ঝাড়গ্রাম

শিশুশ্রম বিরোধী বার্তা নিয়ে ঝাড়গ্রামের অমিত মাহাতোর সাইকেল যাত্রা

স্বপ্নীল মজুমদার

শিশুশ্রম বিরোধী বার্তা নিয়ে ঝাড়গ্রামের অমিত মাহাতোর সাইকেল যাত্রা

ঝাড়গ্রাম: পায়ের তলায় যাঁর সর্ষে, তাঁকে আটকাবে সাধ্যি কার! ঝাড়গ্রাম শহরের বিদ্যাসাগর পল্লীর বাসিন্দা বছর পঁচিশের অমিত মাহাতো সেই দলেই পড়েন। অরণ্যশহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস এলাকায় বাবার সঙ্গে খাবারের দোকান সামলান অমিত। তবে তাঁর নেশা সাইকেল। সময় পেলেই সাইকেলে চড়ে বেরিয়ে পড়েন এ দিক সে দিক।

শহরে গত বছর গড়ে উঠেছে সাইকেল রাইডার্স গ্রুপ। সেই গোষ্ঠীর সদস্য অমিত। গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে দীঘা, খড়গপুর, এমনকি ওড়িশা ঘুরে এসেছেন। তবে এবার একেবারেই একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে একাই সাইকেলে ঝাড়গ্রাম থেকে ৭২৩ কিলোমিটার পথ উজিয়ে দার্জিলিং-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন তিনি। রবিবার ছিল আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম বিরোধী দিবস।

এই দিনে শিশুদের অধিকারের দাবিতে ও শিশুশ্রম বন্ধ করার বার্তা নিয়ে সাইকেলে ভ্রমণ কর্মসূচি শুরু করলেন অমিত। এদিন সাত সকালে বাবা অজিত মাহাতো ও মা লীলাবতী মাহাতোর আশীর্বাদ নিয়ে বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বের হন অমিত। শহরের বংশী মোড় এলাকায় ফুলের স্তবক দিয়ে অমিতকে শুভেচ্ছা জানান ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুর-কাউন্সিলর গৌতম মাহাতো। গৌতমবাবুর কথায়, “একটি মহৎ বার্তা নিয়ে অমিত সাইকেল যাত্রা শুরু করেছেন।

শিশুশ্রম বিরোধী বার্তা নিয়ে ঝাড়গ্রামের অমিত মাহাতোর সাইকেল যাত্রা

দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা হয়ে ৭২৩ কিলোমিটার পথ উজিয়ে দার্জিলিঙে যাবেন অমিত।” অমিত নিজেও জানাচ্ছেন, যাওয়া-আসা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চোদ্দশ কিলোমিটার পথ সাইকেলে অতিক্রম করবেন তিনি। অমিতের সাইকেল যাত্রার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঝাড়গ্রামের বিধায়ক তথা বন ও ক্রেতা সুরক্ষা প্রতিমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। তিনি বলছেন, “খুবই ভাল উদ্যোগ। ঝাড়গ্রাম থেকে দার্জিলিং গিয়ে অমিত একটি মহৎ বার্তা পৌঁছে দেবেন ভেবেই ভাল লাগছে। অমিতকে অনেক শুভেচ্ছা।”

অমিতের বাবা অজিত মাহাতো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস এলাকায় ‘নবান্ন’ নামে একটি খাবার দোকান চালান। সেই দোকানে নানা ধরনের জলখাবার, চা-কফি পাওয়া যায়। অমিত প্রতিদিন দোকানে বসেন। বাবাকে সাহায্য করেন। অমিত ঝাড়গ্রাম কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তনী। আগামী বছর স্কুলের শতবর্ষ। অমিত বলছেন, “আমার সীমিত সামর্থ্যে স্কুলকে সাহায্য করার মত তো কিছু নেই। তবে শ্রম বিরোধী বার্তা নিয়ে রাজ্য সফর করে আমি নিজের স্কুলের নাম গৌরবান্বিত করতে চাই। স্কুলের শতবর্ষের এটাই আমার স্কুলের প্রতি ভালোবাসা ও উপহার।

কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত বলছেন, “শতবর্ষের স্কুলের কয়েক হাজার কৃতী প্রাক্তনীর মধ্যে অমিতও একজন। অমিতের দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য আমরা খুবই গর্বিত।”

রবিবার সকালে ঝাড়গ্রাম থেকে সাইকেলে রওনা দিয়ে রাতে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে পৌঁছন অমিত। ফোনে জানালেন, “শরীর ক্লান্ত লাগছে, তবে মন ফুরফুরে। এখনও অনেক পথ যেতে হবে। যেখানেই শিশুশ্রমিক দেখব, তাদের বোঝাবো, তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। পড়াশোনা করো। এগিয়ে যাও। যাঁরা শিশু শ্রমিক নিয়োগ করেছেন করজোড়ে তাঁদের কাছে অনুরোধ করব, শিশুদের দিয়ে শ্রমসাধ্য কাজ করাবেন না। ওদের পড়াশোনা করতে দিন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিন।”

মন্তব্য করুন ..

আরও পড়ুন ::

Back to top button