ঝাড়গ্রাম

উল্টোরথে মন্দিরে ফিরলেন লালগড়ের মদনমোহন

স্বপ্নীল মজুমদার

ঝাড়গ্রাম: করোনা-ত্রাসে তিনশো বছরের ঐতিহ্যে ছন্দপতন হয়েছিল গতবছর। লালগড় রাজ পরিবারের কুলদেবতা মদনমোহন এবারও হাটচালায় মাসির বাড়িতে যেতে পারেননি। তাই রথযাত্রার দিনে রাধামোহন ও শ্রীমতী এবং পার্শ্বদেবদেবীদের আনুষ্ঠানিক রথে চাপিয়ে বিশেষ পুজোর পরে মন্দির চত্বরে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অস্থায়ী মাসির বাড়ি করে রাখা হয়েছিল।

মঙ্গলবার উল্টোরথের দিন ফের আনুষ্ঠানিক রথে বিগ্রহদের চাপিয়ে পূজার্চনা হল। এদিনই নিজের মন্দিরে ফিরলেন রাধামোহন। রথের চাকা না গড়ালেও লালগড় রাজ পরিবারের তিনশো বছরের ঐতিহ্য মেনে উল্টোরথে রাধামোহন, শ্রীমতী ও পার্শ্বদেবদেবীর বিশেষ অর্চনা ও দেবসেবা হল সাবেক রীতি মেনে।

তবে গত বছরের মতো এবারও রথের দিনে ও উল্টোরথের দিনে মন্দিরে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল না। রাধামোহন ও শ্রীমতী এবং জগন্নাথের জন্য আতপ চালের অন্নভোগ দেওয়া হয় এদিন। গোবিন্দজিউ, গোপীনাথ জিউ, সাক্ষীগোপাল, ধাম গৌরাঙ্গের মতো পার্শ্বদেবতাদের সিদ্ধচালের অন্ন ভোগ হয়।

এদিন সকালে অস্থায়ী মাসি মন্দিরে মঙ্গলারতির পরে রাধামোহনকে চিঁড়ে, দুধ, আখের গুড়, ফল ও মিষ্টির ‘বাল্যভোগ’ দেওয়া হয়েছিল। দুপুরে অন্ন ও পঞ্চব্যঞ্জন ভোগের পরে বিকেলে ফলার ভোগ সেরে রাধামোহন ও শ্রীমতী এবং পার্শ্বদেবতাদের সুসজ্জিতভাবে রথে তোলা হয়।

নৈবেদ্য সাজিয়ে বিশেষ পুজোর পরে সেবাইতরা দেবতাদের মাথায় করে মন্দিরে নিয়ে যান। লালগড় রাজ পরিবারের রথের নায়ক কিন্তু জগন্নাথ নন। এখানে রাজ পরিবারের কুলদেবতা কষ্টি পাথরের রাধামোহন এবং অষ্ট ধাতুর শ্রীমতীই হলেন মূল আকর্ষণ।

তাঁদের সঙ্গে যে পার্শ্ব দেবদেবীদের রথে তোলা হয় তাঁদের অন্যতম হলেন জগন্নাথ।

আরও পড়ুন ::

Back to top button