ঝাড়গ্রাম

আসন্ন পুরভোট, বেহাল অরণ্যশহরের রাস্তা

স্বপ্নীল মজুমদার

ঝাড়গ্রাম: পুরভোট আসন্ন। ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ায় ঝাড়গ্রাম পুরভোটের নটিফিকেশন জারি হওয়ার কথা। কিন্তু ১৮টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট ঝাড়গ্রাম শহরের বেশিরভাগ রাস্তার বেহাল অবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই খন্দপথে জল জমে যায়। এর ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয় শহরবাসীকে।

পুরবাসীর অভিযোগ, শহরের রাস্তাগুলির সংস্কার করা হচ্ছে না। তিন দশকের বাম পুরবোর্ডকে ক্ষমতাচ্যূত করে ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তৃণমূলের পুরবোর্ডের আমলে শহরে বেশ কিছু রাস্তা পাকা হলেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১৮টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট ঝাড়গ্রাম শহরের আয়তন ২১ বর্গ কিলোমিটার। শহরের মোট ৩১৮ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১৩২ কিমি পাকা রাস্তা। ৪২ কিমি রাস্তা কংক্রিটের, ১১৮ কিমি রাস্তা মোরামের। শহরে মাত্র ৭৮ কিমি পাকা নর্দমা রয়েছে। বাদবাকি কাঁচা নর্দমা, অনেক রাস্তার ধারে নিকাশি নর্দমাই নেই। ফলে বৃষ্টির জল জমে রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে রাস্তার কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় কারণে বৃষ্টির জলে সহজেই পাকা রাস্তার প্রলেপ উঠে গিয়ে খানাখন্দ হয়ে গিয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তৃণমূলের ক্ষমতাসীন পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করে রাজ্য সরকার। ঝাড়গ্রামের তৎকালীন মহকুমাশাসক (সদর) সুবর্ণ রায়কে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে মহকুমাশাসককে পুর প্রশাসকের পদ থেকে সরিয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রশান্ত রায়কে পুর প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২১ সালের অগস্টে প্রশান্তকে সরিয়ে কবিতা ঘোষকে চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব দেয় রাজ্য সরকার। এখন তিনিই চেয়ার পার্সনের দায়িত্বে রয়েছেন। পুরসভা সূত্রের খবর, নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় নতুন করে রাস্তা তৈরির কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। তবে রাস্তা নিয়ে শহরবাসীর ক্ষোভের কারণে অস্বস্তিতে রয়েছে শাসক-শিবির।

যদিও শহর তৃণমূলের নেতাদের দাবি, তৃণমূলের আমলে জঙ্গলমহলে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তাতে তাঁরা চিন্তিত নন। নতুন পুরবোর্ড গঠন হলে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিরোধীরা বলছেন, খন্দপথে এবার মুখ থুবড়ে পড়বে শাসক-শিবির। এখন অপেক্ষা পুরভোটের!

আরও পড়ুন ::

Back to top button