ঝাড়গ্রাম

সাঁওতালি রেডিয়ো নাটকের প্রাক্তন অভিনেত্রী কনকলতার দিন কাটে স্মৃতিযাপনে

স্বপ্নীল মজুমদার

এক সময়ে আকাশবাণী কলকাতার সাঁওতালি আখড়া মুখরিত হত তাঁর গানে। সাঁওতালি রেডিয়ো নাটকেও সমান জনপ্রিয় ছিলেন কনকলতা মাণ্ডি। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারি স্তরে কোনও সম্মান বা স্বীকৃতি পাননি বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী। সত্তরোর্ধ্ব কনকলতা এখন থাকেন ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুরের চুয়াশুলি গ্রামের বাড়িতে। তাঁর স্বামী প্রয়াত নবীনচন্দ্র মাণ্ডি ছিলেন কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের কর্মী।

নবীনচন্দ্র সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতি আন্দোলনেরও একজন পথিকৃৎ ছিলেন। নবীনের মতো আদিবাসী বিশিষ্টজনের আন্দোলনের ফলশ্রুতি হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে আকাশবাণী কলকাতায় দৈনিক সাঁওতালি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার শুরু হয়। ওই সময় থেকে প্রায় দু’দশক ধরে বহু সাঁওতালি রেডিয়ো নাটকে অভিনয় করেছেন কনকলতা। তাঁর গাওয়া সাঁওতালি প্রচলিত সঙ্গীতও রেডিয়োয় সম্প্রচার হয়েছে।

১৯৯৬ সালে স্বামী অবসর নেওয়ার পরে কনকলতাও ফিরে আসেন গ্রামের বাড়িতে। প্রচারবিমুখ কনকলতার এখন দিন কাটে স্মৃতিযাপনে। রেডিয়োর সাঁওতালি আখড়ার অবসরপ্রাপ্ত ঘোষক রাবণ বাস্কে জানান, ওই সময়ে মূলত নানা বিষয়ে সচেতনতামূলক নাটক সম্প্রচারিত হত। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে কনকলতার সাবলীল অভিনয়ে মুগ্ধ শ্রোতাদের বহু চিঠি আসত দফতরে।

কনকলতা বলেন, ‘‘ওই সময়ে আদিবাসী পরিবারের মেয়েরা রেডিয়ো স্টেশনে গিয়ে অভিনয় করতে চাইতেন না। তাই স্বামীর উৎসাহে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে বহু নাটকে শ্রুতি অভিনয় করেছি। গানের অনুষ্ঠানও করেছি। এখন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও খুব ভাল কাজ করছেন।’’

আরও পড়ুন ::

Back to top button