জাতীয়

‘‌অপারেশন ল্যাংড়া’‌, এনকাউন্টার যেন মুড়ি-মুড়কি উত্তরপ্রদেশে! এনকাউন্টারের খতিয়ান এক নজরে

‘‌অপারেশন ল্যাংড়া’‌। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এনকাউন্টারকে এই নামেই অভিহিত করা হচ্ছে। ২০১৭-র মার্চ অর্থাত্‍ যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এখনও অবধি ৩,৩০০-র বেশি দুষ্কৃতীকে এনকাউন্টারে জখম করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীদের পা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে।

১২ আগস্ট গাজিয়াবাদে আফসারাম নামক দুষ্কৃতীকে পা লক্ষ্য করে গুলি চালানোই হোক বা ৮ আগস্ট বাহরিচে মণিরাম বা ৪ আগস্ট গৌতম বুদ্ধ নগরে খুনের আসামী শচীন চৌহান বা ২২ জুন বাহরিচেই ধর্ষণে অভিযুক্ত পরশুরাম-যেই হোক না কেন, পুলিশের এনকাউন্টারে প্রত্যেকেরই পা জখম হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বেশ কিছু সিনিয়র আধিকারিক একে অপারেশন ল্যাংড়া নাম দিয়েছেন। ২০১৭ সালের মার্চে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এখনও অবধি ৮,৪৭২ এনকাউন্টার করেছে পুলিশ। তার মধ্যে অন্তত ৩,৩০২ জন দুষ্কৃতীর পা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। আর এনকাউন্টারে মৃতের সংখ্যা এখন ১৪৬। যদিও পুলিশ সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা জানাতে রাজি নয়। তবে এটা জানানো হয়েছে, এনকাউন্টারে অন্তত ১৩ জন পুলিশ কর্মী মারা গেছেন। আর ১,১৫৭ জন আহত হয়েছেন।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এডিজি (‌আইনশৃঙ্খলা)‌ প্রশান্ত কুমারের দাবি, ‘‌দুষ্কৃতীদের হত্যা করা আমাদের লক্ষ্য নয়। গ্রেপ্তারই আসল উদ্দেশ্য।’‌ অন্যায়ের সঙ্গে কোনওরকম আপস করতে রাজি নয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এডিজি-র কথায়, ‘‌এনকাউন্টারে কিছু দুষ্কৃতী যেমন মারা গেছে। তেমনই আমাদের কিছু কর্মীও মারা গেছেন।

পুলিশের পরিসংখ্যান আরও বলছে, মেরঠে ২,৮৩৯ এনকাউন্টারে ৫,২৮৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। আর মারা গেছে ৬১ জন। আহত ১,৫৪৭। দ্বিতীয় স্থানে আছে আগ্রা। সেখানে ১,৮৮৪ এনকাউন্টারে ৪,৮৭৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। ১৮ জন মারা গেছে। আহতের সংখ্যা ২১৮। তিনে বরেলি। সেখানে ১,১৭৩ এনকাউন্টারে ২,৬৪২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। সাতজন মারা গেছে। ২৯৯ জন আহত। এনকাউন্টারে সবচেয়ে বেশি পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন মেরঠে। সংখ্যাটা ৪৩৫। দুই ও তিনে যথাক্রমে বরেলি (‌২২৪)‌ ও গোরখপুর (‌১০৪)‌। আবার কানপুরে সবচেয়ে বেশি পুলিশ কর্মী মারা গেছেন এনকাউন্টারে। ২০২০ সালে বিকরু গ্রামে গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে এনকাউন্টারে অন্তত ৮ জন পুলিশ মারা যান।

সুত্র : আজকাল

আরও পড়ুন ::

Back to top button