স্বাস্থ্য

করোনা আক্রান্ত হলে কেন চলে যায় গন্ধ শোঁকার ক্ষমতা? জানালেন গবেষকরা

করোনা আক্রান্ত হলে কেন চলে যায় গন্ধ শোঁকার ক্ষমতা? জানালেন গবেষকরা - West Bengal News 24

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন? কেমন ছিল স্বাদ আর গন্ধ হারানোর সেই দিনগুলোর অভিজ্ঞতা? কভিড-১৯ রোগীদের নানান উপসর্গের মধ্যে সংক্রামিত সকলেই প্রায় গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন সাময়িকভাবে। চিকিত্সকদের পর্যবেক্ষণ, ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পরে ঘ্রাণশক্তি এবং স্বাদ গ্রহণ ক্ষমতা হারানোর প্রভাব রয়ে যেতে পারে অনেককাল। এর আগে আমাদের ঘ্রাণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যঙ্গগুলিতে ভাইরাসের প্রভাব ব্যাখ্যা করেছিলেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় কভিড-১৯ রোগীদের ঘ্রাণশক্তির ক্ষতি হওয়ার কারণগুলিকে আরও বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এনওয়াইইউ গ্রসম্যান স্কুল অফ মেডিসিন এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গবেষণা অনুসারে, সার্স ভাইরাস আমাদের শরীরের ঘ্রাণশক্তি জনিত প্রত্যঙ্গের ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এমনকী নাকের স্নায়ু কোষের পৃষ্ঠে উপস্থিত প্রোটিনগুলিকেও এই ভাইরাস প্রভাবিত করে। গন্ধের সঙ্গে যুক্ত অণুগুলিকে শনাক্ত করে এই প্রোটিন, যা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভাইরাসের আক্রমণে, বলছে গবেষণা।

আরও পড়ুন : প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ওজন কমাবেন যেভাবে

বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য গবেষকরা মানুষের বেশ কিছু টিস্যু নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন। গবেষকরা জানাচ্ছেন যে, ভাইরাসের উপস্থিতির কারণে ঘ্রাণীয় টিস্যুতে স্নায়ু কোষের কাছে ইমিউন কোষ, টি কোষ এবং মাইক্রোগ্লিয়ার প্রবেশ লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকরা আরও দাবি করেছেন যে, এই কোষগুলি সাইটোকিনস নামে একটি প্রোটিন নিঃসরণ করে, যা ঘ্রাণজনিত স্নায়ু কোষের জেনেটিক কার্যকলাপকে পরিবর্তন করে।

পরীক্ষায় জানা গিয়েছে যে, সার্স-কোভ২ সংক্রমণ ঘ্রাণজনিত রিসেপ্টর তৈরির সঙ্গে যুক্ত ক্রোমোজোমের ডিএনএ শৃঙ্খলার ক্ষমতা হ্রাস করেছে। ইঁদুর এবং মানুষের নিউরোনাল টিস্যু দুই ক্ষেত্রেই, গবেষকরা ঘ্রাণজনিত রিসেপ্টর তৈরিতে ক্রমাগত হ্রাস লক্ষ্য করেছেন।

গন্ধ চলে যাওয়া ছাড়াও, ভাইরাসের অন্যান্য বিভিন্ন স্নায়বিক প্রভাব যেমন মাথাব্যথা, বিষণ্ণতা এবং মস্তিষ্কের নানা জটিলতার বিষয় বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকরা। গবেষক চিকিৎসক বেঞ্জামিন টেনওভার জানিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গন্ধ চলে যাওয়া হিসেবে কাজ করতে পারে এবং মস্তিষ্কের টিস্যুর ক্ষতি ঘটাতে পারে।

মন্তব্য করুন ..

আরও পড়ুন ::

Back to top button