রাম ব্যাড বয়েজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি দেবাংশু পাহাড়ি বলেন, ‘‘সাগ্নিকের পাঠানো সাহায্য পেয়ে আমরা দারুণ অভিভূত ও অনুপ্রাণিত। ওর ইচ্ছে অনুযায়ী করোনা আক্রান্তদের পরিষেবা দানের কাজেই ওই টাকা খরচ করা হবে।’’

আরও পড়ুন ::

Back to top button