রাজনীতি

সংসদে ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে আলোচনা না হলে অধিবেশন চলতে দেব না,কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি ডেরেক-মহুয়ার

পেগাসাস ইস্যুতে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে ফোনে আড়ি পাতার বিষয়টি সামনে আসায় তুমুল হই হট্টগোল শুরু হয়েছিল। মুলতুবি হয়ে গিয়েছিল সংসদের অধিবেশন। আজ মঙ্গলবার ফের সেই একই ইস্যুতে সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের দুই সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্র ফোনে আড়ি পাতার বিষয়টি নিয়ে একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারকে।

গুচ্ছ প্রশ্ন তুলে জানিয়ে দিয়েছেন পেগাসাসের ব্যাপারে খোলাখুলি আলোচনা না হলে তাঁরা সংসদ চলতে দেবেন না। রবিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ফোনে আড়ি পাতার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় দেশ। ইজরায়েলি নজরদারি সংস্থা এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়ার দেশের তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী সহ তিনশোরও বেশি ফোনে আড়ি পেতে তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে বলে খবর শোনা গেছে।

সরকার ও বিরোধী পক্ষের একাধিক ব্যক্তিত্বের ফোন হ্যাক হয়েছে বলেও জানা গেছে। সেই তালিকায় রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের নামও পাওয়া গিয়েছে। তারপর থেকেই আশঙ্কা করা হয়েছিল এই বিতর্কের জল বহুদূর অবধি গড়াবে। আর হলও তাই। আজ সকাল থেকেই বিরোধীদের হই হট্টগোল চলেছে সংসদ ভবনে। দিনের শুরুতে সংসদের বাইরে ধর্নাতেও বসেছিলেন তৃণমূলের সাংসদরা।

এদিন দুপুরে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, দেশের রৈজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বিরোধী পক্ষের একাধিক নেতামন্ত্রী সহ ৩০০ জনকে টার্গেট করা হয়েছে। পেগাসাস নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করুক কেন্দ্রীয় সরকার। না হলে এই বিরোধিতা চলবে। ডেরেকের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার পেগাসাস স্পাইওয়্যার কিনেছে বলে শোনা গেছে। তার অর্থ হল, কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিরোধীদের গতিবিধির ওপরে নজর রাখা হচ্ছে।

এই বিষয়টি নিয়ে কোনওভাবেই আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। সোমবার লোকসভায় সরকারের হয়ে বক্তব্য পেশ করেন নতুন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিন বৈষ্ণো। সংসদের বাইরে বিজেপির তরফে বক্তব্য পেশ করেন প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তাঁরা দু’জনেই ব্যাখ্যা করেন, ফোনে আড়ি পাতার জন্য দেশে কী আইন আছে।

কিন্তু বিরোধীরা বার বার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও দু’জনেই যে প্রশ্নের জবাব দেননি, তা হল, সরকার কি পেগাসাস স্পাইওয়ার কিনেছে? যদি কিনে থাকে, কীভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে?

আজ এই বিষয়টি নিয়ে ফের গুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কেন্দ্রীয় সরকারকে তাঁর প্রশ্ন, সরকারের কোন মন্ত্রক, দফতর বা এজেন্সি এই পেগাসাস সফটওয়্যার কিনেছে এবং কবে? এখনও কী এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনে আড়ি পাতা হচ্ছে? কতদিন ধরে এই আড়ি পাতার কাজ চলছে এবং ঠিক কী উদ্দেশ্যে? কোন আইনে সরকার ফোনে আড়ি পাতছে? কোন এজেন্সিকে এই তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? ফোনে আড়ি পেতে কী কী তথ্য সংগ্রহ করছে তারা?

ডেরেক ও মহুয়ার দাবি, পেগাসাস নিয়ে সরকার কোনও প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য, এই ব্যাপারে সরকার মুখ না খুলে বা আলোচনা না হলে, সংসদের অধিবেশন বসতে দেওয়া হবে না। তৃণমূল ইতিমধ্যেই রাজ্যসভা ও লোকসভায় মুলতুবি প্রস্তাব দিয়েছে।

সূত্র : দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button