ঝাড়গ্রাম

সন্তান প্রসবের ৩৬ ঘন্টা পরে হাসপাতালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন প্রিয়াঙ্কা

স্বপ্নীল মজুমদার

ঝাড়গ্রাম: মনের জোর থাকলে অসম্ভবকে যে সম্ভব করা যায় সেটা প্রমাণ করলেন বছর ঊনিশের প্রিয়াঙ্কা চালক মণ্ডল। সন্তান প্রসবের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উচ্চ মাধ্যমিকের এডুকেশন পরীক্ষা দিলেন ওই তরুণী।

লালগড়ের বৈতা অঞ্চলের গুড়ি মেটাল গ্রামের বছর ঊনিশের প্রিয়াঙ্কা ঝাড়গ্রাম ব্লকের সেবায়তন উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। গত বছর বিনপুরের এঁড়েকুসুম গ্রামের রঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় প্রিয়াঙ্কার। রঞ্জন বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। অন্তঃস্বত্তা হন প্রিয়াঙ্কা। তাই গুড়ি মেটাল গ্রামে মায়ের বাড়িতে ছিলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার প্রিয়াঙ্কার প্রসব বেদনা ওঠে। ওই দিনই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। বুধবার রাতে পুত্রসন্তান প্রসব করেন প্রিয়াঙ্কা। শুক্রবার ছিল এডুকেশন পরীক্ষা। হাসপাতালে পরীক্ষা দিতে চেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে তিনি।

সেই মতো হাসপাতালের শয্যায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। প্রিয়াঙ্কা নিজের স্কুলে হোম ভেনুতে আগের পরীক্ষাগুলি দিয়েছেন। বছর তিনেক আগে প্রিয়াঙ্কার বাবা প্রয়াত হয়েছেন। প্রিয়াঙ্কার মা রূপা চালক পেশায় শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা।

তিনি বলেন, ‘‘উচ্চশিক্ষার শর্তে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। ওকে কলেজেও পড়াব।’’ ছেলে কোলে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘‘এদিন পরীক্ষা ভাল দিয়েছি। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছি। আগামী ২৬ এপ্রিল স্কুলের হোম ভেনুতেই সংস্কৃত পরীক্ষা দেব।’’

সেবায়তন উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অর্চনা করণ বলেন, ‘‘প্রিয়াঙ্কা প্রমাণ করেছে মনের জোর থাকলে ইচ্ছেপূরণ করা যায়।’’

আরও পড়ুন ::

Back to top button