জলপাইগুড়ি

প্রতিবেশীর গাছ থেকে লেবু চুরি! বকুনির ভয়ে ২২ কিমি পথ পাড়ি ৩ কিশোরের

প্রতিবেশীর গাছ থেকে লেবু চুরি করে খেয়েছিল তিন কিশোর। বকা খাওয়ার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় তারা। পুলিশি তৎপরতায় অবশেষে উদ্ধার করা হল তিনজনকে। ঘটনাটি জলপাইগুড়ির। জানা গিয়েছে, চুরি করে লেবু খাওয়ার পর থেকেই অনুতাপে ভুগছিল তিনজন। এরপরই তারা সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ি থেকে পালানোর।

নিজেদের মধ্যেই একজনের মামার বাড়িতে লুকানোর পরিকল্পনা করে তিন কিশোর। যেমন ভাবা তেমন কাজ। প্রায় ২২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল তারা। এ দিকে কিশোররা নিখোঁজ হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায় ধূপগুড়ি ব্লকের সাকোয়াঝোড়া দু’ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠাকুরপাট এলাকায়।

ঠিক কী হয়েছিল?

জানা গিয়েছে, তিন অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরকে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। খবর দেওয়া হয় গ্রামীণ পুলিশকে। তিন কিশোরকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে পুলিশ জানতে পারে, ওই তিনজনের বাড়ি বিন্নাগুড়ি চা বাগানের ভগৎ লাইনে।

এ দিন সকালে তারা প্রতিবেশীর গাছ থেকে লেবু চুরি করেছিল। বকুনির হাত থেকে বাঁচতে তারা প্রথমে সাত থেকে আট কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে বিন্নাগুড়ি থেকে গয়েরকাটাতে আসে। সেখান থেকে টোটোতে চেপে ১২ কিলোমিটার পেরিয়ে ঠাকুরপাটে পৌছয় তারা। এরপর ফের চার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে খুট্টিমারী এলাকায় একজনের মামার বাড়ি পৌছয়। কিন্তু সেই বাড়িতে কেউ না থাকায় ফের চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ঠাকুরপাট বাজারে আসতেই স্থানীয়রা তিনজনকে আটকায়।

বিষয়টি জানার পর গ্রামীণ পুলিশের তরফ থেকে খবর দেওয়া হয় ধূপগুড়ি থানায়। তারা ওই তিন কিশোরকে থানায় নিয়ে আসে। তারা জানায়, বুধবার সকালে বাবা-মা বাড়ি থেকে বাগানের কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর তারা প্রতিবেশীর গাছ থেকে লেবু পেড়ে তা খায়। এরপর তাদের মনে আশঙ্কা দেখা দেয় গাছের মালিক বকাঝকা করতে পারে। তাই তিনজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে খুট্টিমারির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তারা। পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে উদ্ধার হল তিনজন।

ধূপগুড়ি থানার তরফ ওই তিন শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ দিন সন্ধ্যায় তিনজনের অভিভাবক মানতি ওরাও, পঞ্চমী ওরাও এবং গেন্দ্রা ওরাও থানায় এসে পৌঁছন।

এক অভিভাবকের কথায়, ‘বাড়িতে ফিরে খোঁজাখুঁজি শুরু করার পর জানতে পারি আমাদের সন্তানরা নিখোঁজ। এরপর থানা থেকে ফোন আসলে আমরা ছুটে আসি’।

সূত্র : এই সময়

আরও পড়ুন ::

Back to top button