জাতীয়

রায়পুরে দেশদ্রোহিতার মামলায় IPS অফিসারের বিরুদ্ধে

আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির মামলায় এক সপ্তাহ আগেই সাসপেন্ড হয়েছিলেন আইপিএস অফিসার জি পি সিং। এবার তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা আনল ছত্তিসগড় পুলিশ। শুক্রবার পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে রাজ্যের অ্যান্টি করাপশান ব্যুরো ও ইকনমিক অফেন্সেস উইং-এর অফিসাররা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি করেন। বাড়িতে যে নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে প্রমাণিত হয়, ওই আইপিএস অফিসার সরকার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

জি পি সিং-এর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪-এ (দেশদ্রোহিতা) ও ১৫৩-এ (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করার চেষ্টা), এই দুই ধারায় মামলা করা হয়েছে। রায়পুরের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ অজয় যাদব জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রায়পুরের সিটি কোতোয়ালি থানায় জি পি সিং-এর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

গত ১ থেকে ৩ জুলাই জি পি সিং-এর বাড়ি, অফিস সহ মোট ১৫ টি জায়গায় তল্লাশি চালায় অ্যান্টি করাপশান ব্যুরো ও ইকনমিক অফেন্সেস উইং। তাতে মোট ১০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ পাওয়া যায়। ১৯৯৪ সালের ব্যাচের আইপিএস অফিসার জি পি সিং একসময় অ্যান্টি করাপশান ব্যুরো ও ইকনমিক অফেন্সেস উইং-এর এডিজি ছিলেন। পরে তিনি পুলিশ অ্যাকাডেমির ডায়রেক্টর হন।

গত ৫ জুলাই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। এফআইআরে বলা হয়েছে, রায়পুরে পেনসন বড়া অঞ্চলে জি পি সিং-এর বাড়ির পেছন দিকে কিছু ছেঁড়া কাগজ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছেঁড়া অংশগুলি সাজিয়ে দেখা যায়, কাগজে আপত্তিকর বিষয়ে লেখা হয়েছিল। পরে বলা হয়েছে, ‘ওই কাগজে কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল।

সেই সঙ্গে বিস্তারিত লেখা হয়েছিল, কীভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কার্যকর করা হবে। বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্র সম্পর্কেও কাগজে নিন্দাসূচক কিছু লেখা ছিল। কয়েকটি সরকারি প্রকল্প, সরকারের নীতি, নানা পলিসি ও ধর্মীয় বিষয়েও আপত্তিকর কথা লেখা হয়েছিল।

অভিযুক্ত আইপিএস অফিসারের ঘনিষ্ঠ মণিভূষণ সিং নামে এক ব্যক্তির বাড়িতেও তল্লাশি করা হয়। সেখানেও পাঁচ পাতার একটি নথি পাওয়া যায়। তাতে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, সরকারি অফিসার ও সরকারি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য লেখা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ওই নথিগুলি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মনে ঘৃণা জাগিয়ে তুলতে পারে।

সূত্র : দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button