অপরাধবর্ধমান

ছেলের ঘরে না থাকার সুযোগে বউমাকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার শ্বশুর

কাজের সূত্রে ছেলে থাকে ভিনরাজ্যে। তাই রাতে একা ঘরে শুতে মন চাইত না ছেলের বউয়ের। তাই চলে যেত সে শ্বশুরের ঘরে। তা তো পাড়ার লোকে মুখ মুখে ফিরত কথা, ‘ছেলে নেই ঘরে, ছেলের বউ এখন শোয় শ্বশুরের ঘরে।’ তা শুতেই পারে। এমনই চলছিল। কিন্তু সেই ছেলের বউই এখন কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে। বলছে কিনা রাতের বেলা শ্বশুরমশাই ঝাঁপ দিয়েছে ঘাড়ে। একা পেয়ে লুটেপুটে খেয়েছে তাকে। ব্যাস আর যায় কোথায়।

বউমাকে ধর্ষণের অভিযোগ শ্বশুরের এখন পুলিশের হেফাজতে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা থানার সাতগেছিয়া এলাকায়। অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম পরিমল সরকার। জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী গৃহবধূর বাড়ি কালনা সাতগাছিয়া মালোপাড়া এলাকায়। বহুদিন ধরেই তাঁর স্বামী কাজের জন্য বাইরে থাকেন।

পরিবারে শ্বশুর ও দুই নাবালক সন্তান নিয়ে থাকতেন মহিলা। মহিলার অভিযোগ, দিন দশেক আগে রাতে বাথরুমে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। সেই সুযোগেই তাঁর ঘরে ঢুকে বসেছিলেন শ্বশুরমশাই। তিনি ঘরে ফিরে দরজা দিতেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন পরিমল। মহিলা কিছু বলার আগেই পরিমল জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

যদিও পাড়ার লোকের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি ওই মহিলার সঙ্গে ওনার শ্বশুরমশাইয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ছেলে বাড়িতে না থাকার সুবাদে। এখন ছেলের কানেও কথা গিয়েছে। নিজেদের সেই কেচ্ছা ঢাকতে এখন ধর্ষণের গপ্পো বানাচ্ছে।

যদিও মহিলার বাপের বাড়র সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পর ওই মহিলাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দিয়েছিল পরিমল। ছেলে বা বাড়ির অন্যান্য কাউকে এই ঘটনার কথা বললে মহিলার সন্তানদের ক্ষতি করার হুমকিও দিয়েছিল সে। সন্তানদের খাতিরে তাই চুপ করে ছিলেন মহিলা। কিন্তু পরে বাপের বাড়ির সকলকে সব কথা জানান।

মহিলার বাপের বাড়ির লোকজনই তাঁকে পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সাহস জোগান তাঁরা। পরিবারের কথাতেই শ্বশুরের বিরুদ্ধে কালনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন গৃহবধূ। অভিযোগের কথা জানতে পেরেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল পরিমল সরকার। কালনা পুলিশ তদন্তে নেমে এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় পরিমলকে পাকড়াও করে। এখন এলাকার মানুষ তাই ভিন্ন সুরে ছড়া কেটেছে। ‘ছেলে নেই ঘরে, বউকে তাই শুতে হত শ্বশুরের ঘরে।’

সূত্র : এই মুহুর্তে

আরও পড়ুন ::

Back to top button