কলকাতা

দিদি থেকে ‘‌মা মমতা’‌, ভারতের মানচিত্র এঁকে ২১ জুলাইয়ের আগে শোভাবাজারে অভিনব দেওয়াল লিখন

২১ জুলাইকে কেন্দ্র করে যুব তৃণমূলের নতুন প্রয়াস চোখে পড়ল উত্তর কলকাতায়। আজ, রবিবার, শোভাবাজার অঞ্চলে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি বিশাল বড় দেওয়ালে আঁকা হয়েছে ভারতের মানচিত্র। তাতে ভারতের যে কটি রাজ্য রয়েছে, তার সব কটিতে সে রাজ্যের নিজস্ব ভাষায় লেখা রয়েছে ‘মা মমতা’। রাজনৈতিক মহলে মা বা আম্মা নামে শুধুমাত্র জনপ্রিয় ছিলেন জয়ললিতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরং বেশি জনপ্রিয় ‘দিদি’ হিসেবেই। কিন্তু এবার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের সঙ্গেও যুক্ত হল ‘মা’। যুব তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেভাবে মায়ের মতো সারা বাংলাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আঁকড়ে ধরে রেখেছেন, ঠিক সেভাবেই সারা ভারতবর্ষও চায় যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে আঁকড়ে ধরে রাখেন।

তাই আজ এই উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। বাংলার বাইরে যে এবারের একুশে জুলাইকে নিয়ে যেতে চাইছে তৃণমূল, তা আগেই জানা গিয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, ত্রিপুরায় সেসবের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে। জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে দিদির বক্তৃতা শোনানো হবে আগরতলা থেকে অমৃতসর। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ ভারতের দেওয়ালেও ইতিমধ্যেই ছাপ রেখেছে তৃণমূল।

তামিলনাড়ুর দেওয়ালে আম্মা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তামিল ভাষাতেই লেখা হয়েছে একুশের প্রচার। তামিল রাজনীতিতে আম্মা অতি পরিচিত নাম। জয়ললিতাকে মা অর্থাত্‍ আম্মা বলেই সম্বোধন করত তামিল জনতা। কার্যত আম্মা-আবেগেই তামিলনাড়ুর মসনদ ছিল এআইএডিএমকে-র দখলে। কিন্তু তিনি চোখ বুজতেই তাঁর দলে শুরু হয়ে যায় গোষ্ঠী কোন্দল।

পনির সেলভম, পালানিস্বামী, শশীকলার লড়াইয়ে বিদীর্ণ জয়ললিতার দলকে এবার ক্ষমতা থেকে সরতে হয়েছে। দেখা গেল সেই রাজ্যেই নতুন আম্মা হিসেবে দেওয়ালে আঁকা হয়েছে মমতার ছবি। এবার উত্তর কলকাতায় দেখা গেল তেমনই চিত্র। দলীয় যুব কর্মীরা দাবি করছেন, মোদীর বিকল্প হিসেবে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আছেন, যিনি সারা ভারতবর্ষকে ভাল রাখতে পারেন।

তাই ১২ ফুট বাই ১৬ ফুট চওড়া দেওয়ালে ভারতবর্ষের মানচিত্র এঁকে তার প্রতিটি রাজ্যের ভিন্ন ভাষায় তাঁরা লিখলেন মা মমতা। কয়েক মাস আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরেই জানিয়েছিলেন, দেশের কোণায় কোণায় দলকে পৌঁছে দেওয়া তাঁর লক্ষ্য। এও জানিয়েছিলেন , যে যে রাজ্যে তৃণমূল ইউনিট খুলবে সেখানে সেখানে সরকার গড়ার জন্যই ঝাঁপাবে।

চারটে-পাঁচটা বিধায়ক জেতার জন্য নয়। তখনই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তৃণমূল প্রথম টার্গেট কী? ত্রিপুরা? জবাবে অভিষেক বলেছিলেন, নির্দিষ্ট পরিকল্পনার পরেই তিনি তা জানাবেন। সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফে এখনও তেমন কোনও পরিকল্পনা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তবে একুশের একুশে জুলাইকে কার্যত জাতীয় স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিল তৃণমূল।

সূত্র : দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button