ক্রিকেট

ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাণ্ডবে উড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

রাসেল ঝড়ের পর ম্যাকয় ও ওয়ালশের বোলিং তাণ্ডবে অস্ট্রেলিয়াকে নাস্তানুবুদ করে ছেড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মার্শের ঝড়ো ফিফটির পরও ১৮ রানে হেরে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

শুক্রবার রাতে আগে ব্যাটিং করে আন্দ্রে রাসেলের তাণ্ডুবে অর্ধশতকে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে উইন্ডিজ। জবাবে ম্যাথু ওয়েড ও মিচেল মার্শের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পেলেও ৪ ওভার বাকি থাকতেই মাত্র ১২৭ রান তুলে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। যাতে ক্যারিবীয়রা পেয়েছে ১৮ রানের অবিশ্বাস্য জয়।

এর আগে সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। পরিকল্পনা মতোই স্বাগতিকদের চেপে ধরে অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ারপ্লেতে রীতিমত ধ্বংসযজ্ঞ চালান জশ হ্যাজলউড। ৩ ওভার বোলিং করে ১ মেডেনসহ মাত্র ৩ রান খরচ করে নেন ২টি উইকেট। এভিন লুইস ২ বলে শূন্য, ক্রিস গেইল ১০ বলে ৪ রান করে শিকার হন অজি ডানহাতি পেসারের।

অপরপ্রান্তে ২টি করে চার ও ছক্কায় ২৮ বলে ২৭ রান করা লেন্ডল সিমন্সকে মিচেল মার্শ আউট করলে ৩৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিছুক্ষণ পরেই ১৬ বলে ১৭ রান করে জশ ফিলিপের রান আউটের ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন পোলার্ডের অনুপস্থিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া নিকোলাস পুরান। যাতে মাত্র ৬৫ রানেই চতুর্থ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

এ অবস্থায় ২৫ বলে ২০ রানের আরেক ধীরগতির ইনিংস খেলে মার্শের দ্বিতীয় শিকার হন শিমরন হেটমায়ার। তবে এমন চাপের মুখে নেমে বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রাসেল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম অর্ধশতক হাঁকান এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। ২৬ বলে ৫০ রান স্পর্শ করেন তিনি। ২৮ বলে ৫১ রান করে হ্যাজলউডের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন রাসেল। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায়।

ছক্কা মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শেষ করেন ডোয়াইন ব্রাভো। যার ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬টি উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা পায় ১৪৫ রানের সংগ্রহ। হ্যাজলউড ১৪ রানের বিনিময়ে ৩টি ও মার্শ ২৬ রানের বিনিময়ে নেন ২টি উইকেট।

জবাব দিতে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই অধিনায়ক ফিঞ্চকে (৪) হারালেও দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ম্যাথু ওয়েড। তার বিংধ্বসী সূচনার অপমৃত্যু ঘটে রাসেলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে থার্ড ম্যানে তালুবন্দী হয়ে। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ১৩ বলে ৩৩ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর জশ ফিলিপে ৪ বলে ১ রান করে ফিরলেও ময়সেস হেনরিকস নেমেই প্রথম দুই বলেই হাঁকান টানা দুটি ছক্কা। যাতে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ করে ফেলে ৭০টি রান।

এ অবস্থায় ওয়েডের ধারাকে ধরে রাখেন মিচেল মার্শ। তিনিও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক হাঁকান এদিন। ২৯ বলে অর্ধশতক পূরণ করে মার্শ ফেরেন ৩১ বলে ৫১ রান করে লেগ স্পিনার হেইডেন ওয়ালশের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার দখলেই ছিল। কেননা, ৬টি উইকেট হারালেও তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৫ বলে ৩৮টি রান।

অজিদের এমন সহজ সমীকরণের মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে ফেরান লেগ স্পিনার হেইডেন ওয়ালশ ও নিজের প্রথম ওভারে ১৭ রান খরচ করা পেসার ওবেড ম্যাকয়। টানা চার ওভারে অজিদের শেষ চার উইকেট তুলে নিয়ে দলকে এক অবিশ্বাস্য জয় উপহার দেন ওয়ালশ ও ম্যাকয়। ১৬ ওভারেই ১২৭ রানে অলআউট হয় ফিঞ্চের দল।

ম্যাচ সেরা ম্যাকয় শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট। আর ওয়ালশ ২৩ রানে নেন ৩টি। এছাড়া ফ্যাবিয়েন অ্যালেন ২৪ রানে ২টি ও আন্দ্রে রাসেল নেন এক ওভারে ১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট। এই জয়ে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আরও পড়ুন ::

Back to top button